ক্লাইমেট উইক এনওয়াইসির সময় নিউইয়র্ক বোটানিক্যাল গার্ডেনে ২০২৬ সালের ক্রপ ডাইভারসিটি ডে আয়োজন করে ক্রপ ট্রাস্ট (Crop Trust) ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞান, গল্প আর একসঙ্গে খাওয়ার মধ্য দিয়ে কৃষক, জিনব্যাংক ও উদ্ভিদ উদ্যানের কাজকে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে যুক্ত করা হয় দিনটিতে। এর আগের আয়োজন হয়েছিল ২০২৪ সালে মরক্কোর রাবাতে এবং ২০২৫ সালে পেরুর লিমায়, ২০২৩ সালে বার্লিনে বৈশ্বিক ফসল বৈচিত্র্য সম্মেলনের পর।
দিনের প্রধান ঘোষণা ছিল নতুন ওয়ার্ল্ড ফুড ম্যাপ চালু। বিশ্বে ২৫ হাজারের বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়েছে, যার অনেকগুলো এক জায়গায় পরিচিত, অন্য জায়গায় প্রায় অজানা। নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রভিত্তিক এ প্ল্যাটফর্ম মানুষ কী খায়, খাদ্য উদ্ভিদ কোথায় জন্মায় এবং সেগুলো কতটা সংরক্ষিত, তা একসঙ্গে দেখায়, যাতে খাদ্যতালিকার ঘাটতি পূরণে স্থানীয় খাবার খুঁজে পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে খাদ্য উদ্ভিদ সংরক্ষণের বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল কনজারভেশন কনসোর্টিয়াম ফর ফুড প্ল্যান্টসের প্রথম বর্ষপূর্তিও উদযাপিত হয়। নিউইয়র্ক বোটানিক্যাল গার্ডেনে অবস্থিত ও ক্রপ ট্রাস্টের সহায়তায় চলা এ জোট উদ্ভিদ উদ্যান ও জিনব্যাংককে যুক্ত করে। উদ্যানের জীবন্ত সংগ্রহ এমন ফল, বাদাম ও উদ্ভিদ সংরক্ষণে সাহায্য করে, যেগুলো সাধারণ বীজ ভান্ডারে রাখা কঠিন।
অনুষ্ঠানে শোনানো একটি গল্প পেরুর তিনটি আইমারা জনগোষ্ঠীর, যেখানে কৃষকেরা খারাপ ফলনের ঝুঁকি ভাগ করতে একসঙ্গে অনেক জাতের আলু চাষ করেন। তাঁদের সঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্রের (সিআইপি) একটি দল ৮৩টি দেশি জাত শনাক্ত করেছে। সিআইপির জিনব্যাংক প্রধান মার্টিন ভ্যান জনভেল্ড (Martin van Zonneveld) বলেন, বৈচিত্র্যই কৃষকের খাদ্যবিমা। দুটি জনগোষ্ঠী স্থানীয়ভাবে হারিয়ে যাওয়া জাত ফিরে পেতে জিনব্যাংকের কাছে গিয়েছিল।
পিরিয়ডিক টেবিল অব ফুড ইনিশিয়েটিভ এবং অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ও সিআইএটির জেনি গ্যালো-ফ্রাঙ্কো দেখান, দেখতে একই রকম সবুজ শাকসবজির উপাদানে কত পার্থক্য থাকতে পারে। ক্রপ ট্রাস্টের পাওয়ার অব ডাইভারসিটি তহবিলের মাধ্যমে গবেষকেরা একই পদ্ধতিতে কয়েকটি দেশে সম্ভাবনাময় অবহেলিত ফসল পরিমাপ করছেন, যাতে ফল তুলনা করা যায় এবং স্থানীয় বাজারে এসব খাবারের পক্ষে কৃষকেরা জোরালো যুক্তি দিতে পারেন।
ক্রপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক স্টেফান স্মিৎস (Stefan Schmitz) বলেন, মানুষ, উদ্ভিদ ও পৃথিবীর এই ত্রিভুজকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা যায়। কৃষকের জন্য বার্তা হলো, জিনব্যাংকের বীজ থেকে দেশি জাত পর্যন্ত সংরক্ষিত বৈচিত্র্য নতুন বাজারেরও উৎস।
ছবি: Edgar Amador Espinoza M. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার


মন্তব্য
(০)