দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল। ফেসবুকের অসংখ্য পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে বিজ্ঞাপন দিয়ে এই জাল বিক্রি হচ্ছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানের দোকানেও তা মেলে। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, এই জালে মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে, যা খাদ্যনিরাপত্তার ভিত্তি দেশি মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি।
চায়না দুয়ারি বা চায়না রিং জাল একধরনের ফাঁদ; দুই পাশের দুয়ার দিয়ে মাছ ও অন্য প্রাণী ঢোকে, কিন্তু বের হতে পারে না। কয়েক হাত থেকে শত হাত লম্বা জালে একটু পরপর রিং বসানো থাকে। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে ‘চায়না দুয়ারি’ শব্দটি না থাকলেও মাটিতে গেঁথে বা অন্য উপায়ে স্থির করা জাল-ফাঁদ ‘ফিক্সড ইঞ্জিন’ হিসেবে নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণযোগ্য। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ মৎস্য বিভাগের পরিচালক মোতালেব হোসেনের ভাষ্য, চায়না দুয়ারি জাল ফিক্সড ইঞ্জিনের আওতায় পড়ে এবং অবৈধ; এভাবে চলতে থাকলে খাল-বিল, নদী-নালা, হাওর-বাঁওড়ে একসময় মাছ পাওয়া যাবে না।
‘চাইনা রিং জাল পাকাড়ি বাজার’ নামের একটি ফেসবুক পেজে চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে ১৪টি ছবি ও ভিডিও পোস্ট হয়েছে; ২৫ থেকে ১০২ হাত লম্বা জালের দাম ১ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা বলে উল্লেখ আছে, তবে কারখানার ঠিকানা নেই। বিডি ফিশিং গিয়ার্স, চায়না রিং জাল কালেকশন, চায়না রিং জাল পাইকারি বাজারসহ একই ধরনের নামে বহু পেজ আছে। ভিডিওতে ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো নম্বর দেওয়া থাকে; যোগাযোগ করলে কুরিয়ারে জাল পাঠানো হয়, টাকা নেওয়া হয় বিকাশ বা রকেটে। ৫ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার চকবাজারের এক দোকানি জানান, কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা থেকে এনে তিনি এই জাল বিক্রি করেন।
অভিযোগ আছে, এই জালের বিক্রি ও ব্যবহার ঠেকাতে মৎস্য অধিদপ্তর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক বলেন, জাল ও রিং সহজলভ্য, অধিদপ্তরের জনবলসংকট আছে এবং একার পক্ষে এটি নিয়ন্ত্রণ কষ্টকর; পুলিশের সহায়তায় প্রতিদিন অভিযান চলছে। গত ১৩ এপ্রিল সব বিভাগের পরিচালকদের চিঠি দিয়ে অভিযান বাড়াতে বলা হলেও এরপর কত অভিযান বা ভ্রাম্যমাণ আদালত হয়েছে, তার তথ্য অধিদপ্তরে নেই। মোতালেব হোসেনের দাবি, ব্যাপকভাবে জাল জব্দ হচ্ছে এবং কয়েকটি কারখানার বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শহীদ রেজা জানান, ২০২০-২১ সাল থেকে দেশে এই জালের ব্যবহার ব্যাপক হয়েছে; মাছ থেকে শুরু করে সাপ-ব্যাঙসহ সব ধরনের জলজ প্রাণী এতে আটকা পড়ে বলেই সরকার এটি নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অভিযান জোরদার, প্রয়োজনে শাস্তি এবং প্রচার—তিনটিই দরকার বলে মত তাঁর।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)