ইউরোপে প্রোটিনসমৃদ্ধ ফসল বেশি উৎপাদন করে স্থানীয়ভাবেই পশুখাদ্যে রূপান্তর এবং আমদানি করা সয়াবিন খইলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হরাইজন ইউরোপ কর্মসূচির অর্থায়নে ৫৫ লাখ ইউরোর নতুন গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়েছে। খবরটি দিয়েছে সিড ওয়ার্ল্ড ইউরোপ।
প্রসিড (PROCEED) নামের প্রকল্পে ইইউর ১২টি দেশ ও যুক্তরাজ্যের ২০টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত, যার মধ্যে স্কটল্যান্ডের জেমস হাটন ইনস্টিটিউট রয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া পাঁচ বছরের প্রকল্পটি দানাদার ও পশুখাদ্যের ডালজাতীয় ফসলে মনোযোগ দিচ্ছে; লক্ষ্য দুটি—ইউরোপে উৎপাদিত প্রোটিন ফসলের ফলন বাড়ানো ও স্থিতিশীল করা, এবং সাশ্রয়ী স্থানীয় ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়াজাতকরণ গড়ে তুলে তা মানসম্পন্ন পশুখাদ্যে পরিণত করা।
ইইউর পশুখাদ্যে ব্যবহৃত অশোধিত প্রোটিনের প্রায় ২৫ শতাংশ আমদানি হয়, যার প্রায় ৭২ শতাংশ সয়াবিন ও সয়াবিন খইল; ফলে বাণিজ্য বিঘ্ন, দামের ওঠানামা ও জলবায়ুর ধাক্কায় পশুপালন খাত ঝুঁকিতে থাকে। প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক সমন্বয়ক, ইতালির পেরুজা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিয়েত্রো গোলিও বলেন, ইউরোপজুড়ে পশুপালন এখনো আমদানি করা প্রোটিন খাদ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
জেমস হাটন ইনস্টিটিউট ইউরোপজুড়ে ১১টি আঞ্চলিক 'প্র্যাকটিস হাব' গড়তে সাহায্য করবে, যেখানে কৃষক, প্রক্রিয়াজাতকারী, পশুখাদ্য ব্যবসায়ী ও গবেষকেরা বাস্তব খামার ও সরবরাহ পরিস্থিতিতে পরীক্ষামূলক কাজ করবেন। উপ-সমন্বয়ক পিট ইয়ানেত্তা বলেন, শুধু বেশি ফলন নয়, মাঠ থেকে পশুখাদ্য পর্যন্ত কার্যকর পথ দরকার; বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিতে কার্যকর নীতি ও লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগও লাগবে।
ডালজাতীয় ফসল মাটির ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে, ফলে রাসায়নিক সার ও তার নিঃসরণ কমে; মাটির স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও পরাগবাহী পোকামাকড়েরও উপকার করে—খরা, তাপপ্রবাহ ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে থাকা ইউরোপীয় কৃষিতে যা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: Seed World Europe





মন্তব্য
(০)