# ৯০ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন# ৬০ হাজার ৪২৭ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন# প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকা
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এবার আমন ধান উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার কৃষকেরা প্রায় ১৫ দিন আগে ধান ঘরে তুলেছেন। অনেকে বাজারেও বিক্রি করেছেন। এবার উৎপাদিত আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৯ হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে ৯০ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন বেশি। চালের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৯ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে ৬০ হাজার ৪২৭ মেট্রিক টন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৭৭ মেট্রিক টন বেশি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ১৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, ওচমানপুর, ইছাখালী, কাটাছড়া, দুর্গাপুর, মিরসরাই সদর, মিঠানালা, মঘাদিয়া, খৈয়াছড়া, মায়ানী, হাইতকান্দি, ওয়াহেদপুর ও সাহেরখালী ইউনিয়নে আমনের আবাদ করা হয়। সবচেয়ে বেশি ইছাখালী ইউনিয়নে ৯৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা প্রতি মণ চিকন ধান বিক্রি করছেন ১৪০০ টাকা। মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ১২৮০ থেকে ১৩০০ টাকায়। সে হিসেবে প্রতি কেজি চিকন ধান ৪৯-জাতের দাম পড়েছে ৩৫ টাকা। মোটা ধান প্রতি কেজি দাম পড়েছে ৩০-৩২ টাকা। বড় বড় পাইকারেরা এখান থেকে ধান কিনে দেশের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যান। আবার অনেক পাইকার কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান কিনে থাকেন।
আরও পড়ুন: শীতে ধানের বীজতলার যত্ন নেওয়ার উপায়
উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের সমিতি বাজারের কৃষক কেফায়েত উল্লাহ বলেন, 'এবার আমি প্রায় ১ একর জমিতে আমন চাষ করেছি। ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হলে এবং ঘূর্ণিঝড়ের ধকল না গেলে আরও বেশি ধান উৎপাদন হতো।'
মধ্যম ওয়াহেদপুরের কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, 'এবার প্রতি মণ ধান ১৪০০ টাকা বিক্রি করছি। তবে ধান উৎপাদন কম হওয়ায় লাভ হচ্ছে না। দাম ঠিক আছে। তবে লোকসানও হবে না।'
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ার পরও আমন চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। যদি ঠিক সময়ে পানি পাওয়া যেত, তাহলে আরও বেশি চাষ করা সম্ভব ছিল। উপজেলাজুড়ে ১৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের, ২০০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও ১০৫০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অনুমোদন পেলো নতুন দুই ধানের জাত
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, 'চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ধান বেশি উৎপাদন হয়েছে। চাল উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৭৭ মেট্রিক টন বেশি। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় বেশিরভাগ জমিতে চাষ হয়েছে মৌসুমের শেষ দিকে। তারপরও ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কৃষকেরাও ভালো দাম পাচ্ছেন।'
এম মাঈন উদ্দিন/এসইউ/এমএস





মন্তব্য
(০)