সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮৬%বাতাস কিমি/ঘ

গরুতে সয়লাব খামার, হাটের ঝামেলা এড়িয়ে শখের ক্রেতাদের ভিড়

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রামের পশুর হাট ও খামারগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। নগর ও আশপাশের বিভিন্ন এগ্রো ফার্মে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শৌখিন ক্রেতারা।

লাইভস্টক

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রামের পশুর হাট ও খামারগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। নগর ও আশপাশের বিভিন্ন এগ্রো ফার্মে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শৌখিন ক্রেতারা।

কেউ পরিবার নিয়ে গরু দেখতে যাচ্ছেন, কেউ আগেভাগেই পছন্দের গরু বুকিং দিয়ে রাখছেন। কোথাও ছোট-বড়দের উচ্ছ্বাস, কোথাও আবার মোবাইলে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার ব্যস্ততা।

নগরের অক্সিজেন, ভাটিয়ারী, সাগরিকা, বিবিরহাট, হিলভিউ ও কাতালগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন খামারে এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা।

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গরু দেখতে আসছেন। অনেকে পছন্দের গরু আগেভাগেই বুকিং দিয়ে যাচ্ছেন। এবার মাঝারি ও তেলতেলে গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। - নুরুল আলম সওদাগর

অক্সিজেন এলাকার কোয়াইশের মেসার্স হাজী মারুফা এগ্রো ফার্মের মালিক আলহাজ মোহাম্মদ মনজুরুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিন দিনে-রাতে আমার খামারে ক্রেতারা গরু কিনতে আসছে। অনেকেই গরু কিনে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন আবার কেউ কেউ কিনে ফার্মে রেখে যাচ্ছেন। কয়েকদিন ধরে মোটামুটি ফার্মে ভিড় দেখা যাচ্ছে।

অক্সিজেন এলাকার কোয়াইশের শাহ চরনদ্বীপী এগ্রো ডেইরি ফার্মে দেখা যায়, কয়েকটি পরিবার শিশুদের নিয়ে গরু দেখতে এসেছে। কেউ গরুর সঙ্গে ছবি তুলছেন, কেউ আবার গরুর দাম ও ওজন নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

শাহ আমানত এগ্রো ফার্মের মালিক নুরুল আলম সওদাগর বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গরু দেখতে আসছেন। অনেকে পছন্দের গরু আগেভাগেই বুকিং দিয়ে যাচ্ছেন। এবার মাঝারি ও তেলতেলে গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

তিনি জানান, আগের মতো বিশাল আকৃতির গরুর প্রতি মানুষের আগ্রহ এবার কম। বেশিরভাগ ক্রেতা ২ থেকে ৪ লাখ টাকার মধ্যে গরু খুঁজছেন।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশের কারণে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। কম দামে ভারতীয় গরু আসায় দেশীয় গরুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া যেত না।

তবে এবার ভারতীয় গরুর প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে আছেন স্থানীয় খামারিরা।

আরও পড়ুনপশুর হাটে ক্রেতা কম, দাম ছাড়ছেন না বিক্রেতারা ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হলো সেই 'কালো মানিক' 'মনে হয় না সব গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে পারবো

হিলভিউ এলাকার খামারি আতাউর রহমান বলেন, জেলার বাইরে থেকে অতিরিক্ত গরু না এলে আমরা ভালো দাম পাব। প্রতি বছর বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারত ও মিয়ানমারের গরু ঢুকে পড়ে। এতে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

সার্ম এগ্রোর মালিক নুরুল আবছার বলেন, বড় গরু পালতে খরচ অনেক বেশি। খাবারের দামও বেড়েছে। কিন্তু ক্রেতারা এখন ছোট ও মাঝারি গরু খুঁজছেন। তাই এবার সেই অনুযায়ী গরু প্রস্তুত করেছি।

নগরের বিভিন্ন এলাকার সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার অনেকে বাজেট কমিয়ে কোরবানির পরিকল্পনা করছেন।

এবার ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি হিসাব করে বাজারে আসছেন। অনেকে হাটে না গিয়ে সরাসরি খামার থেকে গরু কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। - গরু ব্যবসায়ী

বাকলিয়ার বাসিন্দা নুরুল আবছার বলেন, আমাদের দুই ভাইয়ের পরিবার মিলে কোরবানি দিই। এবার সংসারের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তাই ছোট গরু নেওয়ার চিন্তা করছি। পরিবার নিয়ে খামারে গিয়ে গরু দেখে অ্যাডভান্স করে এসেছি।

বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর বড় গরু কোরবানি দিয়েছিলাম। এবার মোটামুটি মানের গরু হলেই চলবে। এখন সবকিছুর দাম বেশি।

আরও পড়ুনকোরবানির পশু বজ্রপাতে মারা গেলে কোরবানি আদায় হবে? অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভাগে কোরবানি কোরবানির বাজারে ডিজিটাল পশুর হাটের দাপট

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি হিসাব করে বাজারে আসছেন। অনেকে হাটে না গিয়ে সরাসরি খামার থেকে গরু কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলমগীর বলেন, এবার চট্টগ্রামে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় বেশি হতে পারে। উপজেলা পর্যায় থেকেও উদ্বৃত্ত পশু নগরে আসবে। আগে ভারতীয় গরুর প্রভাব বেশি ছিল, এখন দেশীয় খামারিরা অনেক এগিয়ে গেছে।

তিনি জানান, সুস্থ ও নিরাপদ পশু নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খামারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হাটগুলোতেও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্টেট অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবার পশুর সরবরাহ ভালো। কৃত্রিমভাবে পশু মোটাতাজাকরণ রোধে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। আশা করছি, ক্রেতারা সহনীয় দামে পশু কিনতে পারবেন।

গত কয়েক বছরের মতো এবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোরবানির পশু বিক্রির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক খামারি ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে গরু প্রদর্শন করছেন।

আরও পড়ুনময়মনসিংহে কোরবানির হাটে আলোচনায় ৩৫ মণের 'সাদা ময়না' কোরবানির বাজারে মন্দার আভাস কোরবানি সামনে রেখে টুংটাং শব্দে মুখর কামারপট্টি

খামারিরা বলছেন, অনলাইনে বিক্রি বাড়লে হাটের চাপ কমবে এবং পরিবহন ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও কিছুটা হ্রাস পাবে। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবার বা ব্যস্ত নগরবাসীর মধ্যে অনলাইনে গরু বুকিংয়ের আগ্রহ বাড়ছে।

তবে ব্যবসায়ী ও খামারিরা আশঙ্কা করছেন, শেষ সময়ে অতিবৃষ্টি বা পরিবহন সংকট দেখা দিলে বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। কারণ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু পরিবহনের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে চট্টগ্রামের বাজার।

এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। স্থানীয় খামারগুলোতে পর্যাপ্ত গরু-ছাগল প্রস্তুত রয়েছে। - প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা

খামারি, ব্যবসায়ী ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। স্থানীয় খামারগুলোতে পর্যাপ্ত গরু-ছাগল প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক গরু চট্টগ্রামে আসবে।

তবে বাজারের চিত্রে এবার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের পছন্দে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সংসার খরচ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে বড় গরুর বদলে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে ঝুঁকছেন বেশিরভাগ মানুষ। খামারিরাও সেই চাহিদা মাথায় রেখে এবার তুলনামূলক মাঝারি গরু বেশি প্রস্তুত করেছেন।

তারপরও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবার কোরবানির পশুর বাজারে বড় ধরনের সংকট হবে না। বরং পর্যাপ্ত সরবরাহ, মাঝারি গরুর চাহিদা বৃদ্ধি এবং দেশীয় খামারিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে।

এমআরএএইচ/এমআরএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

ডিম-মুরগির দাম কারসাজিতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি, খামারিরা বলছেন গরমেই উৎপাদন কম

ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তর ডিম ও মুরগির দাম কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলেও পোলট্রি উদ্যোক্তারা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে উৎপাদন কমাই দাম বাড়ার কারণ।

সমকাল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিদ্ধ ডিম কতক্ষণের মধ্যে খাওয়া উচিত?

ঝটপট প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে কিংবা সকালের নাশতায় ডিমের জুড়ি নেই। ব্যস্ত সকালে সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে রাখেন। পরিবারের সবাই খাওয়ার পরও দু-একটি ডিম বেঁচে গেলে তখন প্রশ্ন আসে-সেগুলো কি পরে খাওয়া যাবে? নাকি সিদ্ধ ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়? সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে সিদ্ধ ডিম ফেলে দেওয়ার

জাগো নিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

কলম্বিয়ার নতুন আইনে গবাদিপশুর বাণিজ্য বাঁধা পড়ল বন পর্যবেক্ষণে

২০২৬ সালের ৪ জুন কার্যকর হওয়া লেই ২৫৮৫ কলম্বিয়ার গবাদিপশুর ট্রেসেবিলিটিকে বন পর্যবেক্ষণ ও ভূমির নথির সঙ্গে যুক্ত করেছে; আইনের তিনটি অনুচ্ছেদ গড়ে উঠেছে অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ও সিআইএটি-র কাজের ওপর ভিত্তি করে।

CGIAR১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()