সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৯%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ভারতে কৃষকের আগ্রহ হারাচ্ছে ‘হলুদ সোনা’

ভারতে কৃষকের আগ্রহ হারাচ্ছে 'হলুদ সোনা' খ্যাত সয়াবিন। বিভিন্ন কারণে তারা এখন সয়াবিন চাষে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ভারতে কৃষকের আগ্রহ হারাচ্ছে 'হলুদ সোনা' খ্যাত সয়াবিন। বিভিন্ন কারণে তারা এখন সয়াবিন চাষে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মধ্য প্রদেশের ইন্দোরে মুরাদপুরা গ্রামের তরুণ কৃষক অরবিন্দ সিং রাঠোর এখন কৃষি ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে চান। কারণ, সয়াবিন চাষে আর লাভ নেই বলে জানান তিনি। অরবিন্দের পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে সয়াবিন চাষ করছে। কিন্তু বর্তমানে ফলন অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে, দামও ১৫ বছর আগের তুলনায় কম।

অরবিন্দের কথায়, এখন প্রতি একরে দুই থেকে আড়াই কুইন্টাল ফলন হয়, একসময় চার কুইন্টালেরও বেশি হতো। দামও এক হাজার রুপি কম। বিকল্প ফসল, যেমন- ভুট্টা চাষ করলেও নীলগাইয়ের উপদ্রব আছে।

আরও পড়ুন>>ট্রাম্পের শুল্কনীতি: মার্কিন সয়াবিন চাষিরা হতাশ, উচ্ছ্বসিত ব্রাজিলআর্জেন্টিনা থেকে সয়াবিন কিনছে চীন, চাপে মার্কিন কৃষকরাসয়াবিন সম্পর্কে যে ৫ তথ্য আপনার জানা প্রয়োজন

তিনি বলেন, সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি করে, তাহলে দেশীয় কৃষকরা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

চলতি খরিফ মৌসুমে ভারত সরকার প্রতি কুইন্টালে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) ৫ হাজার ৩২৮ রুপি ঘোষণা করলেও ইন্দোরের ছাওয়ানি বাজারে কৃষকেরা মাত্ তিন হাজার রুপি দরে সয়াবিন বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। 'সরকার বলছে এমএসপি দিচ্ছে, কিন্তু আমরা পাচ্ছি অর্ধেকেরও কম,' বলেন অরবিন্দ।

সরকারি তথ্যমতে, ২০২৫ সালের খরিফ মৌসুমে ভারতে তেলবীজ চাষের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় এক কোটি ছয় লাখ হেক্টর কমেছে, যার মধ্যে শুধু সয়াবিনেই কমেছে নয় লাখ হেক্টরেরও বেশি। ভারতের মোট সয়াবিন উৎপাদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি হয় মধ্য প্রদেশে।

দিলীপ সিং নামের আরেক কৃষক বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা আগে মিলেট আর ডাল চাষ করতেন। সরকার আমাদের সয়াবিনে উৎসাহিত করেছিল। এখন মিলেটের দাম বেড়েছে, সয়াবিনের দাম কমেছে। তিনি জানান, ২০১৪ সালে যেখানে কুইন্টালপ্রতি দাম ছিল ৪ হাজার ২০০ রুপি, এখন তা নেমে এসেছে ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ রুপিতে।

সরকারি 'ভবন্তর ভূগতান যোজনা' নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষকেরা। অরবিন্দ বলেন, এটা প্রতারণা। সরকার এক দাম বলে, বাস্তবে আরেক দাম দেয়। প্রতি একরে ইনপুট খরচই আট থেকে ১০ হাজার রুপি, তার ওপর মেশিন চালাতে লাগে তিন হাজার রুপি পর্যন্ত।

সয়াবিন প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এসওপিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক ডি.এন. পাঠক সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি শুরু হয়, তাহলে আমাদের শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে, কৃষকরাও টিকতে পারবে না। তিনি বলেন, আমরা এখন প্রতি টনে ৬২০ ডলারে সয়াবিন উৎপাদন করি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দাম ৩৮০ ডলার। যদি আমদানি শুরু হয়, দেশীয় পণ্য বিক্রি হবে না।

সংযুক্ত কৃষাণ মোর্চা (এসকেএম)-এর সদস্য কেদার সিরোহি জানান, মধ্য প্রদেশের অর্থনীতি সয়াবিনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নিম্নমানের বীজ ও বাজারদরের পতনের কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমছে। তার হিসাব অনুযায়ী, এবারের ফলন গত বছরের তুলনায় ২০ লাখ মেট্রিক টন কম হতে পারে।

ছাওয়ানি শস্যবাজারের ব্যবসায়ী কৈলাশ পারথানি বলেন, আগে মাসে ছয় হাজার টন পর্যন্ত সয়াবিন বিক্রি হতো, এখন তা দুই হাজার টনে নেমে এসেছে। আমদানি হলে ব্যবসায়ী ও কৃষক—দু'পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সূত্র: দ্য হিন্দুকেএএ/

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

মতামত

ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগে বিশেষ বিসিএসের পক্ষে দুই বিশেষজ্ঞের যুক্তি

ইত্তেফাকে প্রফেসর ড. মো. বাহানুর রহমান ও ডা. আর এস মাহমুদ হাসান লিখেছেন, প্রতি উপজেলায় চারজন ভেটেরিনারি সার্জন ও প্রতি ইউনিয়নে একজন ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগের ঘোষণা কাজে লাগাতে তথ্যভিত্তিক জনবল পরিকল্পনা ও বিশেষ বিসিএস দরকার।

ইত্তেফাক১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

ওজন কমানোর ওষুধে বদলাচ্ছে মার্কিন বাজার, চাহিদা বাড়ছে মুরগি আর অল্প পরিমাণ ভালো গরুর মাংসে

কোব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান আর্নেস্ট বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চার পরিবারের একটিতে জিএলপি-১ ওষুধ সেবনকারী আছেন; তাঁরা আমিষবহুল মুরগি আর ছোট পরিমাণের ভালো মানের গরুর মাংস বেশি কিনছেন।

মিশিগান এজি টুডে৩১ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

বন্যার আগেই সহায়তা: দক্ষিণ সুদানে এফএও ও ডব্লিউএফপিকে ২১ লাখ পাউন্ড দিল যুক্তরাজ্য

এল নিনোর সম্ভাব্য বন্যা ও খরার আগে জঙ্গলেই, ইউনিটি ও আপার নাইলে আগাম সতর্কতা, নগদ সহায়তা, জীবিকা সুরক্ষা ও ত্রাণসামগ্রী মজুতে এই অর্থ খরচ হবে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত।

ডব্লিউএফপি৩১ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)