হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ জেলায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব চলছে। চলতি বছরের ৯ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৪ হাজার ৯৮৩ জন, মারা গেছেন একজন। সোমবার (৫ অক্টোবর) জেলার ১৫টি হাসপাতালে ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি ছিলেন ১৮০ জন, যার ১০৭ জন ভর্তি হন এক দিনে।
ডায়রিয়ার সঙ্গে ডেঙ্গু ও হামের রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন আরও ১৬ জন।
বছরের শুরু থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৮১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, একজন মারা গেছেন। চলতি বছর নিশ্চিত হওয়া ২১৫ জন হামের রোগীর মধ্যে একজন এবং সন্দেহভাজন ২ হাজার ৮৮৯ জনের মধ্যে একজন মারা গেছেন।
এখন জেলার সরকারি-বেসরকারি ১৬টি হাসপাতালে সংক্রামক রোগে ভর্তি ৩৮০ জন: ডেঙ্গুর ১৩৩, সন্দেহভাজন হামের ৬৭ এবং ডায়রিয়ার ১৮০ জন। সবচেয়ে বেশি চাপ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সেখানে ৩২ জন ডেঙ্গু, ২৬ জন হাম ও ১০ জন ডায়রিয়ার রোগী। কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন ডেঙ্গু ও ২৬ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি খাদিজা বেগমের স্বামী সাত্তার বলেন, "বিভিন্ন ওষুধ বাইরে থেকে কেনা লাগে। তবে স্যালাইনের কোনো সংকট পাইনি।"
সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ডায়রিয়া মূলত রোটাভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। ডায়রিয়া রোধে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে হোসেনপুর, করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলায় টিকা দিচ্ছে। ডেঙ্গু ও হামের চিকিৎসায় ঘাটতি রাখা হচ্ছে না, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট এবং স্যালাইন ও ওষুধ মজুত আছে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদনটি করেছেন কিশোরগঞ্জের সাজন আহম্মেদ পাপন।
ছবি: Ahad Adnan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)