ফরাসি স্টার্টআপ ভার্লি (Verley) প্রিসিশন ফারমেন্টেশন প্রযুক্তিতে দুধের প্রোটিন বিটা-ল্যাক্টোগ্লোবুলিন (বিএলজি) তৈরির কাজ একটি চুক্তিভিত্তিক উৎপাদকের ২ লাখ লিটারের ফারমেন্টেশন ট্যাংকে নিয়ে যাচ্ছে। আগামী বছর বাণিজ্যিক বিক্রি শুরুর পরিকল্পনা আছে। লন্ডনে ফিউচার ফুড-টেক সম্মেলনে এজিফান্ডনিউজকে এ কথা জানান সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্তেফান ম্যাক মিলান (Stephane Mac Millan)।
বিএলজি হলো ঘোলে (হুই) থাকা প্রোটিনগুলোর একটি। ভার্লি এটি দুধ থেকে আলাদা না করে অণুজীব দিয়ে ট্যাংকে তৈরি করে, আর সাধারণ হুই প্রোটিনের সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতায় যায় না। ম্যাক মিলান বলেন, বিশুদ্ধ বিএলজি দিয়ে ১০০ মিলিলিটারের পানীয়তে ২৫ গ্রাম প্রোটিন রাখা যায়, পানীয়টি স্বচ্ছ ও পাতলা থাকে। আবার ইউএইচটি পানীয় দইয়ে প্রোটিন সাধারণত ৯ শতাংশের বেশি তোলা যায় না, তাঁদের প্রোটিনে তা ১৩ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। খাদ্য ও পানীয়তে ২০টির বেশি ব্যবহার আছে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।
তিনি জানান, উৎপাদনের হার ও ফলন নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট। এখন মূল কাজ ফারমেন্টেশনের পরের পরিশোধন ধাপ: ট্যাংকের মিশ্রণ থেকে যত কম ক্ষতিতে সম্ভব শুধু প্রোটিনটুকু আলাদা করা। তাঁর ভাষায়, পরিশোধনের ধাপ যত বেশি, পণ্যের ক্ষতিও তত বেশি।
দাম প্রসঙ্গে ম্যাক মিলান বলেন, ডেনমার্কের দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান আরলা (Arla) দুধ থেকে আলাদা করা বিএলজি কেজিপ্রতি ৪০ ডলারের বেশি দামে বিক্রি করে, ভার্লির দামও তা-ই। উৎপাদন বাড়লে দাম আরও কমানো যাবে বলে তাঁর আশা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জিআরএএস স্বীকৃতির চিঠি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, পরের লক্ষ্য কানাডা, আর ইউরোপে নভেল ফুড প্রক্রিয়ায় দুই-তিন বছরের মধ্যে অনুমোদনের আশা করছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন প্রমাণ চান যে বাজার আছে, গ্রাহক পণ্যটি চাইছেন, আর একই মানে বারবার হাজার হাজার টন উৎপাদন সম্ভব। নিজস্ব কারখানা গড়তে ভেঞ্চার পুঁজি যথেষ্ট নয় বলে ভার্লি এখন চুক্তিভিত্তিক উৎপাদকের ওপর নির্ভর করছে।
দুগ্ধ খামারি ও প্রক্রিয়াজাতকারীদের জন্য ভার্লির অগ্রগতি একটি সংকেত: পশু ছাড়া তৈরি দুধের প্রোটিন কত দ্রুত পরীক্ষাগার থেকে উপকরণের বাজারের দিকে এগোচ্ছে।
ছবি: Adrem68 at Dutch Wikipedia / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)