দোচালা বসতঘর। সামনে একটি বড় উঠান। এ উঠানে রোপণ করা হয়েছে বেগুন, টমেটো, কাঁচা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া। আর বসতঘরের দুই পাশে শিম গাছ। এসব গাছ ফুল-ফলনে ভরা। যা ছোট্ট একটি পরিবারে সবজির জোগান দিচ্ছে। এছাড়া উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে কৃষক।
রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) চত্বরে এমনই একটি প্রতীকী বসতবাড়ি তৈরি করে কৃষি মন্ত্রণালয়। জাতীয় সবজি মেলা-২০২২ উপলক্ষে তৈরি হয় এটি। যার নাম 'বসতবাড়িতে পুষ্টি বাগান'।
সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মেলার উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তিন দিনব্যাপী মেলার এবারের প্রতিপাদ্য 'নিরাপদ সবজি চাষ, স্বাস্থ্য পুষ্টি ১২ মাস।'
মেলা সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য প্রদর্শনসহ বিক্রি হচ্ছে সবজি। ১২টি সরকারি ও ৩৫টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে মেলায়।
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ঢুকতেই হাতের বা পাশে সবুজ চত্ত্বরে এই মেলা বসেছে। বিকেল ৩টায় মেলা উদ্বোধনের পর সেখানে ভিড় লেগে যায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। সবজি কর্নারগুলোতে চলছে বেচাকেনা। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় সবজি প্ল্যান্টে।
বাড়ির চারপাশে বর্ষার পানি। বসতঘর ছাড়া সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসারে সবজি জোগান দিতে কচুরিপানার ওপর ভাসমান সবজির প্ল্যান্ট কীভাবে তৈরি করতে হয় তাই দেখানো হয়েছে।
এছাড়া কীটনাশক ছাড়া পোকা দমনে কী পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়- এমন অনেক প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন।
মেলা দেখতে মোহাম্মদপুর থেকে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে খামারবাড়ি আসেন মাহমুদ আক্তার। তিনি বলেন, প্রতিবছরই মেলা দেখতে আসি। নিরাপদ সবজি কেনাকাটা করি। বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেই বাচ্চাদের। তবে এবার কৃষি খামারের প্ল্যান্টগুলো বেশি আকৃষ্ট করেছে।
মেলায় প্রতীকী ছাদ বাগানের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন ফার্মগেটের মনিপুরীপাড়ার বাসিন্দা আকিব হোসেন। তিনি বলেন, এ মেলায় একটি আদর্শ ছাদ বাগানের মডেল দেখলাম। কীভাবে ছাদবাগান করতে হয় তা শিখলাম। এখন নিজের বাড়িতে এমন একটি বাগান করার চেষ্টা করবো।
ফুলকপি, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনে মিরপুরের বাসায় ফিরছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা রায়হান রাজু। তিনি বলেন, এই মেলায় নিরাপদ সবজি মেলে। তাই বাসার জন্য কিনলাম কিছু সবজি।
মেলায় বড় একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন করেছে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন। করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক রহমত আরা বলেন, মেলায় সবজির পুষ্টিমান, উপকারিতা, উৎপাদন থেকে শুরু করে খাওয়া পর্যন্ত সবজি নিরাপদ রাখতে করণীয় ও সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসম্মত খাবার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার। এছাড়া নিরাপদ সবজির জন্য সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষক-উৎপাদক, ভোক্তা, পরিবহনকারী, প্রক্রিয়াজাতকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন। এ ধরনের মেলা জনসচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
এমএমএ/জেডএইচ/জেআইএম





মন্তব্য
(০)