নিম্নমানের পশু ও পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত অবৈধ ১১৭টি প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এফআইএবি) ও ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের (ইউএসএসইসি) ‘ফিড ফর গ্রোথ: সাপোর্টিং বাংলাদেশ’স প্রোটিন ডিমান্ড’ সেমিনারে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।
দেশে পোলট্রি ও প্রাণিখাদ্যের বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী নিবন্ধিত ১৫০টি ফিড কোম্পানি বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন বাণিজ্যিক ফিড উৎপাদন করে, যার প্রায় ৭০ শতাংশ পোলট্রি ফিড; মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্যও শিল্পটির বড় অংশ। ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে ফিডের চাহিদাও বাড়ছে, কিন্তু মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
শাহজামান খান বলেন, সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ১১৭টি প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খামারিদের অন্যতম প্রধান দাবি ফিডের দাম সহনীয় রাখা, যা ফিড উৎপাদকদের সহযোগিতা ছাড়া কঠিন; একই সঙ্গে নিরাপদ ও ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের জন্য ফিডের মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানান তিনি।
গত জুনে সরকার প্রায় ১৮ বছর পর জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতি-২০২৬ প্রণয়ন করেছে, যাতে ডিম ও মাংসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ফিডে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, ক্ষতিকর ফিড উপাদান বাদ দেওয়া, প্রাণিস্বাস্থ্যসেবা ও টিকা সরবরাহ জোরদার, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো এবং খাতটিকে রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্য রয়েছে। দেশে নিবন্ধিত পোলট্রি খামার প্রায় ৯০ হাজার, অনিবন্ধিত প্রায় ২ লাখ, আর খাতটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় ৬০ লাখ মানুষ।
প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পোলট্রি খাতকে রপ্তানিমুখী করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় টিকা দেশেই উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এফআইএবির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, বিশ্ববাজার ও কাঁচামালের দামের ওঠানামার মধ্যে ফিড শিল্পকে আধুনিক ফর্মুলেশন ও উন্নত কাঁচামালের সঠিক ব্যবহারে আরও দক্ষ হতে হবে।
সেমিনারে সয়াবিনের ব্যবহার, ফিড উৎপাদন প্রযুক্তি ও আধুনিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দেন ইউএসএসইসির বাংলাদেশ মার্কেট লিড খাবিবুর রহমান, ইস্ট এশিয়া অ্যাকুয়াকালচার লিড লুকাস মানোমাইটিস, ঝু এনহুয়া ও সিয়াং পিন ল্যান শান; সভাপতিত্ব করেন কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহতেশাম বি. শাহজাহান, সমাপনী বক্তব্য দেন এসিআই গোদরেজ এগ্রোভেটের অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। খামারির খরচের সবচেয়ে বড় অংশ ফিড, তাই মান ও দামের এই নজরদারি সরাসরি খামারের লাভ-লোকসানে প্রভাব ফেলবে। প্রতিবেদনটি সমকালের।
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)