সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৯৫%বাতাস কিমি/ঘ

গৃহিণী থেকে দেশসেরা কৃষক সাহিদা

নাম সাহিদা বেগম। বয়স ৪৪ বছর। একজন পুরোদস্তুর কৃষক। ফরিদপুর পৌরসভার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহিদা বেগম শুধু একজন সফল কৃষকই নন, তিনি দেশসেরা কৃষক। ফরিদপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় উন্নত জাতের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে পরিচিতি পেয়েছেন। নারী কৃষক সাহিদা বেগম ২০২১ সালে এআইপি হয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের

লাইভস্টক

নাম সাহিদা বেগম। বয়স ৪৪ বছর। একজন পুরোদস্তুর কৃষক। ফরিদপুর পৌরসভার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহিদা বেগম শুধু একজন সফল কৃষকই নন, তিনি দেশসেরা কৃষক। ফরিদপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় উন্নত জাতের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে পরিচিতি পেয়েছেন। নারী কৃষক সাহিদা বেগম ২০২১ সালে এআইপি হয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি উৎপাদন বা বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প শ্রেণিতে তিনি এ সম্মান পেয়েছেন। ২০২০ সালে তিনি অনন্যা শীর্ষ দশ নির্বাচিত হন। একই বছর দেশের সেরা কৃষক হিসেবে পেয়েছেন স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড চ্যানেল আই অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ডসহ নানা স্বীকৃতি।

ফরিদপুর কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনকারী কৃষকদের তালিকায়ও তিনি সেরা। চলতি বছর তিনি পেঁয়াজের বীজ বিক্রি করেছেন কমপক্ষে চার কোটি টাকার। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে সাহিদা বেগমের আয় হয়েছে তিন কোটি টাকার মতো।

সাধারণ আর পাঁচটি গৃহিণীর মতোই ছিল তার জীবন। পড়ালেখা করেছেন নবম শ্রেণি পর্যন্ত। গৃহিণী তকমা পেছনে ফেলে তিনি এখন সফল নারী কৃষক। দেশে কৃষিতে যে ক'জন নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন সাহিদা বেগম তাদের প্রথম কাতারে। পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে তিনি অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন। পেঁয়াজের বীজ তাকে করেছে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা। সাহিদা বেগম এখন কোটিপতি।

সাহিদা বেগমের বাড়ি ফরিদপুর পৌরসভার গোবিন্দপুর গ্রামে। তার স্বামীর নাম বক্তার হোসেন খান। ১৯৮৭ সালে বিয়ে হয় এই দম্পতির। স্বামী মো. বক্তার হোসেন খান একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের কর্মকর্তা। তাদের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মেরিনা আক্তার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষ করেছেন এবং তিনি বিবাহিত। ছোট মেয়ে মার্জিয়া আক্তার নবম শ্রেণির ছাত্রী।

আরও পড়ুন-

শ্বশুরবাড়ির সবাই কৃষিকাজে জড়িত। সাহিদা বেগম বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি এসেই গৃহস্থালির কাজে হাতেখড়ি হয় শাশুড়ির কাছে। ধানমাড়াই, ঢেঁকিতে ধানভাঙা, গৃহস্থালির কাজ সবই করতেন তিনি। শাশুড়ি জোহরা বেগমের গৃহস্থালির কাজ দেখে দেখে সব কাজে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। ধান, পাট, গম, ছোলা, প্রভৃতি শস্যই চাষাবাদ করত পরিবারটি। ২০০৪ সালের দিকে বাড়ির পাশের এক চাষিকে পেঁয়াজ বীজ চাষ করতে দেখে আগ্রহী হন সাহিদা বেগম। সেই থেকে শুরু। প্রথম বছর ২০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেন। সেবার দুই মণ পেঁয়াজ বীজ পান সাহিদা বেগম। তা বিক্রি করে পান ৮০ হাজার টাকা। তারপর থেকে তিনি পেঁয়াজ বীজের চাষ বাড়াতে থাকেন এবং সফলতা পান। সর্বশেষ চলতি বছরে ৩০ একর জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেন। এবার ২০০ মণ পেঁয়াজের বীজ পেয়েছেন। যার প্রতি মণের দাম দুই লাখ টাকা। যার মূল্য কমপক্ষে ৪ কোটি টাকা।

স্বামী বক্তার হোসেন খান অফিসের কাজ শেষে সময় পেলে সাহিদা বেগমকে সহযোগিতা করেন। বাকি সবকিছু সাহিদাকেই সামলাতে হয়। সাহিদা বেগমের দিন শুরু হয় ভোর পাঁচটায়। ঘুম থেকে ওঠেন। পরিবারের সদস্যসহ কৃষিশ্রমিকদের জন্য নিজ হাতে রান্না করেন। সকালের খাবার খেয়ে চলে যান মাঠে। মাঠ থেকে বাড়িতে ফিরতে বিকেল গড়ায়। বাড়ির গৃহস্থালির কাজসহ কৃষিকাজ সবই নিজ হাতে সামলান তিনি। সাহিদার জমিতে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করেন ছয় মাস। এছাড়া সারা বছরই অন্তত ২০ জন শ্রমিক থাকেন।

'খান বীজ' নামে নিজের উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজ মোড়কজাত করে বিক্রি করেন সাহিদা বেগম। তার খান বীজ ফরিদপুর জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা কিনতে আসেন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও, রংপুর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, পাবনা, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ জেলায় চাহিদা বেশি। দেশজুড়ে ছড়িয়েছে খান বীজের সুনাম।

পেঁয়াজের বীজ চাষে সাহিদা বেগমের সাফল্য দেখে এ কাজে আগ্রহী হয়েছেন অনেকেই। স্নাতকোত্তর শেষে চাকরি খুঁজছিলেন আবির হোসেন নামে এক যুবক। পরে সাহিদা বেগমের পেঁয়াজ বীজ চাষ দেখে নিজে আগ্রহী হয়ে শুরু করেন পেঁয়াজ বীজ চাষ। তিনি এখন স্বাবলম্বী। এ বছর ২০ মণ পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে বেশ লাভবান হয়েছেন। এরকম অনেকেই সাহিদা বেগমের পেঁয়াজ বীজ চাষ দেখে নিজেরা চাষ করে দেখেছেন সফলতার মুখ।

স্বামী-স্ত্রী মিলে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে ধৈর্যের সঙ্গে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সন্তানের মতো লালনপালন করেন ফসল। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সমানতালে কাজ করে যান তারা। অনেক সমস্যার সৃষ্টি হলেও ধৈর্যের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হয়। ঝুঁকি নিতে হয়। গতবার মৌমাছির আশ্রয়স্থল কমে যায়। ফলে বীজের পরাগায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বীজ ভালো হচ্ছিল না। ফলন কমে গিয়েছিল। তিনিই প্রথম হাত দিয়ে পেঁয়াজের বীজের পরাগায়ন শুরু করেন এবং সফলতা পান।

সাহিদার স্বামী বক্তার হোসেন বলেন, আমার স্ত্রী প্রচণ্ড ধৈর্য নিয়ে, শ্রম দিয়ে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেন। এবারও চাষের জমির পরিমাণ বাড়িয়েছেন। সুফলও তিনি পেয়েছেন। এবার প্রায় একশ একর জমিতে চাষ করেছেন। তিনি দেড় যুগ ধরে পেঁয়াজ বীজ চাষাবাদ করছেন। দুই বিঘা জমি দিয়ে শুরু করে এখন তা বাড়িয়ে একশ একর জমিতে চাষ করছেন। সাহিদা বেগম পেঁয়াজের বীজ চাষ করে পেয়েছেন দেশসেরা কৃষাণীসহ নানা পুরস্কার। তিনি এবার তার খাঁন বীজ থেকে নিয়ে এসেছেন নকশী কাঁথা নামে নতুন এক পেঁয়াজের জাত। তার খাঁন বীজ সারা দেশের মধ্যে আলোচিত এক পেঁয়াজের বীজ।

সাহিদা বেগম বলেন, পেঁয়াজের বীজ চাষ করা সহজ নয়। এটা অন্যান্য ফসলের চেয়ে খুব কষ্টসাধ্য কাজ। শিশুদের মতো লালন-পালন ও যত্ন করতে হয়। একজন নারী হয়েও অনেক কষ্ট করে কৃষিকাজে সফলতা পেয়েছি। অনেকের কটু কথাও শুনতে হয়েছে। কিন্তু তাতে দমে যাইনি। আবহাওয়ার ওপর এ চাষ অনেকটা নির্ভরশীল। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো পেঁয়াজের বীজ পাওয়া যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বিঘা প্রতি দুই থেকে আড়াই মণ পেঁয়াজ বীজ পাওয়া গেছে। প্রতি বিঘা জমিতে এই বীজের আবাদ করতে এক লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়। সেই হিসাবে সবমিলিয়ে তাদের এবার কয়েক কোটি টাকার মতো লাভ থাকবে।

ফরিদপুর বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক (বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র) এস এম ইকরামুল হক জাগো নিউজকে বলেন, সাহিদা বেগম ফরিদপুরের মধ্যে নয়, দেশের মধ্যে ভালো পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনকারী। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। দেশসেরা কৃষক। ফরিদপুর ছাড়াও উত্তরবঙ্গেও অনেক জায়গায় তিনি বীজ উৎপাদনের কাজ করছেন। একজন নারী কৃষক হিসেবে তিনি সমাজ ও দেশের দৃষ্টান্ত।

তিনি আরও বলেন, সাহিদা বেগম প্রায় ১০০ একর জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করেন। এতে দেশের পেঁয়াজ বীজের চাহিদার বেশিরভাগ অংশ তিনি পূরণ করে থাকেন। এবার সাহিদা বেগমের কাছ থেকে কমপক্ষে দুই মেট্রিক টনের মতো পেঁয়াজ বীজ সংগ্রহ করবে সরকার।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এবার প্রায় দশ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মতো। একটা সময় এই বীজের পুরোটাই আমদানি নির্ভর থাকলেও প্রতিনিয়ত দেশে কালো সোনা খ্যাত এই পেঁয়াজ বীজের আবাদ বাড়ছে। বর্তমানে দেশে পেঁয়াজ বীজের ৫০ শতাংশ জোগান দেন ফরিদপুরের চাষীরা। এর মধ্যে সাহিদা বেগম সেরা। তার উৎপাদিত বীজ থেকে সিংহভাগ চাহিদা পূরণ হয়। তার পেঁয়াজ বীজের দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সরকারি সহযোগিতায় শৌখিন পায়রা রপ্তানি সম্ভব

দেশে বাড়ছে শৌখিন পায়রা পালনের বাণিজ্যিক উদ্যোগ। নরসিংদীতে এমনই এক সফল খামার গড়ে তুলেছেন এক উদ্যোক্তা। সেখানে রয়েছে নানা জাতের বিদেশী পায়রা। উদ্যোক্তা বলছেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব শৌখিন পায়রা রপ্তানি করা সম্ভব।

শাইখ সিরাজ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
লাইভস্টক

ডিমের ভেতরেই লিঙ্গ নির্ণয়: পাঁচ বছরে ইউরোপের ৪০ শতাংশ বাজারে, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিধায়

ডিম ফোটার আগেই বাচ্চার লিঙ্গ নির্ণয়ের প্রযুক্তি পাঁচ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের লেয়ার বাজারের শূন্য থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে, পুরুষ বাচ্চা মারার ওপর নিষেধাজ্ঞার জোরে; যুক্তরাষ্ট্রে কেবল প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলো এটি নিয়েছে, খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি দাম দিতে নারাজ।

এজিফান্ডনিউজ ২৪৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

NoFence আনল তৃতীয় প্রজন্মের গবাদিপশুর কলার N3 ও পশুপাল ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম

নরওয়ের ভার্চুয়াল ফেন্সিং কোম্পানি NoFence তাদের তৃতীয় প্রজন্মের গবাদিপশুর কলার N3 বাজারে এনেছে—স্যাটেলাইট ব্যাকআপ আর এমন সফটওয়্যার নিয়ে, যা চারণের হিসাব নিজে লেখে, সময়সূচি ধরে পাল সরায় এবং গরমে আসা গাভি চিহ্নিত করে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()