স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অন্যতম বৃহৎ জৈব সবজি খামারে এ মৌসুমে পেঁয়াজ, শিম ও পাতা-সেলারির আগাছা পরিষ্কার হচ্ছে চালকের আসনে কাউকে না বসিয়েই। ডেনমার্কের ইয়ুটল্যান্ডে Axel Månsson (অ্যাক্সেল মনসন)-এর কোম্পানি Axel Månsson A/S ৩,০০০ হেক্টর জমি চালায়—এর ১,৪০০ হেক্টরে সবজি, ৮০০ হেক্টর জৈব। এপ্রিলে তিনি কিনেছেন AgXeed T2 7-SERIES (এজিএক্সিড টি২ ৭-সিরিজ) স্বয়ংক্রিয় ট্রাক্টর, আর তার সঙ্গে জুড়েছেন Carbon Robotics (কার্বন রোবোটিক্স)-এর LaserWeeder (লেজারউইডার)। কয়েক মাসের অভিজ্ঞতার পর বেশির ভাগ মানদণ্ডে তিনি এটিকে দিচ্ছেন পাঁচে সাড়ে চার, আর সামগ্রিক মূল্যে পুরো পাঁচ।
"ডেনমার্কে জনবল খুবই ব্যয়বহুল," বলছেন মনসন; তাঁর দেখায় সবচেয়ে বড় সাশ্রয় শ্রমেই। তাঁর হিসাবে, কাছাকাছি জমির একটি ব্লকে একজন মানুষই পাঁচটি এমন যন্ত্রের বহর সামলাতে পারবেন। সাধারণ ট্রাক্টরের তুলনায় ডিজেল খরচ "অনেক কম", আর যন্ত্রটি প্রতিবার ঠিক গতিতে চলে বলে যন্ত্রাংশের ক্ষয়ও কমবে বলে তিনি আশা করছেন।
যন্ত্র দুটি পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে। মিনিটে ৭,০০০ বার লেজার ছুড়তে পারা লেজারউইডার ২৩০ অশ্বশক্তির ট্রাক্টরকে জানায় কোথায় আগাছা বেশি—সেখানে গতি কমাতে হবে, কোথায় কম—সেখানে বাড়াতে হবে; এভাবে চলার গতি থাকে ঘণ্টায় ০.৪ থেকে ১.৮ কিলোমিটারের মধ্যে। মনসনের কথায়, একজন চালকের পক্ষে আগাছার ঘনত্বের তাৎক্ষণিক তথ্য পড়ে টুকরো টুকরো জমিতে গতি বদলানো সম্ভব নয়; এই জুটি কাজ যতক্ষণ চলে ততক্ষণ সেটা নিজে থেকেই করে।
নতুন প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত এই খামারে সেটআপ প্রত্যাশার চেয়ে সহজ হয়েছে। খামারের হাতে থাকা জিপিএস মানচিত্র দিয়েই জমির সীমানা ও পথ ঠিক করা হয়েছে; মাঠ ব্যবস্থাপকেরা দূর থেকে, এমনকি ফোন থেকেও যন্ত্রের কাজ দেখেন। কোনো মানুষ বা প্রাণী কাছে এলে নিরাপত্তা-ব্রেক নিজে থেকে কাজ করে। এক জমি থেকে আরেক জমিতে নেওয়াই একমাত্র কাজ যেখানে এখনো মানুষ লাগে, আর সেটা করেন একই খামারে চালকসহ ট্রাক্টর চালানো কর্মী।
রাতের কাজ এর সবচেয়ে কার্যকর দিকগুলোর একটি। মনসন বলেন, "আমরা সন্ধ্যা ছয়টায় বাড়ি চলে যাই, আর এজিএক্সিডকে বলে যাই, যেমন ধরুন, পরদিন সকালের মধ্যে ২৮ হেক্টর শেষ করতে।" পথের পরিকল্পনা আগে থেকে করা হয় TraXwise (ট্র্যাক্সওয়াইজ)-এ, ভিন্ন ভিন্ন বেডের মাপসহ প্রতিটি জমির স্তরে, এবং সেই পথ খামারের চালকসহ ট্রাক্টরগুলোর জন্য ব্যবহৃত John Deere Operations Center (জন ডিয়ার অপারেশনস সেন্টার)-এও পাঠানো যায়।
সক্ষমতার সীমা এখন যন্ত্রের চেয়ে জমি বদলের ঝক্কিতেই বেশি; খামারের পুরো জৈব জমি ঢাকার মতো লেজার আগাছা-দমনের সক্ষমতা এখনো নেই, তাই পাশাপাশি হাতে আগাছা তোলাও চলছে। ৬ মিটারের টুলবার দিয়ে আরও বেশি চাষের কাজে যন্ত্রটি লাগাতে চওড়া বেল্ট ট্র্যাক বসানো হচ্ছে।
এপ্রিল থেকে কোনো বিকল হয়নি, আর ডাকলে সার্ভিস এসেছে দ্রুত। আবার এই যন্ত্র কিনবেন কি না—এ প্রশ্নে মনসনের দ্বিধা নেই: "হ্যাঁ, অবশ্যই।" তবে তিনি সাবধানে যোগ করেন, "এখন পর্যন্ত—এটা এখনো বেশ নতুন", এবং মনে করিয়ে দেন, প্রযুক্তি এত দ্রুত এগোচ্ছে যে একদিন অন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় ট্রাক্টরও একই কাজ করতে পারে।
সূত্র: Future Farming





মন্তব্য
(০)