সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৪%বাতাস ১১ কিমি/ঘ

মেহেরপুরে ৮০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ, বাম্পার ফলনের আশা

মেহেরপুরে দিনদিন বাড়ছে লিচুর আবাদ। রসালো, সুস্বাদু ও উচ্চ বাজারমূল্যের কারণে ফলটি এখন জেলার কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরই লিচুর বাগানের পরিধি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে উৎপাদন ও বাজার চাহিদা। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন বাগানে পরিচর্যার কাজ শেষ পর্যায়ে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে উঠতে

ফল

মেহেরপুরে দিনদিন বাড়ছে লিচুর আবাদ। রসালো, সুস্বাদু ও উচ্চ বাজারমূল্যের কারণে ফলটি এখন জেলার কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরই লিচুর বাগানের পরিধি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে উৎপাদন ও বাজার চাহিদা। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন বাগানে পরিচর্যার কাজ শেষ পর্যায়ে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে উঠতে শুরু করবে সুস্বাদু লিচু।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর জেলায় প্রায় ৭১৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছিল। সেখান থেকে উৎপাদিত হয় প্রায় ৬ হাজার ১১০ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য ছিল ৫০ কোটিরও বেশি। এ বছর সেই আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০০ হেক্টরে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে গাছে লিচুর গুটি ভালো এসেছে, যা চাষিদের মধ্যে বাম্পার ফলনের আশা জাগিয়েছে।

জেলার প্রায় প্রতিটি লিচু বাগানেই এখন দেখা যাচ্ছে থোকায় থোকায় সবুজ লিচু। বাগানজুড়ে চলছে পরিচর্যা, সেচ, আগাছা পরিষ্কার এবং পোকামাকড় দমনের কাজ। চাষিরা বলছেন, এ বছর আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় ফলনের সম্ভাবনা খুবই ভালো। তবে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং বাজারদর সন্তোষজনক থাকলে তারা কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখতে পারবেন।

মেহেরপুরে চায়না থ্রি, বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাঁঠালি ও আঠি জাতের লিচুর চাষ বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে চায়না থ্রি ও বোম্বাই জাতের লিচুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এগুলো আকারে বড়, রসে ভরপুর এবং স্বাদে অতুলনীয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় মেহেরপুরের লিচুর বিশেষ কদর আছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চাষিরা জানান, লিচু চাষ এখন তাদের জন্য একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

সদর উপজেলার বাগান মালিক সাইদুর রহমান বলেন, ‌'লিচু চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এ বছর ১ বিঘা জমিতে নতুন করে চারা রোপণ করেছি। পাশাপাশি ২ বিঘা জমির পুরোনো বাগানেও নিয়মিত পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।'

বাগান মালিক সুমন হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, 'লিচুর গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে নিয়মিত পরিচর্যা করছি। সময়মতো ওষুধ প্রয়োগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে ফলন ভালো হয়।'

চাষি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'এ বছর আমার আড়াই বিঘা জমিতে লিচুর বাগান আছে। গত বছর মুকুল আসার সময়ই বাগান পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলাম। এ বছর বেশি যত্ন নিচ্ছি। আশা করছি কয়েক লাখ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবো। তবে চাষিদের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। বিশেষ করে দানা আসার পর বাদুড় ও পাখির উপদ্রব বেড়ে যায়। যা অনেক সময় ফলনের ক্ষতি করে। এ কারণে অনেক চাষি ঝুঁকি এড়াতে আগাম বিক্রি করে দেন।'

চাষি জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'পোকামাকড় দমনে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করছি। তবে ফল বড় হওয়ার পর বাদুড় ও পাখির আক্রমণ বাড়ে। তাই অনেক সময় আগাম বিক্রি করে দিতে হয়।'

লিচু ব্যবসায়ীরাও এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন। জেলার বিভিন্ন বাগানে আগাম চুক্তির মাধ্যমে লিচু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুল হোসাইন বলেন, 'এ বছর বাগানগুলোতে ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাগান কিনেছি। মৌসুমজুড়ে আরও বাগান ও কাউন হিসেবে লিচু কেনা হবে। মেহেরপুরের লিচুর চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে।'

অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা মেহেরপুরে আসছেন লিচুর বাগান কিনতে। ফরিদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান বলেন, 'মেহেরপুরের লিচুর মিষ্টতা ও স্বাদের কারণে চাহিদা বেশি। তাই আগেভাগেই বাগান কিনতে এখানে আছি। আশা করি এ বছর ভালো ব্যবসা হবে। দাম স্থিতিশীল থাকলে ব্যবসায়ী ও চাষি উভয়ই লাভবান হবেন।'

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর লিচুর উৎপাদন ও বাজারমূল্য উভয়ই বাড়ার সম্ভাবনা আছে। এ প্রসঙ্গে উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা জাগো নিউজকে বলেন, 'গত বছরের তুলনায় গাছে লিচুর গুটি বেশি এসেছে। আশা করছি, প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা মানসম্মত লিচু উৎপাদন করতে পারেন।'

তিনি বলেন, 'যদি কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বিদেশে লিচুর বাজার তৈরি করতে পারে। তাহলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হবেন। রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।'

সব মিলিয়ে মেহেরপুরে লিচু চাষ এখন সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, বাড়তি আবাদ এবং বাজার চাহিদা—এ তিনের সমন্বয়ে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

কেরানীগঞ্জে উচ্চমূল্যের ফল চাষে দুই তরুণের সাফল্য

গতানুগতিক শিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে কৃষিতে নতুন ভবিষ্যৎ খুঁজছেন শিক্ষিত তরুণরা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সংলগ্ন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ২৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে উচ্চমূল্যের অপ্রচলিত ফলের আধুনিক চাষাবাদ শুরু করেছেন দুই তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা। শাম্মাম, রকমেলন ও ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে প্রথমবারেই এসেছে বড় সাফল্য।

শাইখ সিরাজ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
এগ্রোটেক

চাষিকে তথ্য-বিশ্লেষক হতে হবে না, বলছেন Orchard Robotics-এর Charlie Wu

Orchard Robotics-এর প্রতিষ্ঠাতা Charlie Wu বলছেন, ট্রাক্টরে বসানো তাঁদের এআই ক্যামেরা গাছ ধরে ধরে ফল গোনে ও মাপে, শ্রম ও উপকরণ সাশ্রয়ে প্রথম বছরেই তিন থেকে দশ গুণ ফেরত দেয়; আপেল থেকে কোম্পানিটি এখন আরও এক ডজন ফসলে যাচ্ছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()