পূর্ণকালীন কৃষক হিসেবে ব্রেট পেশেকের (Brett Peshek) প্রথম কয়েক সপ্তাহই তাঁর ভবিষ্যৎ প্রায় শেষ করে দিয়েছিল। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কর্পোরেট কৃষিবিদের চাকরি ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যে নিজের খামারের একটি শূকর তাঁকে গুরুতর আহত করে—স্বাস্থ্যবিমা ছাড়াই সারতে হয়। এক মাস না যেতেই আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে শরতের জন্য জমানো ৩০০ একরের ঘাস মাটিতে মিশে যায়। ওকলাহোমার এনিডে এক সংরক্ষণ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভেবেছিলেন হামাগুড়ি দিয়ে ফিরে গিয়ে পুরোনো চাকরিটাই চাইতে হবে—জানাচ্ছে ফার্ম প্রোগ্রেস।
নেব্রাস্কার ছোট এক খামারে বড় হওয়া পেশেক কৃষিবিদ্যা ও উদ্যোক্তাবৃত্তিতে ডিগ্রি নিয়েও নিজের রাজ্যে জমি কিনতে পারেননি; ২০১৬ সালে ওকলাহোমায় গিয়ে গ্রিন কাভার সিড কোম্পানিতে চাকরি নেন। পাশাপাশি ভাড়া জমিতে গরু চরানো শুরু করেন, আর মৌখিক বছরওয়ারি ইজারার খেসারত দেন—এক বছরে গরু বেশি, জমি অর্ধেক। ইজারা-নির্ভরতা কমাতে ছোট এক খণ্ড জমি কিনে চাকরির পাশে গরুর ব্যবসা গড়েন।
শিলার পর টিকে থাকার প্রশ্নে নগদ আয়ের পথ খুঁজতে হয়। উত্তর মেলে মুরগিতে। বাণিজ্যিক ডিমের খামার থেকে বাতিল হওয়া মুরগি ৫০ সেন্টে কিনে ১০ ডলারে বিক্রি করেন; প্রথম বছরেই ছয় হাজার মুরগি—বছরে দুবার টাকা পাওয়া খামার হয়ে ওঠে মাসে মাসে আয়ের খামার, যা তিনি আবার খামারেই খাটান।
এই অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর প্রশ্ন জাগে: তিনি কি সত্যিই পুনরুৎপাদনশীল ব্যবস্থায় আছেন, নাকি প্রচলিত খামারে কিছু পুনরুৎপাদনশীল কৌশল জুড়েছেন মাত্র? সার বন্ধ করেছিলেন এক ধাক্কায়, মাটির জীবাণু ও অবশিষ্টাংশে পিছিয়ে ছিলেন। অঞ্চলের প্রাকৃতিক ইতিহাস—পরিযায়ী বাইসন আসত-যেত, হরিণ ও অ্যান্টিলোপ থাকত এক জায়গায়—দেখে তাঁর মনে হয় গরুই সবচেয়ে কম দক্ষ পশু। ভেড়া চলে আসে খামারের কেন্দ্রে, তারপর শূকর ও মুরগি; প্রেইরির নকল করতে স্টকার গরু আনা হয় শুধু স্বল্পমেয়াদি চরানোর জন্য।
ভেড়া, শূকর ও মুরগির দ্রুত আয়ে বছরে কয়েকবার কাভার ক্রপ বোনা সম্ভব হয়; সস্তায় কেনা পুরোনো কম্বাইনে তার বীজ তোলা শুরু হয়। সেখান থেকেই জন্ম ফুশন এগ (Fusjon Ag) বীজ কোম্পানির, যা এখন ৮০ হাজার একরে বোনার মতো কাভার ক্রপ ও বিশেষ বীজ উৎপাদন করে এবং একাধিক পূর্ণকালীন কর্মী রাখে। পেশেকের কথায়, সারি ফসল হোক বা সবজি, আমরা সবাই আসলে শক্তির চাষি—প্রকৃতির শক্তি তুলে এনে তা আয়ে রূপান্তর করাই খামারের কাজ।
সূত্র: Farm Progress





মন্তব্য
(০)