ঢাকার আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে শুরু হয়েছে জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৩। টানা দুদিন ধরে ঝুম বৃষ্টির পর বৃক্ষমেলা প্রাঙ্গণ যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সবুজ-সতেজ গাছ-গাছালি থরে থরে সাজানো পুরো মাঠ জুড়ে। চোখ জুড়ানো দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি কেউ কেউ পছন্দের গাছ কিনছেন মেলায়।
এবার জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'গাছ লাগিয়ে যত্ন করি, সুস্থ প্রজন্মের দেশ গড়ি'। প্রথম পর্বে ৫ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চলবে মেলা। আবার ঈদের পর ১ জুলাই শুরু হয়ে, ১২ জুলাই শেষ হবে বৃক্ষমেলার আয়োজন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস, ৫ জুন থেকে বৃক্ষমেলা শুরু হলেও তীব্র গরমে নিষ্প্রাণ ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা আর দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল কম। তবে গত দুদিনের বৃষ্টিতে স্বস্তিতে ঢাকাবাসী। শুধু তাই নয়, প্রাণ ফিরে পেয়েছে বৃক্ষমেলা।
বৃষ্টির কারণে বেচাকেনা বেড়ে গেছে বলছেন মেলার আয়োজকরা।
মেলার তথ্যকেন্দ্র থেকে আব্দুল্লাহ সাদেক জাগো নিউজকে বলেন, বৃষ্টির পর বেচাকেনা ও মেলায় আসা দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। শুক্রবার ও শনিবার ছুটি হওয়ায় অন্যরকম ভিড় ছিল মেলায়।
মিরপুর থেকে মেলায় আসা হায়াত উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, 'আশপাশের জেলা ও গ্রামের তুলনায় ঢাকায় তাপমাত্রা বেশ কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। আমরা যারা ঢাকাতে বসবাস করি এবং গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তা অনুভব করতে পারি। তীব্র তাপপ্রবাহ কমাতে ও ঢাকাকে বসবাস উপযোগী করতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।'
মেলায় সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান গেট দিয়ে ঢুকলেই মনে হয় প্রকৃতির এক অন্য জগৎ। চারদিকে সবুজের সমাহার। সবুজের আড়ালেই দর্শনার্থীদের চোখ কেড়ে নিচ্ছে নানা ধরনের ফল ও ফুলের গাছ। ছোট ছোট গাছে বড় ফল দেখলেই দর্শনার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন সেদিকে। অনেকেই আবার দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের গাছ।
এবারের বৃক্ষমেলায় সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং অন্যান্য মিলে মোট ১২২টি নার্সারি ও স্টল রয়েছে বলে জানান তথ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ সাদেক।
তথ্যকেন্দ্র থেকে আরও জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ন্যাশনাল হারবেরিয়াম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট।
মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের মধ্যে ফলদ বৃক্ষের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আর ফলদ বৃক্ষের মধ্যে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে নানা জাতের আম, পেয়ারা, সফেদা, লেবু, কড়মচা, আমড়া, জলপাই, আমলকি ইত্যাদি।
গ্রিন স্পেস নার্সারির সাহেব আলী জানান, বৃষ্টির পরে বেচাকেনা বেড়েছে। তিনি তার নার্সারি সাজিয়েছেন দেশের দুর্লভ সব গাছ সংগ্রহ করে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) প্রায় ১২০ প্রজাতির গাছকে দুর্ল্ভ ও বিপন্নপ্রায় বিবেচিত করেছে। তন্মধ্যে ৭৫ গাছ আমাদের এখানে পাওয়া যাবে। বৈলাম, পার্সিয়ানের মতো দুলর্ভ ও বিপন্ন গাছ রয়েছে এখানে।
ফাতেমা নার্সারির আমিনুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন প্রকার পার্কের গাছ ও ডেকোরেশনের গাছ তাদের কাছে পাওয়া যাবে। বেচাকেনার ব্যাপারে তিনি বলেন, তীব্র তাপপ্রদাহের পর বৃষ্টিতে ক্রেতা বেড়েছে। তবে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলা আরও জমে উঠবে বলে আশা তার।
মেলায় দেশি জাতের চারার পাশাপাশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বিদেশি বিভিন্ন প্রকার নাম জানা অজানা গাছের। বেলী গার্ডেন নার্সারির ইমন বলেন, তার নার্সারিতে বিদেশি গাছের চারা বেশি রয়েছে। তন্মধ্যে নান্দকমাই-সিমোয়ান নামে গাছের দাম ২০ হাজার টাকা, ব্রুনাই কিং এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিপ্লোমা নার্সারিতে বিদেশি গাছের মধ্যে রয়েছে আফ্রিকান কোকো চকলেট, দাম ১৫ হাজার, থাই নাশপাতির দাম ৩০ হাজার, ফিলিপাইনের সানথুনের দাম ৩০ হাজার, জাপানের পার্সিমনের দাম ২০ হাজার, থাই চিয়্যাংমাইয়ের দাম ৪০ হাজার।
বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রপাতি বিক্রি করছে হোসেন নার্সারি। এই নার্সারির সাদ্দাম হোসেন বলেন, তাদের কাছে কৃষির ছোট-বড় সব যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি বিক্রি হচ্ছে দুশো থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত।
তাসনিম আহমেদ তানিম/এসএনআর/জিকেএস





মন্তব্য
(০)