সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৯৫%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৭ মিমি

ধান-গমের জমিতে চাষ হচ্ছে আম-লিচু-ড্রাগন

মেহেরপুরে ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। উপযুক্ত আবহাওয়া, ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় বিভিন্ন ফলের বাগান করেছেন কৃষকরা। ধান, গম কিংবা অন্যান্য প্রচলিত ফসলের বদলে এখন জেলার অনেক কৃষক ঝুঁকছেন ফলের বাগান তৈরির দিকে। বিশেষ করে আম, লিচু, কলা, পেয়ারা, ড্রাগন ও মাল্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এসব ফলের চাহিদা ও দামও

ফল

মেহেরপুরে ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। উপযুক্ত আবহাওয়া, ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় বিভিন্ন ফলের বাগান করেছেন কৃষকরা। ধান, গম কিংবা অন্যান্য প্রচলিত ফসলের বদলে এখন জেলার অনেক কৃষক ঝুঁকছেন ফলের বাগান তৈরির দিকে। বিশেষ করে আম, লিচু, কলা, পেয়ারা, ড্রাগন ও মাল্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এসব ফলের চাহিদা ও দামও বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, জেলায় ফল চাষ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে দুই হাজার ৩৩৬ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়। আর ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে আম উৎপাদন হয়েছে দুই হাজার ৩৬৬ হেক্টর জমিতে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৭৬ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে চাষ হয়েছে ১০৫ হেক্টর জমিতে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে দুই হাজার ৫২৬ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কলা চাষ হয়েছে দুই হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে।

জেলায় লিচুর চাষাবাদও বেড়েছে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৭১৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৭২৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়। অর্থাৎ ১০ হেক্টর বেশি জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে। জেলায় ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ফলের বাগান ছিল ছয় হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে। আর ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বেড়ে চাষাবাদ দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৪২৬ হেক্টর জমিতে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফল চাষে লাভ বেশি এবং পরিচর্যার ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তারা ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ধান, গমসহ মৌসুমি ফসল চাষে বারবার ক্ষতির মুখে পড়েন। অথচ ফলগাছ দীর্ঘস্থায়ী ও সহনশীল হয়ে উঠেছে এই অঞ্চলে।

'আমি কয়েক বছর আগে ১২ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেছি। গতবছরে ১৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। চলতি বছর আর বেশি টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছি।'

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের কৃষক শাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন,‌ 'আমি আগে শুধু ধান ও গম চাষ করতাম। গত চার বছর ধরে ছয় বিঘা জমিতে আম ও লিচুর বাগান করেছি। এখন সেখান থেকে বছরে ভালো একটা আয় হচ্ছে।'

আরেক চাষি জাহির হোসেন বলেন, 'আগে আমি ধান ও গমের আবাদ করতাম। বর্তমানে তিন বিঘা জমিতে আমের বাগান করেছি। তিন বিঘা আমের বাগানে বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় হয়।'

তিনি বলেন, মেহেরপুরের হিমসাগর আম জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই আগামীতে জেলার আমের চাহিদা কয়েকগুণ বাড়বে।

'আমি আগে শুধু ধান ও গম চাষ করতাম। গত চার বছর ধরে ছয় বিঘা জমিতে আম ও লিচুর বাগান করেছি। এখন সেখান থেকে বছরে ভালো একটা আয় হচ্ছে।'

মেহেরপুর হরিরামপুর গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে শুধু ধান ও গমের আবাদ করতেন। বর্তমানে দুই বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করেছেন। এতে প্রতি বছর দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয়।

নাসির উদ্দিন বলেন, 'মেহেরপুর জেলার ড্রাগন ফল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা রয়েছে। ড্রাগন ও মাল্টার মতো কিছু ফলের আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা তৈরি হচ্ছে। ফলে এসব বাগান কৃষকদের আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করে তুলছে।

আমঝুপি গ্রামের মাল্টা চাষি লিটন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‌'আমি কয়েক বছর আগে ১২ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেছি। গতবছরে ১৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। চলতি বছর আর বেশি টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছি।'

মাল্টা চাষের বিষয়ে তিনি জানান, উপযুক্ত আবহাওয়া, ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় এ ফলের আবাদ করেছেন।

একেই গ্রামের আরেক কৃষক আতিক হোসেন বলেন, 'লাভজনক হওয়ায় ছয় বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেছি। গতবছর ১৬ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। চলতি বছর আরও বেশি টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।'

'জেলার ৭৬ হেক্টর জমিতে মাল্টার বাগান, ২৫ হেক্টর জমিতে চায়না কমলার বাগান ও ৪৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন বাগানে ফল বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলার কৃষকরা ফলের বাগানের দিকে ঝুঁকছেন। মেহেরপুর শুধু সবজিতে নয়, ফল উৎপাদনেও বিপ্লব হবে।'

আরেক চাষি কবির হোসেন জানান, চলতি বছর ছয় বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেছেন। আগামী বছর মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

কথা হয় মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামসুল আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, ফল বাগান বাড়ানোর জন্য সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও কম সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। অনেক এলাকায় কৃষকদের মাঝে ফলদ গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণও করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলার ৭৬ হেক্টর জমিতে মাল্টার বাগান, ২৫ হেক্টর জমিতে চায়না কমলার বাগান ও ৪৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন বাগানে ফল বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলার কৃষকরা ফলের বাগানের দিকে ঝুঁকছেন। মেহেরপুর শুধু সবজিতে নয়, ফল উৎপাদনেও বিপ্লব হবে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

কেরানীগঞ্জে উচ্চমূল্যের ফল চাষে দুই তরুণের সাফল্য

গতানুগতিক শিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে কৃষিতে নতুন ভবিষ্যৎ খুঁজছেন শিক্ষিত তরুণরা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সংলগ্ন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ২৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে উচ্চমূল্যের অপ্রচলিত ফলের আধুনিক চাষাবাদ শুরু করেছেন দুই তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা। শাম্মাম, রকমেলন ও ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে প্রথমবারেই এসেছে বড় সাফল্য।

শাইখ সিরাজ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
এগ্রোটেক

চাষিকে তথ্য-বিশ্লেষক হতে হবে না, বলছেন Orchard Robotics-এর Charlie Wu

Orchard Robotics-এর প্রতিষ্ঠাতা Charlie Wu বলছেন, ট্রাক্টরে বসানো তাঁদের এআই ক্যামেরা গাছ ধরে ধরে ফল গোনে ও মাপে, শ্রম ও উপকরণ সাশ্রয়ে প্রথম বছরেই তিন থেকে দশ গুণ ফেরত দেয়; আপেল থেকে কোম্পানিটি এখন আরও এক ডজন ফসলে যাচ্ছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()