লক্ষ্মীপুর শহরের মাদাম এলাকার রহমতখালী খালে বিভিন্ন প্রজাতির ৩৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রধান অতিথি হিসেবে পোনা ছাড়েন। পরে জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে পুকুরে অবমুক্ত করার জন্য সরকারি-বেসরকারি ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশজুড়ে যেসব কর্মসূচি নিয়েছেন, তার মধ্যে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি চলমান। এর পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আর মৎস্য অবমুক্তকরণও সেই কর্মসূচির অংশ।
রহমতখালী খালকে ‘লক্ষ্মীপুরের প্রাণ’ উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, খালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ চলছে; প্রচুর কচুরিপানা ছিল, সেগুলো সরানো হয়েছে এবং এখন পানির যথেষ্ট প্রবাহ আছে। তাঁর ভাষায়, সবকিছুর সঙ্গেই পরিবেশের সম্পর্ক রয়েছে এবং গ্রামীণ অবকাঠামোকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
‘মাছে-ভাতে বাংলাদেশের মানুষ, নদীমাতৃক দেশ’—এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই এসব কাজকে অগ্রাধিকার দিলে অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা সম্ভব। তিনি খাল পুনঃখননের এই উদ্যোগকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান খান ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনসহ অন্যরা।
মৎস্যচাষি ও গ্রামীণ পানি ব্যবস্থাপনার দিক থেকে ঘোষণাটির গুরুত্ব আছে: পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন হলে সেচ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রজনন—তিন ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়বে। রহমতখালীর মতো কচুরিপানায় রুদ্ধ খাল পরিষ্কার করে পোনা ছাড়া তারই ছোট নমুনা; কর্মসূচি কতটা মাঠে পৌঁছায়, সেটিই এখন দেখার।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)