মালাউইর ২০২৭ কৃষিবর্ষের ওপর একসঙ্গে দুটি ধাক্কা এসে পড়ছে, আর আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) মডেলিং বলছে, এই দুইয়ের মিলিত প্রভাব হতে পারে তীব্র। বিবেচিত পরিস্থিতিগুলোর গড় হিসাবে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পড়বেন এবং অপুষ্টিতে ভুগবেন আরও প্রায় ৪৬ লাখ।
প্রথম ধাক্কাটি এল নিনো — প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার সেই পর্যায়, যা বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন এবং তার সঙ্গে পৃথিবীর বহু অঞ্চলের মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে ওলটপালট করে দেয়। এটি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনওএএ-র ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার বলছে, ২০২৬-২৭ সালে প্রবল এল নিনোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি, আর এটি ১৯৫০ সালের পরের সব এল নিনোর চেয়ে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ।
দ্বিতীয় ধাক্কাটি কৃষকের কেনা উপকরণের দামে। ইরান-সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন জ্বালানি ও সারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যে দেশে বেশির ভাগ কৃষক ছোট জমিতে ভুট্টা ফলান এবং মৌসুমের শুরুতেই সার কেনেন, সেখানে দুর্বল বৃষ্টির পূর্বাভাসের বছরেই দাম বেড়ে গেলে সমস্যা যোগ হয় না — গুণ হয়।
প্রক্ষেপিত প্রভাব শুধু মাঠে নয়, অর্থনীতিজুড়েই: প্রবৃদ্ধি দুর্বল হওয়া, কৃষি উৎপাদন কমা এবং খাদ্যের দাম বাড়া। লেখক ক্রিস হিলব্রুনার, কার্ল পাউ ও ওয়েস্টন অ্যান্ডারসন স্পষ্ট করেই বলেছেন, ফলাফল অনিশ্চিত — মডেলিং সম্ভাব্য সীমা দেখায়, কী ঘটবে তার ভবিষ্যদ্বাণী করে না।
মৌসুম শুরুর আগেই হিসাব কষার মূল্য এখানেই যে, কার্যকর পদক্ষেপগুলো ধীরগতির। দেশে সার আনা, খাদ্য মজুত সাজানো, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ব্যয় নির্ধারণ এবং অর্থ জোগাড় — সবকিছুতেই মাস লেগে যায়। যে সরকার ফসলহানির নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা করে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার বছরটির বেশির ভাগই হারিয়ে ফেলে।
এটি আইএফপিআরআই-এর একটি ধারাবাহিকের প্রথম কিস্তি, যাতে ইথিওপিয়া, কেনিয়া, মালাউই ও ভারত এবং সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থার কথা থাকবে; অক্টোবরের শুরুতে একটি নীতি সেমিনারে এসব কাজ উপস্থাপিত হবে।
বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে একই দুই বাজারের অন্য পাশে। দেশের সার আমদানিনির্ভর এবং ইউরিয়ার দাম নির্ধারিত হয় সেই একই জাহাজভাড়া ও গ্যাসের দামের হিসাবে, হরমুজের বিঘ্ন যাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সে কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য দেওয়া এল নিনোর পূর্বাভাস কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার খবর নয়।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)