সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস ১২ কিমি/ঘ

ছাগল পালন নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার

বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে ছাগল পালনের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। অল্প জমি, স্বল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে আয় করার অন্যতম সহজ উপায় হিসেবে ছাগল পালনকে বিবেচনা করা হয়। দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারে কম-বেশি ছাগল পালন করা হয়, বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে এটি গুরুত্ব পাচ্ছে। ছাগল পালন শুধু এক

লাইভস্টক

বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে ছাগল পালনের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। অল্প জমি, স্বল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে আয় করার অন্যতম সহজ উপায় হিসেবে ছাগল পালনকে বিবেচনা করা হয়। দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারে কম-বেশি ছাগল পালন করা হয়, বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে এটি গুরুত্ব পাচ্ছে। ছাগল পালন শুধু একটি পরিবারের আর্থিক উন্নয়নেই নয় বরং সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

প্রথমত, ছাগল পালনের প্রধান সুবিধা হলো এর জন্য বড় জায়গা বা বিশেষ অবকাঠামোর প্রয়োজন পড়ে না। গ্রামের অনেক পরিবারই বসতবাড়ির আঙিনায় ছাগল পালন করে থাকেন। এতে জমি ব্যবহার ছাড়াই আয় করা সম্ভব হয়। ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনা তুলনামূলক সহজ। ধানের খুড়কি, ঘাস, পাতা ও বিভিন্ন কৃষিজ অবশিষ্ট দিয়ে সহজেই তাদের খাওয়ানো যায়। তাই একটি কিংবা দুটি ছাগল পালনে খরচ নেই বললেই চলে। আবার ছাগল রোগ প্রতিরোধে তুলনামূলক শক্তিশালী হওয়ায় চিকিৎসা খরচও কম হয়।

দ্বিতীয়ত, ছাগল একটি বহুমুখী উপকারী প্রাণী। এর দুধ, মাংস এবং চামড়া অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান। ছাগলের দুধ অনেক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও সহজপাচ্য হওয়ায় এটি শিশু ও রোগীদের জন্য উপযোগী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন ছাগলের দুধ থেকে ঘি, ছানা, দই ও পনির তৈরির উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে। ছাগলের মাংসের বাজার চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে কোরবানি, বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে।

তৃতীয়ত, ছাগল পালন নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রাণী খাতের মাধ্যমে বর্তমানে শতকরা ২০ ভাগ প্রত্যক্ষ এবং ৫০ ভাগ পরোক্ষভাবে মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে, যার অধিকাংশই নারী। অনেক এনজিও ও সরকারি সংস্থা স্বনির্ভর নারীদের ছাগল পালনের জন্য বিনা মূল্যে বা স্বল্পসুদে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করছে। এতে নারীরা পরিবারের আয়ের একটি অংশে সরাসরি অবদান রাখতে পারছে এবং নিজের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মর্যাদা অর্জন করছে।

চতুর্থত, ছাগল বিক্রির অর্থ দিয়ে অনেক পরিবার সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা ঘর-বাড়ির সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে পারে। একটি বা দুটি ছাগল থেকে শুরু করে অনেকে এখন ২০ থেকে ৩০টি ছাগল পালনের খামার গড়ে তুলেছেন। যা স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করছে।

পঞ্চমত, ছাগল পালনের সাথে জড়িত অন্যান্য খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যেমন- ছাগলের খাদ্য সরবরাহ, পশু চিকিৎসা, ছাগলের জন্য খাঁচা বা ঘর তৈরি, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ ইত্যাদি। এতে একটি ছোট পরিসরের ছাগল খামারও পুরো একটি ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক চক্র গড়ে তুলতে সক্ষম।

তবে ছাগল পালন নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়লে একসাথে অনেক ছাগলের মৃত্যু হতে পারে। যার ফলে বড় আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি প্রজননের সময় সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে ছাগলছানার মৃত্যুহার বেড়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, টিকা কার্যক্রম এবং সরকারি-বেসরকারি সহায়তার সম্প্রসারণ।

সবশেষে বলা যায়, ছাগল পালন শুধু একটি কৃষিপ্রধান দেশের চিরায়ত সংস্কার নয়; এটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি কার্যকর হাতিয়ার। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রণোদনা পেলে ছাগল পালন গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে পারে। এটি গ্রামীণ মানুষের জীবিকা উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও নারী ক্ষমতায়নের একটি সাশ্রয়ী ও টেকসই উপায়।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সরকারি সহযোগিতায় শৌখিন পায়রা রপ্তানি সম্ভব

দেশে বাড়ছে শৌখিন পায়রা পালনের বাণিজ্যিক উদ্যোগ। নরসিংদীতে এমনই এক সফল খামার গড়ে তুলেছেন এক উদ্যোক্তা। সেখানে রয়েছে নানা জাতের বিদেশী পায়রা। উদ্যোক্তা বলছেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব শৌখিন পায়রা রপ্তানি করা সম্ভব।

শাইখ সিরাজ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
লাইভস্টক

ডিমের ভেতরেই লিঙ্গ নির্ণয়: পাঁচ বছরে ইউরোপের ৪০ শতাংশ বাজারে, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিধায়

ডিম ফোটার আগেই বাচ্চার লিঙ্গ নির্ণয়ের প্রযুক্তি পাঁচ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের লেয়ার বাজারের শূন্য থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে, পুরুষ বাচ্চা মারার ওপর নিষেধাজ্ঞার জোরে; যুক্তরাষ্ট্রে কেবল প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলো এটি নিয়েছে, খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি দাম দিতে নারাজ।

এজিফান্ডনিউজ ২৪৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

NoFence আনল তৃতীয় প্রজন্মের গবাদিপশুর কলার N3 ও পশুপাল ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম

নরওয়ের ভার্চুয়াল ফেন্সিং কোম্পানি NoFence তাদের তৃতীয় প্রজন্মের গবাদিপশুর কলার N3 বাজারে এনেছে—স্যাটেলাইট ব্যাকআপ আর এমন সফটওয়্যার নিয়ে, যা চারণের হিসাব নিজে লেখে, সময়সূচি ধরে পাল সরায় এবং গরমে আসা গাভি চিহ্নিত করে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()