দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য ও পশুখাদ্য উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত প্রোটিন নিশ্চিত করতে প্রচলিত পদ্ধতির বদলে সুনির্দিষ্ট পুষ্টি ব্যবস্থাপনা বা ‘প্রিসিশন নিউট্রিশন’ পদ্ধতি চালু করতে হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্রোটিনের চাহিদা পূরণে খাদ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এফআইএবি) ও ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি) যৌথভাবে দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সুস্থ ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে প্রাণিজ প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, আর নিরাপদ ও মানসম্মত প্রোটিন উৎপাদনের মূল ভিত্তি মানসম্মত পশু ও মৎস্যখাদ্য। উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে প্রোটিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যেতে হবে বলে তিনি জানান।
বিশেষ অতিথি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই খাদ্যের পেছনে যায়। বিজ্ঞানসম্মত খাদ্য ব্যবস্থাপনায় খাদ্য রূপান্তর অনুপাত (এফসিআর) উন্নত করা গেলে খামারিরা সরাসরি উপকৃত হবেন। ফিডের মান নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত নিরাপদ প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদনে অধিদপ্তর কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
এফআইএবির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও কাঁচামালের দামের ওঠানামার কারণে দেশের ফিডশিল্পকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ হতে হবে; সুনির্দিষ্ট পুষ্টি অনুযায়ী খাদ্যের উপাদান নির্ধারণ ও উন্নত কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনাই এ আয়োজনের লক্ষ্য।
সেমিনারে সয়াবিন ও আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে বক্তব্য দেন ইউএসএসইসির বাংলাদেশ বাজারবিষয়ক প্রধান খবিবুর রহমান, পূর্ব এশিয়ার জলজ প্রাণী চাষবিষয়ক প্রধান লুকাস মানোমাইটিস, ঝৌ এনহুয়া (জো) ও সিয়াং পিন ল্যান শান। সভাপতিত্ব করেন কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহতেশাম বি. শাহজাহান।
কারিগরি অধিবেশনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপুষ্টি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান শিশির, এগ্রো সল্যুশনের জলজ প্রাণীর পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শক অং থোয়েন এ এবং বাংলা-ইউকে এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মো. জাহিদুল ইসলাম পোলট্রি ও মৎস্যখাদ্যের আধুনিক প্রস্তুত প্রণালি, খরচ কমানোর কৌশল ও টেকসই পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সমাপনী বক্তব্য দেন এসিআই গোদরেজ এগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেডের সহযোগী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী প্রাণিজ প্রোটিনের জন্য ফিডের মান, সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এসব প্রযুক্তি ও জ্ঞান খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। প্রতিবেদনটি সমকালের।
সূত্র: সমকাল



মন্তব্য
(০)