খুলনায় জলাবদ্ধতা দূর করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে আট দফা সুপারিশ পাঠিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), যার বড় অংশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন। ডিএই খুলনার উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম গত মাসে সুপারিশগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠান।
অধিদপ্তরের হিসাবে, খুলনা জেলায় প্রায় ৯ হাজার ৭৬৪ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি পড়ে থাকে, ফলে রবি মৌসুমে বোরো আবাদ ব্যাহত হয়। বর্ষায় পানি নামতে না পারায় সবজি, মরিচ, তরমুজ আর আমনের বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি অতিবৃষ্টিতে আউশ, গ্রীষ্মকালীন সবজি, মরিচ, তরমুজ ও রোপা আমনের বীজতলা নষ্ট হয়; শুধু সবজিই নষ্ট হয়েছে প্রায় ২৩৫ হেক্টরে।
সুপারিশে যে খালগুলো পুনঃখননের কথা বলা হয়েছে: হামকুড়া থেকে ময়ূর নদ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার, হড়হড়িয়া থেকে মধুগ্রাম ৪ কিলোমিটার, কাটেঙ্গা থেকে টোলনার নারায়ণ খাল ২ কিলোমিটার, বরুণা বিল থেকে হোগলাখাটি ২৫ কিলোমিটার, রুদাঘরা থেকে মধুগ্রাম ৩ কিলোমিটার, বিল তাওয়ালিয়া থেকে কেওড়াতলা ৮০০ মিটার এবং আদিরখাল সাড়ে ৫ কিলোমিটার।
দপ্তরের তথ্যমতে, জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণ অনেক: অতিরিক্ত বৃষ্টি, চাঁদখালী খাল ভরাট, পাইকগাছার স্লুইসগেটের অব্যবস্থাপনা, খাস খাল উন্মুক্ত না থাকা, নিচু জমি থেকে পানি নামার পথ কমে যাওয়া, আঠারোবেকি নদীর প্রবাহ কমা এবং অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের। নরনিয়া বিলের গভীরতা আর অপরিকল্পিত রাস্তা, সেতু ও কালভার্টও পানি নামতে বাধা দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডিএই খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে। জলাবদ্ধ জমি আবাদে ফিরলে খুলনার কৃষকেরা বোরো আর রবি ফসলের জমি ফিরে পাবেন। খবরটি দিয়েছে এগ্রিকেয়ার২৪ ডেস্ক।
ছবি: Nasim331 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)