ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (IRS, আইআরএস)-এর নির্দেশনা এবং জ্বালানি দপ্তর (DOE, ডিওই)-এর মডেল হালনাগাদের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরা ৪৫জেড ক্লিন ফুয়েল প্রোডাকশন ক্রেডিটের সুবিধা পাওয়ার আরও এক ধাপ কাছে এলেন। আইআরএস জানিয়েছে, মার্কিন কৃষি দপ্তর (USDA, ইউএসডিএ) এ বছরের শুরুতে যে কারিগরি নির্দেশিকা দিয়েছিল, সে অনুযায়ী যোগ্য কম কার্বনের কৃষিপদ্ধতি কর ছাড়ের হিসাবে ব্যবহার করা যাবে; আর ডিওই তাদের ৪৫জেডসিএফ-গ্রিট মডেলে—যা দিয়ে জ্বালানি উৎপাদকেরা উৎপাদনের কার্বন তীব্রতা মাপেন—ইউএসডিএ-র ফিডস্টক কার্বন তীব্রতা ক্যালকুলেটর যুক্ত করেছে।
আইআরএস-এর প্রধান নির্বাহী ফ্রাঙ্ক জে. বিসিগনানো (Frank J. Bisignano) বলেন, ‘এই নির্দেশনা আমেরিকার কৃষি উৎপাদকদের জন্য শত শত কোটি ডলার উন্মুক্ত করতে, গ্রামীণ আমেরিকাজুড়ে বিনিয়োগে বেশি নিশ্চয়তা দিতে, দেশীয় জৈব জ্বালানি উৎপাদন শক্ত করতে এবং মার্কিন ভোক্তাদের জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করবে।’
ইথানল শিল্পের সংগঠন গ্রোথ এনার্জি জানায়, নির্দেশনায় ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ ৪৫জেড-এ যেসব বদল এনেছে তার অন্তর্বর্তী নিয়মও আছে—যার মধ্যে রয়েছে নিঃসরণ হারের হিসাব থেকে ‘ত্রুটিপূর্ণ, সেকেলে ও ভুল’ পরোক্ষ ভূমি-ব্যবহার পরিবর্তনের হিসাব বাদ দেওয়ার শর্ত, যা নিয়ে জৈব জ্বালানি শিল্পের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
কৃষক সংগঠনগুলো সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইওয়ার সয়াবিন চাষি ডেভ ওয়ালটন (Dave Walton) বলেন, এতে জৈব জ্বালানি শিল্প বেশি অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা পেল, যা ‘মার্কিন সয়াবিনের দেশীয় চাহিদার এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস’। ন্যাশনাল কর্ন গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জেড বাওয়ার (Jed Bower) বলেন, নির্দেশনা বিদ্যমান পুনরুৎপাদনশীল চাষপদ্ধতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে ও ভূমি-ব্যবহার পরিবর্তনের সংশোধন আইনে বেঁধেছে; নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত বিধিতে ‘বুক অ্যান্ড ক্লেম’ পদ্ধতিকে সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈধ ধারা হিসেবে মানতে তাঁরা ট্রেজারিকে চাপ দেবেন।
ন্যাশনাল সরগাম প্রোডিউসার্সের প্রধান নির্বাহী টিম লাস্ট (Tim Lust) বলেন, কৃষক ও জৈব জ্বালানি উৎপাদকেরা ‘অবশেষে একটি কার্যকর ৪৫জেড কাঠামো’ পেলেন, যা দেশীয় জৈব জ্বালানির চাহিদা বাড়াবে এবং জোয়ারের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। মাটির স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য কোম্পানি কন্টিনিউয়াম অ্যাগ-এর প্রতিষ্ঠাতা মিচেল হোরা (Mitchell Hora) বলেন, খামারের চাষপদ্ধতি এখন ৪৫জেড দাবির বড় হাতিয়ার হওয়ার ‘আগের চেয়ে অনেক কাছে’।
বাস্তবে এর অর্থ, কোনো চাষি কম চাষ বা আচ্ছাদন ফসলের মতো পদ্ধতি নথিভুক্ত করলে সেই কম কার্বন স্কোর তাঁর শস্য কেনা ইথানল বা বায়োডিজেল কারখানায় পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে কর ছাড়ের মূল্যে যুক্ত হবে। প্রতিবেদন: ক্যাসিডি ওয়াল্টার (Cassidy Walter) ও মারায়া স্কোয়ার (Mariah Squire)।
সূত্র: Successful Farming




মন্তব্য
(০)