সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩৩°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৫৯%বাতাস কিমি/ঘ

ছয় দিন খালি জাল, ষষ্ঠ দিনে এফভি কুলসুমায় ২৬ লাখ টাকার ইলিশ

কক্সবাজারের ফিশারিঘাটে এক ট্রলারের ২ হাজার ২০০ ইলিশ বিক্রি হলো ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায়; তবে জেলার ৬ হাজার ট্রলারের ৪ হাজারই ঘাটে পড়ে আছে, আর ইলিশ আহরণ নেমেছে তলানিতে।

মৎস্য

সাত দিন সাগরে কাটিয়ে সোমবার সকালে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা ঘাটে ফিরেছে মাছ ধরার ট্রলার এফভি কুলসুমা। পাঁচ দিন জাল ফেলে ইলিশের দেখা পাননি ১২ জেলে; ষষ্ঠ দিনে মহেশখালী উপকূলে জাল ফেলতেই উঠে আসে ২ হাজার ২০০ ইলিশ। পাশের ফিশারিঘাটের পাইকারি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে সেই ইলিশ কয়েকজন ব্যবসায়ী কিনে নেন ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। প্রতিটির ওজন ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম। বরফমিশ্রিত কার্টনে ভরে দুপুরেই মাছ রওনা হয় ঢাকার পথে।

ট্রলারের মালিক নুনিয়াছটার আমান উল্লাহ (৫৪) জানান, গত তিন মাস কক্সবাজারের জেলেরা ইলিশের দেখা পাননি; বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে দুই মাস সাগরে নামাই যায়নি। মহেশখালীর তাজিয়াকাটা থেকে পশ্চিমে ১০–১২ কিলোমিটার দূরে জাল ফেলে তাঁর জেলেরা এই ইলিশ পেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, গভীর সাগরে ইলিশ আছে, কিন্তু ছোট ট্রলার নিয়ে ৮০–৯০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে মাছ ধরা ঝুঁকির কাজ।

জেলে মো. আলমগীর জানান, খরচ বাদ দিয়ে ১২ জেলের প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকার মতো পাবেন—এক মৌসুমের খোরাকির জন্য যথেষ্ট না হলেও এক দিনের হিসাবে অনেক। ফিশারিঘাটে সোমবার পাইকারিতে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা, ৮০০–৯০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ টাকা, ৫০০–৭০০ গ্রামের ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং ৩০০–৪০০ গ্রামের ইলিশ ৬৫০–৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের বেশির ভাগ ইলিশের পেটে ডিম ছিল বলে জানান জেলে ও ব্যবসায়ীরা।

ঘাটে থাকা ২৭ জন মাছ ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক দিনে তিন শতাধিক ট্রলার ফিশারিঘাটে ফিরেছে, প্রতিটিতে ২০০ থেকে ৩০০ ইলিশ। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই মাস জেলেরা সাগরে নামতে পারেননি; গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেয়েছে এফভি কুলসুমা।

এক ট্রলারের সাফল্যের আড়ালে জেলার মৎস্য খাতের সংকট স্পষ্ট। কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, জেলার ছোট-বড় ৬ হাজার ট্রলারের মধ্যে ৪ হাজার ঘাটেই পড়ে আছে। সাত দিনের এক ট্রিপে ৬–৭ লাখ টাকা খরচ হলেও মাছ বিক্রি করে মেলে ১ থেকে ৩ লাখ টাকা। লোকসানে বহু মালিক ট্রলার বিক্রি করে দিচ্ছেন; জেলার ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি জেলে সবচেয়ে বেশি বিপদে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বাজারে ৫ হাজার ৬৫৮ টন মাছ অবতরণ হয়েছিল, যার মধ্যে ইলিশ ১ হাজার ৬২৮ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট অবতরণ নেমে আসে ২ হাজার ৩৯ টনে, ইলিশ ৫২২ টন। জেলা মৎস্য বিভাগের হিসাবে গত অর্থবছরে জেলায় ২০ হাজার টনের বেশি ইলিশ ধরা পড়লেও চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই-আড়াই মাসে ৫০০ টনও হয়নি।

কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হক এর কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক দূষণ, উপকূলে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক ও ছেঁড়া জাল এবং ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বৃদ্ধির কথা বলছেন। তাঁর মতে, সাগরে যে পরিমাণ মাছ মজুত আছে, আহরণ হচ্ছে তার চেয়ে বেশি—সেখান থেকেই মাছের সংকটের শুরু।

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

ইলিশের উল্টো যাত্রা

একসময় গল্পটা ছিল উল্টো। পদ্মা-মেঘনার ইলিশ সীমান্ত পেরিয়ে যেত পশ্চিমবঙ্গের বাজারে। কলকাতার বাঙালির কাছে বাংলাদেশের ইলিশ ছিল বিশেষ আকর্ষণের নাম। দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশের ইলিশ ভারতে যাওয়ার খবর নিয়ে সংবাদমাধ্যমে উৎসবের আবহ তৈরি হতো। আর এখন সেই গল্পে যেন হঠাৎ উল্টো পাতা খুলেছে। ভারত থেকে ইলিশ আসছে বাংল

জাগো নিউজ ২৪১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬৭ মিনিটের পড়া
মৎস্য

পদ্মা-মেঘনার ইলিশ কেন এত সুস্বাদু: রহস্য মাছে নয়, তার খাবারে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, মোহনার প্ল্যাঙ্কটনে চর্বি জমেই স্বাদ তৈরি হয়; দেশের ইলিশের মাত্র ২ শতাংশ সরাসরি পদ্মার, বড় ও সুস্বাদু ইলিশের বেশির ভাগ আসে মেঘনার অববাহিকা থেকে।

প্রথম আলো১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

হাতিয়ায় জালে ২৮০ কেজির শাপলাপাতা মাছ, সংরক্ষিত প্রজাতি বিক্রি হলো ৯০ হাজার টাকায়

বন্য প্রাণী আইনে শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও মেঘনায় ধরা পড়া সাত মণ ওজনের মাছটি চেয়ারম্যানঘাটে কেটে টুকরা করে বিক্রি হয়েছে; জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, মৎস্য আইনে সরাসরি নিষিদ্ধ নয়, তবে বন আইনে বিপন্ন প্রজাতি।

প্রথম আলো১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()