সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৯৫%বাতাস কিমি/ঘ

দুই মণ ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক, হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে কৃষক

৫৫ বছর বয়সী দিনমজুর মুজিবর শেখ। অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলে তার ৫ সদস্যের সংসার। ভাগ্য বদলাতে ঋণ নিয়ে এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিই যেন সবকিছু এলোমেলো করে দিলো। ধান কেটে ঘরে তোলার সময়ই বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ধানক্ষেত।

এগ্রোবিজ

৫৫ বছর বয়সী দিনমজুর মুজিবর শেখ। অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলে তার ৫ সদস্যের সংসার। ভাগ্য বদলাতে ঋণ নিয়ে এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিই যেন সবকিছু এলোমেলো করে দিলো। ধান কেটে ঘরে তোলার সময়ই বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ধানক্ষেত।

এখন এনজিও থেকে নেওয়া ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ কীভাবে শোধ করবেন সেই চিন্তায় দিশাহারা এই দিনমজুর। মুজিবর শেখ বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধলনগর গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বুধবার বিকেলে জাগো নিউজকে তিনি এসব কথা বলেন।

মুজিবর শেখ বলেন, আমার নিজের জমি নেই। অন্যের এক বিঘা জমি ১৫ হাজার টাকায় বন্ধক নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম। এর সাথে জমিতে হালচাষ, মেশিন দিয়ে পানি সেচ ও ধানে সার, কীটনাশক দিতে প্রচুর খরচ হয়। এই খরচ মেটাতে একটা এনজিও থেকে ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। অনেক কষ্ট করেই ধান চাষ করেছিলাম কিন্তু প্রথমে কিছুদিন আগে শিলাবৃষ্টি পড়ে প্রায় চার আনা ধান ঝরে গেছে। এখন আবার বন্যা বাদলে (বৃষ্টিতে) কিছু ধান কেটে আঁটি বাঁধার জন্য মাঠে রাখছিলাম, কিছু ধান কাটা হয়নি, সবই পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে থাকলে তো সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। দামও ভালো পাওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিতে ধান নষ্ট না হলে এই এক বিঘা জমি থেকেই আমার পরিবারের ৬ মাসের চালের ব্যবস্থা হয়ে যেত। এখন যে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটবো তারও কায়দা (উপায়) নেই। একজন শ্রমিক আনতে গেলে ১২শ টাকা থেকে ১৩শ টাকা দিতে হয়। সাথে তিন বেলা খেতে দিতে হয়, তাকে বিড়ি পর্যন্ত কিনে দিতে হয়। সব মিলিয়ে একজন শ্রমিকের পেছনে প্রতিদিন ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা খরচ হয়। একজন শ্রমিক দিয়ে একদিন কাজ করাতে হলে তাকে দুই মণের ধানের টাকা দিয়ে দিতে হচ্ছে। তাও মিলছে না শ্রমিক। সব মিলিয়ে যা খরচ করেছিলাম এই অবস্থায় তাও উঠবে না। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করব বা খাব কি তাই ভাবছি।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তার ভেতর ১৩ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকি প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে এখনও ধান রয়েছে। এ অবস্থায় বৃষ্টিপাত বেশি হলে মাঠে থাকা ধানের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

ধলনগর গ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী হাওলাদার বলেন, ধানে একটু চাল চাল ভাব আসলেই প্রথমে শিলা বৃষ্টি হয়েছে। তখন বিঘায় ৫ থেকে ৭ মণ ধান ঝরে গেছে। এখন ধান পাকলে যেই কাটার সময় হয়েছে তখনই বৃষ্টিতে হাঁটু পানি হয়ে ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখন আমরা পাঁকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, এ বছর আমি অন্যের ৪ বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে চাষ করেছি। এতে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর ধানের দামও কম, মণ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কম। এখন বৃষ্টি কমলেও যে ক্ষতি হয়েছে তাতে খরচ খরচার টাকাও উঠবে না। সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা উঠবে। ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো লস হবে।

বিনয় সরকার নামের আরেক কৃষক বলেন, প্রতি বছরই দুই বিঘার মতো জমিতে ধান চাষ করি। ৮০ থেকে ১০০ মণ ধান পায়। কিন্তু এবার হঠাৎ বৃষ্টির কারণে মাঠে কাটা ধান তলিয়ে গেছে। কবে পানি শুকাবে আর কবে ধান ঘরে তুলব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ধান এ রকম পানির ভেতর থাকলে তো দুইদিনেই চারা বেরিয়ে যাবে। খড়কুটোও নষ্ট হয়ে যাবে। বিক্রি করা যাবে না। এ বছর সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৪০ মণ ধান পেতে পারি। তাতে খরচার টাকাও উঠবে না।

তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিস থেকে কোনো পূর্বাভাসও পাইনি যে বৃষ্টি বা আবহাওয়া খারাপ হতে পারে। পেলে আগে ভাগে ধান কেটে ঘরে তুলতাম। সারাদিন আমরা মাঠে কাজ করি। টিভিতে খবর দেখার সময় পাই না। কৃষি অফিস থেকে বৃষ্টি বা আবহাওয়া খারাপ হতে পারে এমন পূর্বাভাস মাইকিং করা হলে আমরা কৃষকেরা বিষয়টা জানতে পারতাম।

বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জমিতে ধান হেলে পড়ছে। কিছু কৃষকের জমিতে কাটা ধান রয়েছে যা ঘরে তুলতে পারেনি। এর ৫ থেকে ১০ পার্সেন্ট ধান ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ক্ষতি বেশি হলে সেক্ষেত্রে কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ নিরূপণ করবো।

নাহিদ ফরাজী/এমআরএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সরকারি সহযোগিতায় শৌখিন পায়রা রপ্তানি সম্ভব

দেশে বাড়ছে শৌখিন পায়রা পালনের বাণিজ্যিক উদ্যোগ। নরসিংদীতে এমনই এক সফল খামার গড়ে তুলেছেন এক উদ্যোক্তা। সেখানে রয়েছে নানা জাতের বিদেশী পায়রা। উদ্যোক্তা বলছেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব শৌখিন পায়রা রপ্তানি করা সম্ভব।

শাইখ সিরাজ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
এগ্রোবিজ

ঋণ থেকে তথ্যসেবায় সরছে ProducePay, বছর শেষে মুনাফার আশা

তাজা ফল-সবজির প্ল্যাটফর্ম ProducePay ১৪ কোটি ডলারের নতুন মূলধন ও অর্থায়ন সক্ষমতা জোগাড় করেছে এবং চাষিদের অগ্রিম দেওয়ার ব্যবসায় বাইরের বিনিয়োগকারী আনছে, যাতে এর ওপর তথ্য ও প্রযুক্তি সেবা গড়া যায়; প্রধান নির্বাহী Patrick McCullough বছর শেষে মুনাফার আশা করছেন।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

কৃষিঋণকে কাগজ ও ইমেইল থেকে অনলাইনে আনতে ৭৪ লাখ ডলার তুলল SweetAg

কলোরাডোর এগ্রিফিনটেক SweetAg Diagram Ventures, Builders VC ও Cooperative Ventures-এর নেতৃত্বে ৭৪ লাখ ডলার তুলেছে; তাদের প্ল্যাটফর্মে কৃষক অনলাইনে ঋণের নথি জমা ও নবায়ন করতে পারবেন, নথি যাচাই করবে এআই, আর ঋণের সিদ্ধান্ত থাকবে মানুষের হাতে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()