ভারতের বড় শহরগুলোর ৯৪ শতাংশ মানুষ কালচার্ড মাংস, অর্থাৎ পশু পালন না করে প্রাণীর কোষ থেকে তৈরি মাংস চেখে দেখতে ও কিনতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে গুড ফুড ইনস্টিটিউট (জিএফআই) ইন্ডিয়ার নতুন গবেষণা। নয়াদিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের নিয়ে আটটি দলগত আলোচনা এবং ৪১৪ জনের অনলাইন জরিপের ভিত্তিতে এই গবেষণা।
উত্তরদাতাদের ৯১ শতাংশ কালচার্ড মাংসকে আকর্ষণীয় মনে করেন, ৫২ শতাংশ ধারণাটিকে 'চমৎকার' বলেছেন। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মনে করেন এটি প্রাণী ও পৃথিবীর জন্য প্রচলিত মাংসের চেয়ে ভালো; ৬৯ শতাংশের মতে খাওয়া বেশি নিরাপদ, ৬৩ শতাংশের মতে বেশি স্বাস্থ্যকর, ৬১ শতাংশের মতে বেশি পুষ্টিকর। পছন্দের শীর্ষে মুরগি, ৯৪ শতাংশ কালচার্ড মুরগি খেতে রাজি; এরপর খাসি বা ভেড়ার মাংস (৭৮ শতাংশ) ও মাছ (৬১ শতাংশ)।
প্রচলিত মাংস নিয়ে ক্রেতাদের দুশ্চিন্তাও আগ্রহের একটি কারণ: ৪৬ শতাংশ তাজা ভাব ও মান নিয়ে, ৩৯ শতাংশ রোগ, দূষণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এবং এক-তৃতীয়াংশ অ্যান্টিবায়োটিক ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বেশির ভাগই কালচার্ড মাংসকে প্রচলিত মাংসের পরিপূরক হিসেবে দেখেন; ৫২ শতাংশ দুটোই খেতে আগ্রহী।
সবচেয়ে বড় বাধা দাম, বলেছেন ৩৫ শতাংশ; বাড়তি দাম তাঁরা দিতে চান মাত্র ১৫-২০ শতাংশের মতো। সহজলভ্যতা (২৭ শতাংশ), উপকরণ (২৪ শতাংশ), কৃত্রিম প্রক্রিয়া (২০ শতাংশ) ও নিরাপত্তা (১৮ শতাংশ) নিয়েও প্রশ্ন আছে। জিএফআই ইন্ডিয়ার মতে আস্থাই মূল; ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মানদণ্ড কর্তৃপক্ষের (এফএসএসএআই) অনুমোদন ও তৃতীয় পক্ষের সনদ সবচেয়ে বড় ভরসা। ক্রেতারা অনলাইনে কাঁচা কিনে বাড়িতে রান্না করতে চান, যদিও বিদেশে অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আগে রেস্তোরাঁয় বিক্রির পথ নিয়েছে।
জিএফআই ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহা সিং বলেন, ভারতে মাংসের চাহিদা যত বাড়ছে, কালচার্ড মাংসের মতো উদ্ভাবনী খাদ্যপ্রযুক্তি পছন্দের খাবার না ছেড়েই টেকসইভাবে সেই চাহিদা মেটাতে পারে। ভারতের স্টার্টআপগুলো এখনো নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায়।
প্রতিবেদনটি গ্রিন কুইনের জন্য লিখেছেন আনায় মৃদুল।
ছবি: World Economic Forum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)