গ্রামীণ ইথিওপিয়ায় গবাদিপশু খাদ্যের উৎস তো বটেই, পাশাপাশি এটি আয়ের পথও। ক্ষুদ্র কৃষক যখন উন্নত প্রযুক্তি, সংগঠিত বাজার আর যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ পান, তখন দুগ্ধ উৎপাদন জীবিকানির্বাহের স্তর ছাড়িয়ে লাভজনক গ্রামীণ উদ্যোগে পরিণত হতে পারে।
কেম্বাটা টেম্বারো অঞ্চলের কেদিদা গামেলা ওরেদার তিন সন্তানের মা আয়েলেচ তারেকেন মেকেবোর জন্য সেই বদল শুরু হয়েছিল একটিমাত্র গরু দিয়ে। ২০০৬ সালে তাঁর পরিবার চলত জীবিকানির্বাহী কৃষিতে; একটি দেশি গরু থেকে যে দুধ হতো, তা দিয়ে ঘরের চাহিদা মিটত, সামান্য কিছু বিক্রি হতো আশপাশে। জীবন ছিল অনুমেয়, কিন্তু ভঙ্গুর।
মোড় ঘোরে যখন বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ফিশারিজ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে তিনি উন্নত দুগ্ধ-চর্চার সঙ্গে পরিচিত হন। শেখানো কৌশলগুলো—কৃত্রিম প্রজনন ও সংকরায়ণসহ—তিনি প্রয়োগ করতে শুরু করেন, আর তাঁর সঙ্গে বদলে যায় তাঁর পশুপালও।
২০২১ সালে ১২ জন প্রতিবেশীর সঙ্গে মিলে তিনি গড়েন ‘কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপ’—একা কাজ করা থেকে একসঙ্গে কাজ করার ধাপ। প্রকল্পের সহায়তায় দলটি পায় নির্মাণসামগ্রী, উন্নত ঘাসের বীজ ও পানির চৌবাচ্চা।
২০২২ সাল নাগাদ এমন ১০টি দল মিলে গড়ে ‘এনাত মিল্ক কালেকশন অ্যান্ড মার্কেটিং কো-অপারেটিভ’, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উৎপাদকেরা হয়ে ওঠেন সংগঠিত সরবরাহকারী। সমবায়টি একটি দুধ সংগ্রহকেন্দ্র বানায় এবং সেখানে বসায় হিমায়ন ব্যবস্থা—যে অবকাঠামোটিই ঠিক করে দেয়, সকালের দুধের বিকেলে কোনো দাম থাকবে কি না।
আজ আয়েলেচ সমবায়ে দিনে প্রায় ২০ লিটার দুধ দেন, লিটারপ্রতি ৮০ বির দরে; টাকা পান প্রতি ১০ দিনে, প্রতি দফায় ১০ হাজার ৮০০ থেকে ১৪ হাজার ৪০০ বির। বছরে একবার সমবায় থেকে লভ্যাংশও পান—যা তিনি কখনো ভাবেননি।
পরে সমবায়টি যুক্ত হয় ‘সেদাল মাল্টিপারপাস পিএলসি ইউনিয়ন’-এ, যার ফলে সদস্যরা প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ পান এবং মূল্যশৃঙ্খলে তাঁদের অবস্থান শক্ত হয়। এই ধাপে ধাপে তৈরি হওয়া কাজগুলো—সংগ্রাহক, পরিবহনকারী, প্রক্রিয়াজাতকারী—সে কারণেই বিশ্বব্যাংক দুগ্ধ খাতকে কৃষির পাশাপাশি কর্মসংস্থান নীতি হিসেবেও গণ্য করে।
সূত্র: বিশ্বব্যাংক





মন্তব্য
(০)