কুড়িগ্রামে সার পেতে কৃষকদের ভোগান্তি থামছে না। ইউনিয়নের সব কৃষককে একটি ডিলার পয়েন্টে জড়ো করে সার দেওয়ায় প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বিশৃঙ্খলা, সড়ক অবরোধ ও কৃষি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। অথচ ডিলারের গুদামের পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক নিবন্ধিত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর), রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলামের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুরে ভিড় দেখে ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরে পড়লে কৃষকেরা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। রবিবার সদরের ঘোগাদহে বিতরণে দেরি হওয়ায় কৃষকেরা একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর করেন। ১৮ সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরীর বল্লভেরখাসে আরেক কর্মকর্তা চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন; ১৬ সেপ্টেম্বর চর রাজিবপুরে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যান ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। ৭ সেপ্টেম্বর রৌমারী ও ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার উলিপুরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর বাজারে বিসিআইসি অনুমোদিত একটি ডিলার পয়েন্টে দেখা যায়, পাঁচজনকে মিলিয়ে এক বস্তা সার দেওয়া হচ্ছে; তবু অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। যমুনা এলাকার কৃষক রুহুল আমিন জানান, তিন দিন ঘুরেও সার পাননি; পাঁচ ভাইয়ের পরিচয়পত্র এনেছিলেন, কিন্তু পাঁচজনকেই সশরীরে আসতে হবে বলে জানানো হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘হামার আবাদও শ্যাষ, কামলাও শ্যাষ।’
কৃষকেরা বলছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে সার না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে, আর সেই দিনের মজুরিও হারাচ্ছেন। আগে খুচরা দোকান থেকে যার যতটুকু দরকার, ততটুকু সার নেওয়া যেত। বিসিআইসি ডিলার রমজান আলীও বলছেন, গত বছর খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমেই সার দেওয়া হয়েছিল; এবার শুধু ডিলার পয়েন্টে দেওয়ায় পুরো ইউনিয়নের ভিড় এক জায়গায় জমছে।
উলিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, ওয়ার্ডভিত্তিক বিতরণের সিদ্ধান্ত হলেও তা চালু হয়নি; এখনো শুধু ডিলার গুদাম থেকেই সার দেওয়া হচ্ছে। অন্য উপজেলাতেও একই চিত্র।
জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি অন্নপূর্ণা দেবনাথ কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের গাফিলতি ও অনাগ্রহকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, বিতরণে বিশৃঙ্খলার কারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালককে বদলি করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ডভিত্তিক বিতরণ শুরু হচ্ছে।
বাড়তি বরাদ্দ দেওয়ার পরও বিতরণের পদ্ধতির কারণে কৃষককে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে—কুড়িগ্রামের অভিজ্ঞতা সেটাই দেখাচ্ছে।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগান।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)