আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই জেলায় আম ঘিরে চলে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারের মধ্যে কানসাট আমবাজারকে বলা হয় দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি আমের বাজার। মৌসুমে প্রতিদিন এখানে বিক্রি হয় অন্তত ২০ কোটি টাকার আম।
মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসেও কানসাট আমবাজার জমজমাট। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে আম কেনাবেচার মহোৎসব। তবে চলতি মৌসুমে আমের নায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে দাবি চাষিদের।
কানসাট আব্বাস বাজার এলাকার আমচাষি আতিকুর রহমান মিলন বলেন, কানসাট আম বাজারে এখনো প্রতিদিন ব্যাপক আম আসে। বিক্রিও হচ্ছে। সকাল হলেই বাজারের আশপাশ আমের ভ্যানে ভর্তি হয়ে যায়। এবার আমার ২ বিঘা জমিতে আশ্বিনা জাতের আম ছিল। কিন্তু দাম পেলাম না। যে দামে আম বিক্রি হচ্ছে এই টাকা দিয়ে উৎপাদন খরচ উঠছে না। আমরা কীটনাশকের দোকানে টাকা দিতে পারছি না।
শ্যামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আরিফ আলি জানান, কানসাট বাজারে এসেছি কাটিমন জাতের আম নিয়ে। বিক্রি করলাম ৪ হাজার টাকা মণ। কিন্তু এসব আমের মণ প্রতি খরচ আছে সাড়ে তিন হাজার টাকার বেশি। এভাবে আম বিক্রি করে লাভ হবে না। তবে এখনো কানসাট বাজারে দুই মাস আম পাওয়া যাবে।
আমচাষি এনামুল হক বলেন, যে দামে কানসাট বাজারে আশ্বিনা জাতের আম বিক্রি হচ্ছে এর চেয়ে বেশি আম উৎপাদনে খরচ হয়েছে। আমরা লাভবান হতে পারছি না। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে আমের গাছ কেটে অন্য ফসল চাষ করতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব বলেন, এখনো কানসাট বাজারে ভরপুর আম আম বেচাকেনা চলছে। তবে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আমের দাম কমে এসেছে। তাই চাষিদের বাঁচাতে সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসীন আলী বলেন, আমের আমদানি বেশি, তাই দাম পচ্ছেন না চাষিরা। আমের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে অন্য ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে কানসাট আম বাজারে আশ্বিনা আম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪-৫ হাজার টাকা মণ, কাটিমন ৫-৬ হাজার ও গৌড়মতি ৬-৭ হাজার টাকা মণ দরে।
চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টন। যার বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা।





মন্তব্য
(০)