সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৯৬%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৩ মিমি

ঝরে পড়া ধানে লাখপতি হওয়ার স্বপ্ন সুলতানের

কোনো প্রকার জমি চাষাবাদ বা রোপণ প্রক্রিয়া ছাড়াই খুলনার রূপসায় কাটা ধানের শীষ থেকে ঝরে পড়া বীজ থেকে ধান উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক সুলতানুর রহমান। তার এই সাফল্য দেখে তার অনুকরণে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এলাকার অন্যান্য কৃষকরা। সুলতানের কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা

ফসল

কোনো প্রকার জমি চাষাবাদ বা রোপণ প্রক্রিয়া ছাড়াই খুলনার রূপসায় কাটা ধানের শীষ থেকে ঝরে পড়া বীজ থেকে ধান উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক সুলতানুর রহমান। তার এই সাফল্য দেখে তার অনুকরণে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এলাকার অন্যান্য কৃষকরা। সুলতানের কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার জাবুসা বিলজুড়ে কোথাও পাকা ধান নেই। পাকা ধানের সময়ও এখন নয়। চোখ যেদিকে যায় সেদিকেই রোপা সবুজ ধানের চারার সমারহ। সেই বিলের এক প্রান্তে সুলতানুর রহমানের জমিতে সোনালী ধানের ঝনঝনানি ও অপরূপ দৃশ্য নজর কাড়ছে অন্যান্য কৃষকসহ সাধারণ মানুষের। খবর শুনে দূর-দূরান্তের কৃষকরা আসছেন তার ধান উৎপাদনের গোপন রহস্য জানতে।

গত বছর উপজেলার জাবুসা গ্রামের সুলতানুর রহমান ১০ একর জমিতে বোরো মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষ করেন। পাকা ধান কাটার কয়েকদিন পর ঝরে পড়া ধান থেকে চারা গজায় জমিতে। একসময় ওই চারা থেকেও ধান ফলে। কোনো প্রকার চাষাবাদ বা জমির পরিচর্যা ছাড়াই সেবছর ৯০ মণ ধান পান সুলতানুর রহমান। আশায় বুক বাঁধেন তিনি। এ বছরও তার ওই ১০ একর জমিতে ঝরে পড়া ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে।

কৃষক সুলতানুর রহমান বলেন, গত বছর বোরো মৌসুমে ধান কাটার পর ঝরে যাওয়া ধান থেকে চারা গজায়। চাষাবাদ বা পরিচর্যা ছাড়ায় ওই জমি থেকে প্রায় ৯০ মণ ধান পাই। বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, এ বছর কৃষি অফিসার ফরিদুজ্জামানের পরামর্শ ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমাদ্রী বিশ্বাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জমিতে ঝরে পড়া ধানের সঙ্গে আরও দুই মণ বীজ ধান জমিতে ছড়িয়ে দিই। এরপর সুন্দরভাবে ধানের চারা গজিয়ে ওঠে। পরে কিছু আগাছা পরিষ্কার করিয়ে সামান্য সার ছিটিয়ে দিই। সব মিলিয়ে ১০ একর জমিতে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বোরো মৌসুমে যে পরিমাণ ধান হয়েছিল, এই সময়ও কোনো প্রকার চাষাবাদ বা বাড়তি খরচ ছাড়াই প্রায় সমপরিমাণ ফলন আশা করা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আশা করছি এ বছর কমপক্ষে সাড়ে তিনশো মণ ধান পাবো। যার বাজার দর সাড়ে তিন লাখ টাকা। এছাড়া আরও প্রায় এক লাখ টাকার খড়-কুটো বিক্রি হবে।

সুলতানুর রহমান বলেন, উফশী জাতের ব্রি ধান-৯৯ জাতের ধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত। আমি উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে নতুন জাতের বীজ পেয়েছি। এর মধ্যে আরও দু'টি জাত রয়েছে। এগুলো হলো- ব্রি ধান-৯২ ও ব্রি ধান-৬৭। তবে কেউ যদি আমার এই পদ্ধতি অনুসরণ করে তাহলে তাকে উফশী ব্রি-৯৯ জাতের ধান চাষ করতে হবে। এতে ভালো ফলন পাবে।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমাদ্রী বিশ্বাস বলেন, গত মৌসুমে ঝরে পড়া ধান থেকে চারা গজানোর খবর পেয়ে আমরা জমিতে এসে দেখি এতে ফসল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন আমরা পরবর্তী বছর ঝরা ধান থেকে আরও ভালো ফলন কীভাবে আনা যায় সে ব্যাপারে পরিকল্পনা করি। তারই আলোকে এ বছর কৃষককে ঝরে পড়া ধানের সঙ্গে আরও কিছু বীজ ধান ও সার ছোনানোসহ আগাছা পরিষ্কার করার পরামর্শ দিই। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে যে ধান হয়েছে তা বোরো মৌসুমের চেয়ে কম না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, কোনো প্রকার চাষাবাদ বা বাড়তি খরচ ছাড়া সহজ পদ্ধতিতে চাষি সুলতানুর রহমানের জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে। তার জমিতে চাষ করা উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-৯৯ জাতটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দুই বছর আগে আবিস্কার করেন। এই জাতটি লবণাক্ততা সহিষ্ণু এবং উঁচু বা নিচু যেকোনো জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব। হাইব্রিডের মতো অধিক ফলনও হয়।

তিনি বলেন, সুলতানুর রহমানের ঝরা ধান চাষের এই খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিচ্ছেন। তবে সুলতানুর রহমানের এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আউশ মৌসুমে একদিকে অল্প খরচে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হবেন অন্যদিকে দেশের খাদ্য চাহিদা মিটবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কোহিনুর জাহান বলেন, কৃষিখাতের উন্নয়নে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্প ও সংস্থার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। সে আলোকে রূপসা উপজেলায় কৃষিখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জাবুসার সুলতানুর রহমান ঝরে পড়া ধান থেকে যে ফসল উৎপাদন করেছেন তাতে কৃষি উন্নয়নে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। অন্যান্য কৃষকরা জমি ফেলে না রেখে এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি চাষিরা লাভবান হবেন।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ক্যামেরায় সয়াবিনের রোগ ধরা পড়ে দেরিতে, লক্ষণের আগেই সংকেত চান InnerPlant-এর বিজ্ঞানীরা

InnerPlant-এর দুই বিজ্ঞানীর মত, ড্রোন, ক্যামেরা বা এআই—সবই সয়াবিনের ছত্রাক রোগ ধরে লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরে, যখন স্প্রে করার সময় পেরিয়ে গেছে; তাঁদের প্রস্তাব, সংক্রমণের প্রায় ১০ দিন আগেই সংকেত দিতে পারে এমন গাছ।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

ট্রাক্টরের গতিতে মাটির এনপিকে মানচিত্র: ১ কোটি ২৫ লাখ ডলার তুলল TerraBlaster

মঙ্গলযানে প্রথম ব্যবহৃত লেজার-প্রযুক্তিতে ট্রাক্টর চলার সঙ্গে সঙ্গে মাটির নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও পিএইচ পড়া TerraBlaster ২০২৭ সালে বাণিজ্যিক বিক্রির আগে Ulu Ventures-এর নেতৃত্বে ১ কোটি ২৫ লাখ ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৫ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফসল

কৃষি নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের ১৮০ দিন

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি কৃষি। অথচ ন্যায্যমূল্য, মানসম্মত সার-কীটনাশক, সেচ, কৃষিঋণ ও শস্যবীমা পেতে কৃষক দীর্ঘদিন অবহেলিত। কৃষকের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

শাইখ সিরাজ২২ আগস্ট ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()