সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৮%বাতাস ১৪ কিমি/ঘ

বন বিড়াল প্রকৃতির এক অজানা সহযোদ্ধা

বাংলার নিভৃত জলাভূমি, ঘন ঝোঁপঝাড় কিংবা পরিত্যক্ত পুরোনো ভবনে নীরবে বসবাস করে এক চতুর শিকারি—জাঙ্গল ক্যাট, যা আমাদের কাছে বন বিড়াল, জংলি বিড়াল বা খাগড়া বিড়াল নামেই বেশি পরিচিত। মানুষের চোখের আড়ালে থাকলেও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণীটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবেশ

বাংলার নিভৃত জলাভূমি, ঘন ঝোঁপঝাড় কিংবা পরিত্যক্ত পুরোনো ভবনে নীরবে বসবাস করে এক চতুর শিকারি—জাঙ্গল ক্যাট, যা আমাদের কাছে বন বিড়াল, জংলি বিড়াল বা খাগড়া বিড়াল নামেই বেশি পরিচিত। মানুষের চোখের আড়ালে থাকলেও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণীটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন বিড়াল অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতার অধিকারী। গাছে ওঠা, সাঁতার কাটা কিংবা দ্রুত দৌড়ানো—সব ক্ষেত্রেই এরা পারদর্শী। নিশাচর হওয়ায় দিনের আলোয় খুব কমই দেখা মেলে এদের। রাত নামলেই শুরু হয় খাদ্য অনুসন্ধান, আর সেই খোঁজে এক রাতে ৩ থেকে ৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করাও এদের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার। বাংলাদেশের হাওর-বাঁওড়, নদী-তীরবর্তী এলাকা এবং ধানক্ষেত ঘেঁষা ঝোঁপঝাড়ে এদের উপস্থিতি বেশি। পরিবেশের সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকতে পারে যে, অনেক সময় কাছাকাছি থাকলেও মানুষ টের পায় না।

বন বিড়ালের খাদ্যতালিকায় আছে পাখি, খরগোশ, গিরগিটি, মাছ, ব্যাঙ, এমনকি সাপও। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এরা বিপুল পরিমাণ ইঁদুর ও ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে থাকে। এই ইঁদুরই ধান ও অন্যান্য ফসলের বড় শত্রু। ফলে বন বিড়াল কৃষকের অজান্তেই ফসল রক্ষা করে। এক অর্থে বলা যায়, রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিকভাবেই কাজ করছে প্রাণীটি। যদিও মাঝে মাঝে খাবারের অভাবে গ্রামাঞ্চলের হাঁস-মুরগির খোঁয়াড়ে হানা দেয় কিন্তু সেই ক্ষতি সামগ্রিক উপকারের তুলনায় খুবই সামান্য।

মানুষের সঙ্গে বন বিড়ালের সম্পর্ক সব সময় ইতিবাচক নয়। অনেক সময় মানুষ এটিকে ক্ষতিকর ভেবে হত্যা করে। আবার গ্রামাঞ্চলে 'বাঘের বাচ্চা' বা 'বিপজ্জনক প্রাণী' বলে ভুল ধারণাও আছে। এই ভুল বোঝাবুঝির কারণেই অনেক বন বিড়াল অকারণে প্রাণ হারাচ্ছে। অথচ বাস্তবে এরা মানুষের জন্য হুমকি নয়।

বর্তমানে বন বিড়ালের সবচেয়ে বড় সংকট হলো আবাসস্থল হারানো। জলাভূমি ভরাট, বন উজাড়, কৃষিজমির পরিবর্তন—এসব কারণে এদের বসবাসের জায়গা দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার বন বিড়ালকে 'ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত' হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও স্থানীয়ভাবে অনেক জায়গায় এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশে ওয়াইল্ডলাইফ (কনজারভেশন অ্যান্ড সিকিউরিটি) অ্যাক্ট অনুযায়ী বন বিড়াল সংরক্ষিত প্রাণী। এ আইনের আওতায় এই প্রাণী হত্যা, শিকার বা ক্ষতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে শুধু আইন করলেই যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা। প্রকৃতিতে প্রতিটি প্রাণীরই নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। বন বিড়াল খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে এটি ফসল রক্ষা করে এবং একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। এদের সংখ্যা কমে গেলে ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে—যা সরাসরি মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলবে।

প্রকৃতি বিশেষজ্ঞদের মতে, বন বিড়াল রক্ষায় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সচেতনতা বৃদ্ধি। এজন্য দরকার গ্রামাঞ্চলে প্রচারণা চালানো, বন ও জলাভূমি সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা ও স্কুল-কলেজ পর্যায়ে পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করা। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করলে বন বিড়ালসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারবে।

নিঃশব্দে, নিভৃতে নিজের কাজ করে যায় বন বিড়াল। মানুষের উপকার করেও বিনিময়ে পায় অবহেলা, কখনো নির্মমতা। প্রকৃতির এই অজানা সহযোদ্ধাকে রক্ষা করা মানে শুধু একটি প্রাণীকে বাঁচানো নয়—বরং আমাদের নিজেদের পরিবেশ, কৃষি ও ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখা। প্রকৃতি আর প্রাণের এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে বন বিড়াল বেঁচে থাকুক—এটাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()