আগের মতো সেপ্টেম্বরের শুরুতে না বুনে কিছুটা দেরিতে বুনলেও শীতকালীন তেলবীজ সরিষা (অয়েলসিড রেপ) শীত পার করে ভালো ফলন দিতে পারে। ব্রিটেনের বীজ উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান এনপিজেড ইউকে (NPZ UK)-এর মাঠ পরীক্ষা এবং লিংকনশায়ারের এক কৃষকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এ কথা জানিয়েছেন ফার্মার্স উইকলির প্রতিবেদক রিচার্ড অ্যালিসন (Richard Allison)। গরম ও শুকনো গ্রীষ্ম, তুলনামূলক উষ্ণ শরৎ এবং ক্যাবেজ স্টেম ফ্লি বিটল পোকার আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণার কারণে সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে বপন পিছিয়ে যাচ্ছে।
কেমব্রিজ ও উইসবিচে এনপিজেড ইউকের পরীক্ষা মাঠ পরিচালনা করেন ক্রেইগ প্যাডলি (Craig Padley)। তাঁর মতে, পুরনো বপন পঞ্জিকা আর খাটে না। তিনি বলেন, ‘আগে আমরা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বুনতাম, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেটি আর প্রাসঙ্গিক নয়।’ সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে বুনলেও গাছ প্রায় আটটি পাতা নিয়ে শীতে ঢোকে এবং টিকে যায় বলে জানান তিনি।
গত মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষায় দেরিতে বোনা প্লটে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ৪ দশমিক ৬৮ টন, আর স্বাভাবিক সময়ে বোনা প্লটে ৪ দশমিক ৩৭ টন। প্যাডলির ব্যাখ্যা, পার্থক্যের বড় কারণ বসন্তে ফ্লি বিটলের লার্ভার ক্ষতি। উষ্ণ মাটিতে আগে বোনা গাছে গড়ে প্রায় ২০টি করে লার্ভা পাওয়া গেছে, দেরিতে বোনা প্লট সেই আক্রমণ এড়িয়ে গেছে। এ বছর শরতের শুরু শুকনো থাকায় আগাম পরীক্ষার বপনও হয়েছে ২০ আগস্ট।
গাছের বৃদ্ধির হিসাব বোঝাতে প্যাডলি জার্মানির কিয়েলের একটি ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে এনপিজেডের অর্থায়নে হওয়া ‘ডে-ডিগ্রি’ বা তাপ-এককের গবেষণার কথা বলেন। অঙ্কুরোদগমে লাগে প্রায় ১৫০ ডে-ডিগ্রি, প্রতি জোড়া পাতায় আরও ১২০ থেকে ১৫০, আর প্রায় ১,০০০ ডে-ডিগ্রি পেরোলে ফুলের কুঁড়ি তৈরি শুরু হয়। আগাম বোনা ফসল শীতের আগেই ১,২০০ ডে-ডিগ্রি পার করে কাণ্ড লম্বা করতে শুরু করে, ফলে সম্ভাব্য ফুলের সংখ্যা তখনই বাঁধা পড়ে যায়। দেরিতে বোনা ফসলে কুঁড়ি তৈরির কাজ বসন্ত পর্যন্ত চলে। এনপিজেড চার থেকে ছয় পাতার সময় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক প্রয়োগ করে গাছকে দুই থেকে তিন সপ্তাহ থামিয়ে রাখে।
প্যাডলির মতে, দেরিতে বপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাত বাছাই। এমন জাত দরকার, যা শরতে দ্রুত গজায় এবং পুরো মৌসুমে দ্রুত বাড়ে। এগুলো প্রায়ই হাইব্রিড, তবে সব হাইব্রিড দেরিতে বপনের উপযোগী নয়।
লিংকনশায়ার উল্ডস এলাকায় চুনাপাথরের ওপর পলিময় এঁটেল দোআঁশ মাটিতে ২৬০ হেক্টর জমি চাষ করেন জেমস থম্পসন (James Thompson)। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগে তিনি সরিষা বোনেন না। আগের গম ফসলের লম্বা নাড়া রেখে দেন, মুরগির বিষ্ঠা দেন এবং বর্গমিটারে ৮৫ থেকে ১০০টি বীজ বোনেন। কবুতর ও ফ্লি বিটলের মনোযোগ সরাতে সঙ্গী ফসল হিসেবে বাকহুইট ও ফেসেলিয়া লাগান। বপনের পর দুবার রোলার দেন, শামুক ও পোকার দিকে নজর রাখেন এবং পাতায় দুবার পুষ্টি স্প্রে করেন। তাঁর ফসলে কখনো বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক লাগেনি। জাত বাছাইয়ে তিনি সবার আগে দেখেন গাছের জোর।
ছবি: Oast House Archive / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি




মন্তব্য
(০)