পাহাড়ি ঢালে মাটিক্ষয় রোধে কৃষি বনায়ন ও উদ্ভিদভিত্তিক প্রকৌশল পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী কর্মসূচি করেছে ভারতের দেরাদুনের আইসিএআর-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সয়েল অ্যান্ড ওয়াটার কনজারভেশন (আইআইএসডব্লিউসি)। দেরাদুন জেলার কালসির খতর এলাকার সুন্দরায়া, কোলহারা ও কফটি গ্রামে তফসিলি জাতি উপপরিকল্পনার আওতায় কর্মসূচিটি হয়, জানিয়েছে আইসিএআর।
কৃষকেরা মোট ৮০০টি বহুমুখী গাছ লাগিয়েছেন: পেয়ারা, আমলকী, কাঞ্চন ও বাঁশ, প্রতিটি ২০০টি করে। সরাসরি উপকৃত হয়েছে ৩০টি কৃষক পরিবার, অংশ নিয়েছেন ১১০ জনের বেশি কৃষক ও এলাকাবাসী।
খাড়া, অত্যন্ত ক্ষয়প্রবণ ও অবক্ষয়িত জমিতে বাঁশ ও কাঞ্চন লাগানো হয়েছে, যাতে দেখানো যায় বহুবর্ষজীবী গাছ কীভাবে মাটি ঢেকে রাখে, মাটিক্ষয় কমায় এবং দুর্বল ঢাল স্থিতিশীল করে, বিশেষ করে উপযুক্ত ভৌত ও জৈব সংরক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে।
খেতের আইলে লাগানো হয়েছে পেয়ারা ও আমলকী। এতে দেখানো হয়েছে, চলমান চাষের জমিতেই ফলের গাছ যুক্ত করে বাড়তি ফল ও আয় পাওয়া যায় এবং আইলের জায়গাও কাজে লাগে। কৃষকদের রোপণ পদ্ধতি, দূরত্ব, জায়গা বাছাই ও পরিচর্যা হাতে-কলমে শেখানো হয়।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শাকির আলীর তত্ত্বাবধানে এক কারিগরি বক্তৃতায় বলা হয়, পাহাড়ে কৃষি বনায়ন পানির প্রবাহ ও মাটিক্ষয় কমায়, খামারের উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, আয়ের উৎস বাড়ায় এবং অবক্ষয়িত জমি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। জমির ধরন, ঢাল ও মাটি বুঝে গাছের প্রজাতি বাছাই করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, এসব প্রদর্শনী দেখে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকেরা আইল, অবক্ষয়িত জমি ও ক্ষয়প্রবণ ঢালে বহুবর্ষজীবী গাছ লাগাতে উৎসাহিত হবেন।
সূত্র: আইসিএআর



মন্তব্য
(০)