সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৪%বাতাস ১১ কিমি/ঘ

ছাদ বাগানে আয়েশার সাফল্য, চারা যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

ফরিদপুর শহরের গৃহলক্ষ্মীপুর মহল্লার আয়েশা আশরাফী ফলের বাগান করে বেশ সফলতা পেয়েছেন। তার দুটি ছাদ বাগানে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের ফল গাছ। গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা বর্ণিল ফল। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রিও করছেন তিনি। ছাদ বাগান ও গাছের চারা থেকে আয় করে রীতিমতো সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। গ্রাফ

ফল

ফরিদপুর শহরের গৃহলক্ষ্মীপুর মহল্লার আয়েশা আশরাফী ফলের বাগান করে বেশ সফলতা পেয়েছেন। তার দুটি ছাদ বাগানে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের ফল গাছ। গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা বর্ণিল ফল। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রিও করছেন তিনি। ছাদ বাগান ও গাছের চারা থেকে আয় করে রীতিমতো সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। গ্রাফটিং ও গুটি কলমের মাধ্যমে গাছের চারা অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। কুরিয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় চারা পৌঁছে দিচ্ছেন। মানুষকে দিচ্ছেন পরামর্শ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইডেন মহিলা কলেজ থেকে অনার্স পাস করেছেন আয়েশা আশরাফী। ছোটবেলা থেকেই গাছপালার প্রতি বেশ ভালোবাসা। বিশেষ করে ফল বাগানের প্রতি তার ঝোঁক বেশি। ভালোবাসা আর পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা বিবেচনা করে ছাদ বাগানে আগ্রহী হন। ২০১৯ সালে বাড়ির ছাদে সবজি ও ফল চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই বেশ সফলতা পান। এরপর থেকে তিনি ছাদ বাগান করার সিদ্ধান্ত নেন। তার ছাদ বাগানের সফলতা দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন। অনেকেই আসেন পরামর্শ ও সহায়তা নিতে। তিনি নারীদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন।

আয়েশা আশরাফীর ১২০০ স্কয়ার ফিটের দুটি ছাদ বাগান ছাড়াও চানমারি এলাকায় আছে নার্সারি। যেখানে কলমের মাধ্যমে ফল গাছের চারা তৈরি করা হয়। সেগুলো সারাদেশে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হয়। বিশেষ করে বিদেশি আনারের চারা তৈরি করে অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বিদেশি জাতের আনারের চারার দাম প্রতিটি ৫০০ টাকা। কুরিয়ার খরচ ২০০ টাকা। এ ছাড়া তিনি দেশের বিভিন্ন চাষি ও বাগান মালিকদের চারা রোপণ ও পরিচর্যার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে অসংখ্য মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতের অসংখ্য মানুষ অনলাইনে তার পরামর্শ নিয়ে ফল গাছ রোপণ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, আয়েশা আশরাফীর দুটি ছাদ বাগান ও নার্সারিতে অন্তত ২০০টির মতো বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ শোভা পাচ্ছে। সবই উন্নত জাতের এবং বেশিরভাগই বিদেশি। এর মধ্যে পাকিস্তানি আনার, অস্ট্রেলিয়ান আনার, মেক্সিকান আনার, ভাগুয়া আনার, থাই আনার, ড্রাগন, চায়না থ্রি লেবু, ফিলিপাইন ব্ল্যাক আখ, কদবেল, থাই শরিফা, অরবরই, মিষ্টি জলপাই, মিসরীয় তিন ফল, রেড প্যালেস্টাইন তিন ফল, সৌদি ইয়োলো, দার্জিলিং কমলা, কাশ্মীরি আপেল কুল, থাই জাম্বুরা, থাই সফেদা, থাই মিষ্টি তেঁতুল, থাই বারোমাসি আমড়া অন্যতম।

তার বাগানে ৩ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। বাগানের শ্রমিক প্রান্ত মালো জাগো নিউজকে বলেন, 'আমি পড়ালেখার পাশাপাশি এখানে কাজ করি। এতে আমার পড়ালেখার খরচও হয় আবার নিজেও চলতে পারি।'

আরেক শ্রমিক তানভির ইসলাম বলেন, 'এখান থেকে বিভিন্ন বিদেশি জাতের ফলের চারা কলমের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। সেগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এখান থেকে চারা সংগ্রহ করে মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফলের বাগান গড়ে উঠেছে। আয়েশা আশরাফী আপু তাদের অনলাইনের মাধ্যমে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।'

আয়েশা আশরাফী জাগো নিউজকে বলেন, 'মাত্র পাঁচটি ফলের গাছ দিয়ে ছাদ বাগানের যাত্রা শুরু। সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকা। প্রথম বছরেই গাছগুলোতে ভালো ফল পাই। তারপর থেকে পুরো ছাদে বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ রোপণ করি। ছাদে এখন প্রায় সব ধরনের ফলের গাছ আছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ফল ও ফলের চারা বাজারে বিক্রি করি।'

তিনি বলেন, 'এসব ফলের গাছ থেকে গ্রাফটিং ও গুটি কলমের মাধ্যমে চারা করা হয়। কলমের গাছের চারাগুলো অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করি। কুরিয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় চারাগুলো পৌঁছে দিই। বিভিন্ন ধরনের ফল ও গাছের চারা বিক্রি করে গড়ে এক বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো আয় হয়।'

আয়েশা আরও বলেন, 'এসব গাছে কিচেন কমপোস্ট ব্যবহার করা হয়। যা নিজেই তৈরি করি। এ ছাড়া গোবর সার, খৈল, পানি, কলার খোসা, ডিমের খোসাসহ বিভিন্ন দ্রব্য ব্যবহার করে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ করি। আমার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল আছে। যার মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অসংখ্য চাষি চারা সংগ্রহ করেন এবং পরামর্শ নিয়ে থাকেন।'

ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, 'দিন দিন তার ছাদ বাগান বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ ধরনের ছাদ বাগান তৈরিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।'

এন কে বি নয়ন/এসইউ/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

কেরানীগঞ্জে উচ্চমূল্যের ফল চাষে দুই তরুণের সাফল্য

গতানুগতিক শিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে কৃষিতে নতুন ভবিষ্যৎ খুঁজছেন শিক্ষিত তরুণরা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সংলগ্ন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ২৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে উচ্চমূল্যের অপ্রচলিত ফলের আধুনিক চাষাবাদ শুরু করেছেন দুই তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা। শাম্মাম, রকমেলন ও ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে প্রথমবারেই এসেছে বড় সাফল্য।

শাইখ সিরাজ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
এগ্রোটেক

চাষিকে তথ্য-বিশ্লেষক হতে হবে না, বলছেন Orchard Robotics-এর Charlie Wu

Orchard Robotics-এর প্রতিষ্ঠাতা Charlie Wu বলছেন, ট্রাক্টরে বসানো তাঁদের এআই ক্যামেরা গাছ ধরে ধরে ফল গোনে ও মাপে, শ্রম ও উপকরণ সাশ্রয়ে প্রথম বছরেই তিন থেকে দশ গুণ ফেরত দেয়; আপেল থেকে কোম্পানিটি এখন আরও এক ডজন ফসলে যাচ্ছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()