সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনার কয়রায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ নির্মাণের মেগা প্রকল্পে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, বাঁধ রক্ষার কংক্রিট ব্লক তৈরিতে নির্ধারিত সিলিকন বালুর বদলে ভাঙনকবলিত কপোতাক্ষ নদের বাঁধের কাছ থেকে তোলা লোনা বালু ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিষয়টি আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওর মাধ্যমে। তাতে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চরামুখো এলাকায় সাতক্ষীরা পাউবোর পোল্ডার ১৪/১ প্রকল্পের ব্লক তৈরির জায়গায় স্থানীয় এক মাদ্রাসাকর্মী মো. শামীম হোসেনকে এলাকাবাসীকে নিয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদক সেখানে গিয়ে স্তূপ করা বিপুল পরিমাণ লোনা বালু দেখতে পান।
দামের ফারাকই অভিযোগের কেন্দ্রে। কয়রায় এক ফুট সিলিকন বালুর দাম প্রায় ১৩০ টাকা, আর নদীর লোনা বালু মেলে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকায়। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মো. মোবারেক হোসেন বলেন, ওই ব্লকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলেই তা ভেঙে যাচ্ছে। ব্লক তৈরির কয়েকজন শ্রমিকও দাবি করেছেন, সাইটের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী তাঁদের ওই বালু ব্যবহারে বাধ্য করেছেন।
বালু ছাড়াও বাঁধের কয়েকটি অংশে মাটি দেবে যাওয়া, হাজতখালীতে বাঁধের অংশ নিচু হয়ে যাওয়া এবং বিনাপানি অংশে সড়কের স্লোপ ঠিকমতো না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য বিথীকা রানী জানান, ঠিকাদার ও সাতক্ষীরা পাউবোকে জানালেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। বাঁধের কাছেই কপোতাক্ষ থেকে বালু তোলায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
ব্লক তৈরির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমআরজেডের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম লোনা বালু ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন; তাঁর দাবি, তিনি সাইটে না থাকায় শ্রমিকেরা ভুল করে তা ব্যবহার করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও নিম্নমানের সামগ্রীর জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মমিনুর হক জানান, পরিদর্শনে গিয়ে তিনি লোনা সাদা বালু দেখেছেন, তবে তাঁর দাবি, ওই বালু ব্লকের জন্য নয়, অন্য কাজের জন্য মজুত করা হয়েছে। আগের অনিয়মের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
উপকূলের এই জনপদে টেকসই বেড়িবাঁধই বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকার সুরক্ষা; লোনা পানি ঢুকলে ফসলের জমি নষ্ট হয়। তাই ব্যবহৃত বালু ও ব্লকের মান, নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তার স্বাধীন পরীক্ষা ও তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন দেশ রূপান্তরের কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি তারিক লিটু।
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)