সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাবারের ভিডিও দেখে শত শত মানুষ কোনো দোকানে ছুটে যাচ্ছেন, অথচ এসব ভিডিওতে খাবারের পুষ্টিগুণ বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা প্রায় থাকে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুড কনটেন্ট যেহেতু মানুষের খাদ্যাভ্যাস বদলাচ্ছে, তাই প্রাসঙ্গিক স্বাস্থ্যতথ্যও দর্শকের কাছে পৌঁছানো দরকার।
কম দামে বেশি খাবারের ভিডিও সবচেয়ে জনপ্রিয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত, ৮০ টাকায় মুরগি-ভাত আর ৬০ টাকায় ডিম-ভাত বিক্রি করে ইউটিউবের ভিডিওর পর পরিচিতি পান "ভাইরাল মিজান" নামে পরিচিত মিজানুর রহমান। কোনো ভিডিওতে ৯৯ টাকায় বাসমতি বিরিয়ানি, কোনোটিতে ১৩০ টাকায় কাচ্চির খবর।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রধান মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ডা. তাসনিম সানওয়ার বলেন, খাবারের কনটেন্টে সাধারণত স্বাদ, দাম ও পরিমাণেই জোর থাকে; নিয়মিত খেলে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা খুব কমই আলোচনা হয়। তার কথায়, "এর অর্থ এই নয় যে ফুড ব্লগারদের চিকিৎসক হতে হবে। বরং ভোক্তারা যাতে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া।"
গবেষণাও এ বিষয়ে সতর্ক করছে। ২০২৫ সালে বিএমজে গ্লোবাল হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন খাদ্য বিপণন শিশু-কিশোরদের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে ৩৬টি গবেষণা দেখা হয়; এর বেশির ভাগই উচ্চ আয়ের দেশের। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিকটক ইনফ্লুয়েন্সারদের ৮ হাজার ৮৭১টি ভিডিও বিশ্লেষণের আরেক গবেষণায় ১ হাজার ৩৬০টিতে খাবার, পানীয় বা সম্পূরক পণ্য পাওয়া যায়, যার ৫৮ শতাংশকে অস্বাস্থ্যকর ধরা যায়।
খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা ওয়াহাব বলেন, কোনো খাবার সুস্বাদু বা দামের তুলনায় ভালো বলা আর স্বাস্থ্যকর বলা এক নয়। স্বাস্থ্যকর বলতে হলে তা পুষ্টিবিজ্ঞানের ভিত্তিতে বলা উচিত, আর কনটেন্ট নির্মাতা পুষ্টি বা চিকিৎসার তথ্য দিলে তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
কনটেন্ট নির্মাতাদের একাংশও এতে একমত। "রায়হানিজম ট্রাভেল অ্যান্ড ফুড"-এর মীর রায়হান মাসুদ বলেন, দেশে হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসের মতো খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগে অনেকে ভুগছেন, তাই বিপুল দর্শকের কাছে পৌঁছানো ফুড ব্লগারদের দায়িত্ব আছে; খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা তেল আছে কি না, সেটিও জানানো উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুক্তা আক্তার বলেন, সব খাবারে সতর্কবার্তার দরকার নেই, তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানলে দর্শক জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রতিবেদনটি করেছেন সুস্মিতা মুন্সী।
ছবি: Faizul Latif Chowdhury / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)