খাল পুনঃখননে নিচু এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা কমা আর পরিমিত বৃষ্টির সুবাদে খুলনা অঞ্চলের চার জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে এবার রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। মাঠে ধানের বৃদ্ধি দেখে কৃষকেরা ফলন নিয়ে আশাবাদী; স্থানীয় বাজারে মোটা আমন ধান মণপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রির আশা করছেন প্রান্তিক চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, চার জেলায় আমনের লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ৮৯ হাজার ৮৫৯ হেক্টর; আবাদ হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১০ হেক্টরে, অর্থাৎ ১৫১ হেক্টর বেশি, লক্ষ্যের ১০০ দশমিক ১ শতাংশ। অঞ্চল থেকে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৪ টন চাল, ধানের হিসাবে ১২ লাখ ৮৫ হাজার ৪৬১ টন উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। ৭৫ হাজার ৪০০ কৃষককে ইতিমধ্যে ছয় কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে খুলনায় ৮৮ হাজার ৩৫১ হেক্টর লক্ষ্যের বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮৭ হাজার ৪৬৯ হেক্টরে; লক্ষ্য ৪ লাখ ৮ হাজার ৩০৮ টন ধান ও ২ লাখ ৭২ হাজার ২০৫ টন চাল। বাগেরহাটে ৬৮ হাজার ৮৯৩ হেক্টর লক্ষ্যের বিপরীতে আবাদ ৬৮ হাজার ৭০৬ হেক্টর; প্রত্যাশা ২ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৮ টন ধান ও ১ লাখ ৮১ হাজার ১২৫ টন চাল।
সাতক্ষীরায় ৮৯ হাজার ১৫০ হেক্টর লক্ষ্যের বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৯০ হাজার ১৬০ হেক্টরে, সেখান থেকে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ টন ধান ও ২ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫৩ টন চালের হিসাব। নড়াইলে ৪৩ হাজার ৪৬৫ হেক্টরের লক্ষ্যের বিপরীতে চাষ হয়েছে ৪৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টরে; সেখানে ২ লাখ ৬ হাজার ৬৮৬ টন ধান ও ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯১ টন চাল মিলবে বলে ধারণা কৃষি কর্মকর্তাদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি খাল পুনঃখনন উদ্যোগে উপকূলের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে, আর অনুকূল আবহাওয়া ও সুষম বৃষ্টিতে ফলন আশাতীত। চাষিরা এখন মাঠে আমনের নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত; এবার ধানের ন্যায্য ও ভালো দাম মিলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ছবি: Masum Ibn Musa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)