সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৮৫%বাতাস ১১ কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৪ মিমি

লোকসান দিয়েও বিক্রি হয়নি অনেক গরু, বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপারীরা

'হ্যালো, তোরা কই গেলি? খুব খিদা পাইছে, তোরা তাড়াতারি খেয়ে আয়। তোরা আসলেই একটু খেতে যাবো।'

লাইভস্টক

'হ্যালো, তোরা কই গেলি? খুব খিদা পাইছে, তোরা তাড়াতারি খেয়ে আয়। তোরা আসলেই একটু খেতে যাবো।'

ফোনে অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন দিনাজপুর থেকে ঢাকার শনির আখড়ায় গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী মো. মামুন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন ঘড়ির কাটায় তখন পৌনে ১১টা বাজে। তখন পর্যন্ত পেটে কিছু পড়েনি মামুনের। রাতে ঘুমও হয়নি। একটু ভালো-মন্দ খেয়ে-দেয়ে ঘুমাবেন। তারপর গরু নিয়ে বাড়ি ফিরবেন বলে জানিয়েছেন মামুন।

ঈদুল আজহায় কোরবানিতে বিক্রির জন্য দিনাজপুর থেকে ৮০টি গরু নিয়ে এসেছিলেন মামুন। গরুপ্রতি দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান দিয়ে চার-পাঁচ দিনে ৩২টা বিক্রি করতে পেরেছেন। কিন্তু ৪৮টি গরু বিক্রি করতে পারেননি। ট্রাক ভাড়া করে সেগুলো আবার দিনাজপুরে নিয়ে যাবেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) যাত্রাবাড়ীর কাজলা ও শনির আখড়া হাট ঘুরে দেখা গেছে, পুরো এলাকা শূন্য হলেও কয়েকজন পাইকার ও রাখালদের কেউ ঘুমে, কেউ বসে বসে ঝিমুচ্ছেন। পাশের বস্তায় গরুর ভুষি, খড় ও ঘাস রয়েছে। গরুগুলোর মধ্যে কোনটি শুয়ে আছে, আবার কোনটি দাঁড়িয়ে। একজন ক্রেতা এলেও ব্যাপারীর ওই দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, 'উনি গরু কিনবেন না, দাম কম বলবেন।'

হাটের গরুর ব্যাপারীরা বললেন, বেশি দামে গরু কিনে লোকসান দিয়ে বিক্রি করেও ক্রেতাদের মন পাওয়া যাচ্ছে না। তারা পানির দরে গরু কিনতে চায়। মনে হয় যেন গরুর কোনো মূল্যই নেই।

ফোনে কথা বলছেন দিনাজপুরের গরুর ব্যাপারী মো. মামুন, ছবি: জাগো নিউজ

দিনাজপুরের মামুন জাগো নিউজকে বলেন, 'গত ২১ মে ৮০টি গরু হাটে নিয়ে আসছিলাম। দেখাশোনার জন্যে সঙ্গে ১১ জন মানুষ এনেছি। খাওয়া-দাওয়া, গোসল, এমনকি টয়লেট করতেও টাকা লাগে। এখানে শুধু খরচই হচ্ছে, কোনো লাভ নেই। মঙ্গল, বুধ ও ঈদের দিন আজ সকাল পর্যন্ত কোনো গরু বিক্রি করতে পারিনি। এর আগে ৩২টি গরু বিক্রি করেছিলাম।'

মামুন বলেন, 'চারটি ট্রাকে ২০টি করে গরু নিয়ে আসছিলাম। ট্রাকপ্রতি ভাড়া ২০ হাজার টাকা। এতদিনে গরু দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত। এখন ফিরার সময় শুইয়ে নিতে হবে। প্রতি ট্রাকে ১৬টি করে গরু উঠাতে হবে। তিনটা ট্রাক লাগবে। কিন্তু ঠিকঠাক মতো ট্রাক ভাড়া পাচ্ছি না।'

গরু নিয়ে ব্যাপারীদের ফিরে যাওয়ার কারণ হলো ক্রেতাদের কম দাম বলা। এ ব্যাপারে ব্যাপারীরা বলেন, কারণ জানা নেই। তবে, মনে হচ্ছে মানুষের হাতে টাকা কম। সবাই আগের মতো কোরবানি দিচ্ছে না। তাই দাম কম হতে পারে।

মামুন গরুর সারিতে শুয়ে থাকা কালো রঙের একটি ষাড় দেখিয়ে বলেন, 'এটা দিনাজপুরের বাজার থেকে কিনেছি এক লাখ ৪০ হাজার টাকায়। আর এখানে হাটে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা দাম বলেছে। এতো কম দামে কিভাবে গরু বিক্রি করবো? তাই ক্ষতি হলেও গ্রামে ফিরিয়ে নিচ্ছি।'

বিক্রি না হওয়া গরু ঈদের দিন গ্রামের বাড়ি নিয়ে যান মুন্সীগঞ্জের সানোয়ার, ছবি: জাগো নিউজ

পাশেই ট্রাকে অবিক্রিত গরু তুলছিলেন মুন্সীগঞ্জের সানোয়ার। কুড়িগ্রাম থেকে পাইকারি দরে ১০টি গরু কিনে আনলেও একটিও বিক্রি হয়নি। তাই গরুগুলো মুন্সিগঞ্জে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

সানোয়ার জাগো নিউজকে বলেন, 'ক্রেতারা গরুর দামই বলেনি। বিক্রি করতে না পেরে গরুগুলো আমাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।'

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী জাগো নিউজকে বলেন, '১৯টি নিয়ে আসছিলাম, নয়টি বিক্রি হয়েছে। বাকি ১০টি বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। এসব গরু এখনো দুই দাঁতের, আরও বড় হবে। বড় হলে দামও বেশি পাব। লস যা হওয়ার তা তো হয়েছেই। গরুপ্রতি ট্রাক ভাড়া দুই হাজার টাকা করে। এখন আবার নিতেও টাকা লাগবে।'

শনির আখড়ার পশুর হাটে বিক্রি না হওয়া গরু ঈদের দিন গ্রামের বাড়ি নিয়ে যান ব্যাপারীরা, ছবি: জাগো নিউজ

ভোলা থেকে ৩০টি গরু নিয়ে হাটে এসেছিলেন মো. হাসান। ১৯টি বিক্রি করতে পারলেও ১১টি পারেননি। সেই ১১ গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন তিনি।

হাসান জাগো নিউজকে বলেন, 'আসার সময় ইলিশা ফেরিঘাটে চরম ভোগান্তি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে ফেরি পারাপার হতে হয়েছে। এরপর ঢাকায় এসে বৃষ্টির ভোগান্তি। নিজে ট্রাকে করে বালি এনে ভরাট করে গরু রাখার জায়গা করেছি। তিন হাজার টাকার বালু, ত্রিপল পাঁচ হাজার টাকা। আমরা রাখাল এসেছি চারজন, খাওয়া খরচ সব মিলিয়ে লস বেশি। গরু প্রতি তিন থেকে দশ হাজার টাকা লোকসান।'

এবার রাজধানীর পশুর হাটগুলোর প্রথম দিকে ব্যবসায়ীরা গরুর ভালো দাম পেলেও শেষ মুহূর্তের চিত্র বিক্রেতাদের জন্য চরম হতাশার ছিল। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী ও খামারি লোকসান মাথায় নিয়েই পশু বিক্রি করে গেছেন। আবার অনেকেই অবিক্রীত পশু নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অন্যদিকে, শেষ সময়ে বাজারের এমন মন্দাভাব ও দরপতনের সুযোগে বেশ কম দামে পছন্দের পশু কিনতে পেরে মুখে হাসি ফুটেছে ক্রেতাদের।

এফএইচ/এমএমএআর

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

ডিম-মুরগির দাম কারসাজিতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি, খামারিরা বলছেন গরমেই উৎপাদন কম

ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তর ডিম ও মুরগির দাম কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলেও পোলট্রি উদ্যোক্তারা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে উৎপাদন কমাই দাম বাড়ার কারণ।

সমকাল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিদ্ধ ডিম কতক্ষণের মধ্যে খাওয়া উচিত?

ঝটপট প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে কিংবা সকালের নাশতায় ডিমের জুড়ি নেই। ব্যস্ত সকালে সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে রাখেন। পরিবারের সবাই খাওয়ার পরও দু-একটি ডিম বেঁচে গেলে তখন প্রশ্ন আসে-সেগুলো কি পরে খাওয়া যাবে? নাকি সিদ্ধ ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়? সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে সিদ্ধ ডিম ফেলে দেওয়ার

জাগো নিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

কলম্বিয়ার নতুন আইনে গবাদিপশুর বাণিজ্য বাঁধা পড়ল বন পর্যবেক্ষণে

২০২৬ সালের ৪ জুন কার্যকর হওয়া লেই ২৫৮৫ কলম্বিয়ার গবাদিপশুর ট্রেসেবিলিটিকে বন পর্যবেক্ষণ ও ভূমির নথির সঙ্গে যুক্ত করেছে; আইনের তিনটি অনুচ্ছেদ গড়ে উঠেছে অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ও সিআইএটি-র কাজের ওপর ভিত্তি করে।

CGIAR১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()