সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৯৫%বাতাস কিমি/ঘ

কৃষিপ্রযুক্তিতে যুবশক্তি ধরে রাখতে করণীয়

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বিশ্বব্যাপী উৎপাদন, অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের কাঠামোকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, সয়েল সেন্সর, ড্রোন প্রযুক্তি এবং বিগডাটা বিশ্লেষণ—এসব প্রযুক্তি কৃষিকে নতুনভাবে রূপান্তরের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। উন্নত দেশগুলো এরই মধ্যে 'স্মার্ট এগ্রিকালচার' বা

এগ্রোটেক

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বিশ্বব্যাপী উৎপাদন, অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের কাঠামোকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, সয়েল সেন্সর, ড্রোন প্রযুক্তি এবং বিগডাটা বিশ্লেষণ—এসব প্রযুক্তি কৃষিকে নতুনভাবে রূপান্তরের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। উন্নত দেশগুলো এরই মধ্যে 'স্মার্ট এগ্রিকালচার' বা 'প্রিসিশন ফার্মিং'র মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এখনো প্রযুক্তিগুলোর কার্যকর সমন্বয় ও প্রয়োগ সীমিত। ফলে কৃষিখাতে আগ্রহী যুবশক্তিকে ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি-নির্ভর কৃষির বিস্তার শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নয় বরং একটি টেকসই ও আকর্ষণীয় কৃষি ইকোসিস্টেম তৈরির জন্য অপরিহার্য।

কৃষিতে এআই প্রযুক্তি মূলত ফসলের রোগ-পোকামাকড় শনাক্তকরণ, ফলন পূর্বাভাস, আবহাওয়া বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুব দ্রুত কোনো ফসলের রোগ শনাক্ত করা যায়, যা কৃষককে তাৎক্ষণিক প্রতিকার গ্রহণে সহায়তা করে। একইভাবে এআই এবং আইওটি-ভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে মাটির গুণাগুণ, আবহাওয়া এবং পূর্ববর্তী উৎপাদন তথ্য বিশ্লেষণ করে ফলনের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। এ প্রযুক্তি কৃষিকে ঝুঁকিমুক্ত ও লাভজনক করতে সহায়তা করে, যা তরুণদের কাছে কৃষিকে একটি আধুনিক ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। কিন্তু যদি এ প্রযুক্তির ব্যবহার মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো না যায়, তাহলে কৃষি একটি অনিশ্চিত ও কম লাভজনক পেশা হিসেবেই থেকে যাবে।

আইওটি প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা, পিএইচ, এনপিকে, তাপমাত্রা এবং লবণাক্ততা রিয়েল-টাইমে পরিমাপ করা সম্ভব। সয়েল সেন্সর থেকে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি একটি সফটওয়্যার বা মোবাইল অ্যাপে দেখা যায়, যা কৃষককে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

স্মার্ট সেচ ব্যবস্থা এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচ প্রদান করতে পারে। ফলে পানির অপচয় কমে এবং উৎপাদন খরচও হ্রাস পায়। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে সেচ ব্যয় একটি বড় সমস্যা, সেখানে এ প্রযুক্তি ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তির সাথে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই আইওটি-ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা তাদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। কিন্তু যদি এ ধরনের প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও প্রশিক্ষণ না থাকে, তাহলে তারা কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

ড্রোন প্রযুক্তি কৃষিতে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ড্রোনের মাধ্যমে ফসল পর্যবেক্ষণ, সার ও কীটনাশক স্প্রে, জমির ম্যাপিং এবং ফসলের স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এটি সময় ও শ্রম উভয়ই সাশ্রয় করে। বিশেষ করে বড় জমির ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর। এতে কম সময়ে সমানভাবে স্প্রে করা যায়, যা মানুষের পক্ষে কঠিন। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সংগৃহীত ছবি ও ডেটা বিশ্লেষণ করে ফসলের সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা যায়। এ প্রযুক্তি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে, যেমন- ড্রোন সার্ভিস প্রদান, ডেটা বিশ্লেষণ ইত্যাদি। তবে এ খাতের জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, নীতিমালা এবং সহজ অর্থায়ন।

বিগডাটা কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত ডেটা যেমন- আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ, বাজারদর, উৎপাদন ইতিহাস, বিশ্লেষণ করে কৃষি ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কোন এলাকায় কোন ফসল বেশি লাভজনক হবে, কখন বপন করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে—এসব সিদ্ধান্ত ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা সম্ভব। ফলে কৃষক ঝুঁকি কমাতে পারেন এবং আয় বাড়াতে পারেন। যুবসমাজ ডেটা-নির্ভর কাজের প্রতি বেশি আগ্রহী। তাই বিগডাটা ভিত্তিক কৃষি তাদের জন্য একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র হতে পারে। কিন্তু সুযোগগুলো যদি বাস্তবে তৈরি না হয়, তাহলে তারা অন্য খাতে চলে যাবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক তরুণ কৃষিতে আগ্রহ দেখালেও তারা দীর্ঘমেয়াদে এ খাতে থাকতে চান না। এর প্রধান কারণগুলো হলো—কৃষিতে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বেশি, প্রযুক্তির অভাব, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নেই, বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। যদি কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা না যায়, তাহলে এ আগ্রহী যুবশক্তিকে ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এর ফল হবে কৃষিখাতে দক্ষ জনশক্তির সংকট।

কৃষির আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি সুসংহত নীতিমালা এখন সময়ের দাবি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে কৃষিকে প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হলে এআই, আইওটি, সয়েল সেন্সর, ড্রোন এবং বিগডাটা প্রযুক্তিকে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য প্রযুক্তির খরচ কমানো, সহজ ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে সম্পৃক্ত রাখতে হলে তাদের জন্য আধুনিক ও প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার বিকাশ অপরিহার্য। কারিগরি শিক্ষা, হাতেকলমে প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবভিত্তিক লার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে তারা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয় বরং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।

একই সাথে কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বিনিয়োগ সুবিধা, ইনকিউবেশন সাপোর্ট, সহজ ঋণ এবং বাজার সংযোগের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে তথ্য ও সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। একটি সমন্বিত অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাটির তথ্য, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রোগবালাই শনাক্তকরণ এবং বাজারদর সহজেই জানা যাবে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও কার্যকর করবে।

সবশেষে ড্রোন ব্যবহার, ডেটা শেয়ারিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারে সহায়ক নীতিমালা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে। সুস্পষ্ট নীতি, নিরাপদ ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং প্রণোদনামূলক উদ্যোগ কৃষিতে প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। সমন্বিত এসব পদক্ষেপই কৃষিকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত ও টেকসই করে তুলতে সক্ষম হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ সময়ে কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর না করলে তা টেকসই থাকবে না। এআই, আইওটি, সয়েল সেন্সর, ড্রোন ও বিগডাটা—এসব প্রযুক্তির সমন্বয় কৃষিকে আধুনিক, লাভজনক এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুবশক্তিকে কৃষিতে ধরে রাখতে হলে প্রযুক্তিগুলোর কার্যকর প্রয়োগ অপরিহার্য।

অন্যথায় কৃষিখাত ধীরে ধীরে প্রাণশক্তি হারাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই সময় প্রযুক্তি ও নীতিমালার সমন্বয়ে একটি স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার। যেখানে যুবসমাজ শুধু অংশগ্রহণই করবে না বরং নেতৃত্ব দেবে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

ব্রাজিলের Sibium Analytics কিনে আখ ও জৈব জ্বালানিতে পা রাখল xFarm

সুইজারল্যান্ডের খামার ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি কোম্পানি xFarm Technologies ব্রাজিলের Sibium Analytics অধিগ্রহণ করেছে; এর মাধ্যমে আখ ও জৈব জ্বালানি খাতে ঢুকল কোম্পানিটি, আর তার আওতা বাড়ল বিশ্বের ছয় লাখের বেশি খামারের ২ কোটি ৪০ লাখ হেক্টর জমিতে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফসল

ক্যামেরায় সয়াবিনের রোগ ধরা পড়ে দেরিতে, লক্ষণের আগেই সংকেত চান InnerPlant-এর বিজ্ঞানীরা

InnerPlant-এর দুই বিজ্ঞানীর মত, ড্রোন, ক্যামেরা বা এআই—সবই সয়াবিনের ছত্রাক রোগ ধরে লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরে, যখন স্প্রে করার সময় পেরিয়ে গেছে; তাঁদের প্রস্তাব, সংক্রমণের প্রায় ১০ দিন আগেই সংকেত দিতে পারে এমন গাছ।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()