কৃষিজমির মান বাড়িয়ে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে অম্লীয় হয়ে পড়া কৃষিজমি সারাইয়ের উদ্যোগ জোরদার করছে চীন। দেশটির কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Agriculture and Rural Affairs)-এর সম্প্রতি জারি করা একটি নথিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, যেসব এলাকায় অম্লীয় কৃষিজমি সবচেয়ে বেশি, সেখানেই কাজ কেন্দ্রীভূত হবে: দক্ষিণ চীনের অম্লীয় লাল মাটি ও ল্যাটেরাইটিক লাল মাটির এলাকা এবং ইয়াংজি নদীর মধ্য ও নিম্ন অববাহিকার অম্লীয় লাল ও হলুদ মাটির এলাকা। এর বাইরে দক্ষিণ-পশ্চিমের ইউনান–গুইঝৌ মালভূমি, সিচুয়ান ও চংকিং অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্ব চীনের কিছু অংশেও অম্লীয় জমি ঘনীভূত।
নথিতে এলাকাভেদে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে এবং বৈজ্ঞানিক সার প্রয়োগ, চাষের অবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন—এই তিন ক্ষেত্রে কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে মাটির অবক্ষয়ের একটি ব্যাপক রূপ মাটির অম্লীকরণ—ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদান ধুয়ে যেতে যেতে মাটির পিএইচ ধীরে ধীরে নেমে যাওয়া, যাতে ফসল ফলানো কঠিন হয়। স্বাভাবিক বৃষ্টিতে অম্লীকরণ ধীরে হয়, কিন্তু অম্লবৃষ্টি এবং নিবিড় চাষ ও দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সারের—বিশেষত অ্যামোনিয়াম নাইট্রোজেন সার ও ইউরিয়ার—ভারসাম্যহীন ব্যবহারের মতো মানুষের কর্মকাণ্ড একে নাটকীয়ভাবে ত্বরান্বিত করেছে। প্রতিকারের পথ: চুন প্রয়োগ, বেশি জৈব সার ও ফসলের খড় ব্যবহার, সারের ভারসাম্য এবং ফসলচক্র।
এ বিষয়ে চীন আগেই লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৩ সালে দেশটি অপেক্ষাকৃত বড় অম্লীয় জমির এলাকা থাকা ১৫টি প্রদেশ ও অঞ্চলের ২০টি কাউন্টিকে বেছে নিয়ে মাটির পিএইচ ও শস্য উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর সারাই প্রকল্প শুরু করে।
সর্বশেষ এই ব্যবস্থা পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে (২০২৬–২০৩০) খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের বৃহত্তর জাতীয় উদ্যোগের অংশ; পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরগুলোতে দেশটি শস্য উৎপাদনক্ষমতা ৫ কোটি টন বাড়াতে চায়।
ছবি: Evgeniya Soldatova / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)