বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারের সহায়তায় ঘানা সরকার চালু করেছে ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট কম্প্যাক্ট’—একটি জাতীয় কাঠামো, যার উদ্দেশ্য খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য আমদানি কমানো এবং অগ্রাধিকার পাওয়া কৃষি মূল্যশৃঙ্খলে বিনিয়োগ টেনে আনা।
কম্প্যাক্টটি সরকারি ও বেসরকারি পদক্ষেপের একটি সমন্বিত কর্মসূচি দিয়েছে: উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, মূল্য সংযোজন সম্প্রসারণ, বাজার ও অর্থায়নে প্রবেশাধিকার উন্নত করা এবং দেশের কৃষি-খাদ্যব্যবস্থাজুড়ে সহনশীলতা বাড়ানো। অগ্রাধিকার পেয়েছে কোকো, পাম অয়েল, ধান, ভুট্টা ও পোলট্রি; পাশাপাশি সহায়তা পাচ্ছে অন্যান্য কৌশলগত ফসলও।
প্রথম ধাপ চলবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। লক্ষ্য আনুমানিক ২৯ লাখ ৯০ হাজার মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা উন্নত করা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৬ লাখের বেশি কর্মসংস্থানে সহায়তা করা। এই ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার, যা আসবে সরকারি ও বেসরকারি উৎস মিলিয়ে।
বাস্তব মনোযোগ সেসব জায়গায়, যেখানে শৃঙ্খলটি সাধারণত সবার আগে ভাঙে—সেচ, বীজব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ, কৃষকসেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লজিস্টিকস; যাতে আরও বেশি খাদ্য ঘানাতেই উৎপাদিত, প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন হয়, কাঁচা পণ্য হিসেবে দেশ ছেড়ে না যায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এক প্রতিনিধি বলেন, “ঘানার অ্যাগ্রিকানেক্ট কম্প্যাক্ট আরও উৎপাদনশীল, সহনশীল ও কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ খাদ্যব্যবস্থা গড়ার সাহসী পদক্ষেপ। নীতি সংস্কারকে বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত করে ঘানা এমন পরিবেশ তৈরি করছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করবে, কৃষক ও কৃষি-ব্যবসাকে সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি পুঁজির পথ খুলবে।”
সরকারের এক প্রতিনিধি আরও সরাসরি বলেন, “অ্যাগ্রিকানেক্ট হলো ঘানার কৃষি-সম্ভাবনাকে বাস্তব ফলে রূপ দেওয়া: পাতে বেশি খাবার, তরুণদের জন্য বেশি কাজ এবং দেশের ভেতরেই বেশি মূল্য সৃষ্টি।”
বিশ্বব্যাংকের ভাষ্যে, একটি কৌশলপত্রের সঙ্গে কম্প্যাক্টের পার্থক্য এখানেই—এটি নীতি সংস্কার, লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ ও বাস্তবায়ন কাঠামোকে এক ছাতার নিচে আনে, সঙ্গে থাকে সেই সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ, যা সাধারণত ঠিক করে দেয় এমন পরিকল্পনা একটি চাষ-মৌসুম পেরিয়ে টেকে কি না।
সূত্র: বিশ্বব্যাংক





মন্তব্য
(০)