অনলাইনে কীটনাশক বিক্রিকে দোকানের বিক্রির মতোই নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দিক থেকে এগোচ্ছে চীনের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Agriculture and Rural Affairs, মারা)। ১৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের ফসল ব্যবস্থাপনা বিভাগ ২০২৬ সালের ৫১ নম্বর নোটিশ জারি করে 'ইন্টারনেট কীটনাশক নেতিবাচক তালিকা (২০২৬ সংস্করণ)'-এর খসড়ায় গণমতামত চেয়েছে—এটি এমন পণ্যের তালিকা, যেগুলো সারা দেশে ইন্টারনেট ও ই-কমার্স মাধ্যমে বিক্রি নিষিদ্ধ হবে। মতামত দেওয়ার শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর।
নোটিশটি প্রাদেশিক কৃষি কর্তৃপক্ষ, চায়না পেস্টিসাইড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ও চায়না পেস্টিসাইড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন অ্যাসোসিয়েশনকে সম্বোধন করে পাঠানো হয়েছে। কোন কোন পণ্য নিষিদ্ধ হবে, তা নোটিশে নয়, সংযুক্ত একটি নথিতে আছে; আর জনস্বাস্থ্যের কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক—যেমন ঘরের পোকা দমনের পণ্য—অনলাইনে বিক্রির অনুমতি বহাল থাকছে।
চার দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর, মন্ত্রণালয় জেডি ডটকম, টাওবাও, পিনদুওদুও, দৌইন ও কুয়াইশৌসহ ১৭টি বড় ই-কমার্স ও শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের ডেকে কীটনাশক ও পশুচিকিৎসা ওষুধের অবৈধ অনলাইন বিক্রি বন্ধে দেশব্যাপী অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে। সাতটি সরকারি বিভাগের সমন্বয়ে চলা এই অভিযান ২০২৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে; উৎপাদন ও দোকানের বিক্রি থেকে অনলাইন বিপণন হয়ে শেষ ব্যবহার পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খল এর আওতায়।
মন্ত্রণালয় যে সমস্যাগুলো ঠিক করতে বলেছে: বিক্রেতার লাইসেন্স যাচাইয়ে ঘাটতি, বিভ্রান্তিকর বা নিয়মবহির্ভূত পণ্য তালিকা, নিয়ন্ত্রিত পণ্যের বিধিনিষেধ এড়ানোর কৌশল এবং প্রেসক্রিপশনের পশুচিকিৎসা ওষুধের অনলাইন বিক্রিতে দুর্বল নজরদারি। প্ল্যাটফর্মগুলোকে বিক্রেতার সনদ যাচাই ও তালিকা পর্যালোচনা কড়া করতে, ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যশ্রেণি বেশি নজরে রাখতে, অবৈধ তালিকা দ্রুত সরিয়ে দোকান বন্ধ করতে এবং বড় লঙ্ঘন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে অফলাইন উৎস খুঁজে বের করার তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ব্যর্থ প্ল্যাটফর্মের জন্য কী শাস্তি, তা জানানো হয়নি।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মারা অনলাইন কীটনাশক বাণিজ্যে যে বিশেষ সংশোধন অভিযান শুরু করেছিল, নেতিবাচক তালিকা তারই প্রথম পণ্যভিত্তিক নিয়মবই। চূড়ান্ত হলে এটি নিবন্ধনের অবস্থা নির্বিশেষে প্রযোজ্য হবে—বৈধভাবে নিবন্ধিত ও দোকানে বিক্রিযোগ্য কোনো পণ্যও তালিকায় থাকলে অনলাইনে বিক্রি করা যাবে না; অর্থাৎ এটি নিবন্ধন বাতিল নয়, বরং বিদ্যমান নিবন্ধন নিয়মের ওপর বিক্রয়-মাধ্যমের একটি বাড়তি বিধিনিষেধ।
গ্রামীণ অনলাইন খুচরা বাণিজ্যের সঙ্গে চীনে কীটনাশকের ই-কমার্স দ্রুত বেড়েছে; যেসব অঞ্চলে কৃষি উপকরণের দোকান কম, সেখানকার ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে পৌঁছানোর বড় পথ হয়ে উঠেছে এটি, আর শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্ম উপজেলা ও গ্রামপর্যায়ের পরিবেশকদের বড় বিক্রয়মাধ্যম। সেই সঙ্গে নকল পণ্য, অস্পষ্ট উৎস এবং লাইসেন্সধারী বিক্রেতার তদারকি ছাড়াই নিয়ন্ত্রিত বা উচ্চ বিষাক্ত পণ্য বিক্রির উদ্বেগও বেড়েছে। ভারতেও একই উদ্বেগ থেকে ক্রপলাইফ ইন্ডিয়া ডিজিটাল মাধ্যমে কীটনাশক বিক্রিতে কড়া নিয়ম চেয়েছে।
ছবি: JalalV / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)