এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মৌসুম পার করছে ইন্দোনেশিয়া। ধোঁয়া প্রতিবেশী দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, আর চলমান সুপার এল নিনোর শুষ্ক আবহাওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন করে তুলতে পারে, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ।
ইন্দোনেশিয়ার আগুন পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম নুসান্তারা অ্যাটলাসের হিসাবে ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দাবানলের হটস্পট ধরা পড়েছে ১০,৬১,৭৪৬টি, যা তুলনার মধ্যে আগের সবচেয়ে খারাপ বছর ২০১৯ সালের ৮,৮৫,০৩৭টিকে ছাড়িয়ে গেছে। আগস্ট পর্যন্ত পুড়েছে ৮,৯৫,৬৫৭ হেক্টর; ২০১৯ সালে পুরো বছরে পুড়েছিল ২৬,৩১,৪৬৯ হেক্টর।
ডাউন টু আর্থের উদ্ধৃত বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দূষিত গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণাভরা ধোঁয়া ইন্দোনেশিয়ার আবাসিক এলাকা এবং প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পৌঁছে বাতাসের মান খারাপ করছে, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিবিসিকে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি সংস্থা ও কর্মকর্তারা বলেছেন, বড় কোম্পানিগুলোর আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কার আর এল নিনোর অস্বাভাবিক খরা এর মূল কারণ। ইন্দোনেশিয়ায় আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কার নিষিদ্ধ, তবে আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়ার চিত্র দেখানো প্ল্যাটফর্ম উইন্ডির অ্যারোসল মানচিত্রে আগুনের এলাকার ওপর বাতাসে কণার উচ্চ ঘনত্ব দেখা গেছে, ধোঁয়া ভারত মহাসাগরের দিকে ভেসে যাচ্ছে। ধোঁয়া বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে ভারতে পৌঁছাতে পারে কি না, তা এখনো দেখার বিষয় বলে লিখেছে ডাউন টু আর্থ।
ইন্দোনেশিয়ার পিটভূমি ও বাগানের জমির আগুন ভূমি ব্যবহার, কৃষিজমি সম্প্রসারণ আর জলবায়ুকে এক সুতোয় বাঁধে; খরার এল নিনো বছরে পরিষ্কার করা জমি জ্বালানিতে পরিণত হয়, যার মাশুল দেয় জনস্বাস্থ্য আর ধোঁয়ার মধ্যে বাস করা কৃষকেরা। প্রতিবেদনটি করেছেন অক্ষিত সাংগোমলা (Akshit Sangomla)।
ছবি: NASA Earth Observatory, Jeff Schmaltz, LANCE/EOSDIS Rapid Response / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)