যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধখামারে রোবটিক দোহন ছড়িয়ে পড়ছে, আর সবচেয়ে দ্রুত গ্রহণ করছে সবচেয়ে ছোট বা সবচেয়ে বড় নয়, মাঝারি আকারের খামারগুলো। ইউএসডিএর ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ERS) প্রকাশিত এক চার্ট অব নোটে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রোবটিক পদ্ধতিতে প্রতিটি গাভি নিজে বাক্সের মতো একটি স্টলে ঢোকে, কোনো মানুষের হাত ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দোহন হয় এবং পালে ফিরে যায়। ERS জানিয়েছে, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ শতাংশ দুধ রোবটে উৎপাদিত হয়েছে, যা ২০১৬ সালে ছিল ৪ শতাংশ।
খামারের আকারভেদে গ্রহণের হারে বড় পার্থক্য আছে, আর সেই ধরনও বদলেছে। ২০১৬ সালে অন্যান্য প্রযুক্তির মতোই ছোট খামারের চেয়ে বড় খামারে রোবটিক দোহনের হার ধারাবাহিকভাবে বেশি ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি গ্রহণ দেখা গেছে মাঝারি খামারে: ১৫০ থেকে ৪৯৯ গাভির দুগ্ধখামারের ১৩ শতাংশ রোবটিক দোহন ব্যবহার করছে।
আকারের দুই প্রান্তে কেন গ্রহণ পিছিয়ে, তা খতিয়ে দেখেছেন ERS-এর গবেষকেরা। ৫০টির কম গাভির সবচেয়ে ছোট খামারগুলো তথ্য অনুযায়ী বেতনভুক্ত শ্রমিকের চেয়ে পরিবারের অবৈতনিক শ্রমের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল; ফলে এই প্রযুক্তি নগদ শ্রমব্যয় এতটা কমায় না যে মূলধনী খরচ পুষিয়ে যায়।
বড় ও অতি বড় খামারের বাধা ভিন্ন। রোবট যুক্ত করতে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়, যেমন এক বা একাধিক দোহন পার্লার রূপান্তর; তা ছাড়া প্রতি হান্ড্রেডওয়েট দুধে তাদের শ্রমব্যয় এমনিতেই সাধারণত কম, তাই শ্রম সাশ্রয়ের সুযোগ সামান্য।
বিনিয়োগের কথা ভাবছে এমন খামারের জন্য এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ: হিসাব তখনই মেলে যখন পালটি এত বড় যে দোহনের জন্য শ্রমিককে বেতন দিতে হয়, আবার এত বড় নয় যে পার্লার এমনিতেই প্রতি হান্ড্রেডওয়েটে কম শ্রমব্যয় দিচ্ছে। ERS অর্থনীতিবিদ Jonathan McFadden-এর তৈরি এই চার্ট ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত Precision Dairy Farming, Robotic Milking, and Profitability in the United States প্রতিবেদন থেকে নেওয়া।
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস





মন্তব্য
(০)