নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের শারমিন আক্তার এখন লেয়ার মুরগির খামার গড়ছেন। তার খামারে কাজী ফার্মসের লাল পুলেট জাতের প্রায় ২ হাজার মুরগি আছে, বয়স প্রায় সাড়ে তিন মাস। বাচ্চা, খাবার, ওষুধ ও পরিচর্যা মিলিয়ে এ পর্যন্ত তার বিনিয়োগ প্রায় সাত লাখ টাকা।
শুরুটা সহজ ছিল না। মুরগি পালনের উদ্যোগ প্রথমে নিয়েছিলেন তার স্বামী মুনছুর রহমান। আশানুরূপ ফল না আসায় খামারের দায়িত্ব নেন শারমিন, স্বামীর কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা নিয়ে। প্রায় সাত বছর আগে ২ হাজার ৪০০ সোনালি মুরগি দিয়ে শুরু করা সেই প্রথম ব্যাচেই প্রায় এক লাখ টাকা লোকসান হয়।
লোকসানের পর তিনি খরচ কমানো, রোগবালাই সামলানো আর ভুলগুলো চিহ্নিত করার কাজে মন দেন। এরপর ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি পালন করে ধীরে ধীরে লাভ পান। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই এবার লেয়ারে এসেছেন তিনি। এখন খাবার, ওষুধ ও পরিচর্যায় মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হচ্ছে; বাজার অনুকূলে থাকলে ভালো আয় হবে বলে তার আশা।
চার সদস্যের সংসার আর খামার একসঙ্গে সামলান শারমিন। গুরুদাসপুরের বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছেন, চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজের কাজ বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসাসেবা, টিকা, ঋণ আর বাজারজাতকরণে সরকারি সহায়তা পেলে খামারটি আরও বড় করতে চান।
তার মতে, শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা কেবল চাকরির ওপর নির্ভর না করে ছোট পরিসরে হলেও উদ্যোগ নিতে পারেন; পরিশ্রম, পরিকল্পনা আর ধৈর্য থাকলে ছোট খামার থেকেও আয় তৈরি করা যায়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারজানা বলেন, গুরুদাসপুর মুরগি পালনের উপযোগী এলাকা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর খামারিদের টিকা, রোগ প্রতিরোধ ও পরামর্শ দেয়। তবে বর্ষায় ঠান্ডা, জ্বর ও আমাশয়ের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে, তাই এ সময় খামার পরিষ্কার রাখা আর বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদনটি করেছেন মেহেদী হাসান শাওন।
ছবি: Brian Johnson ও Dane Kantner / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)