সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস ১২ কিমি/ঘ

ভারতীয় গরুর আধিপত্য নেই, দেশিতেই লাভের আশা খামারিদের

আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাদেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে হাটে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। খামারিরা বলছেন, আগের তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে ভারতীয় গরুর আধিপত্য নেই। তাই বাজারে চাহিদা থাকবে দেশি গরুর। ফলে ভালো দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী খামারিরা।

লাইভস্টক

আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাদেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে হাটে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। খামারিরা বলছেন, আগের তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে ভারতীয় গরুর আধিপত্য নেই। তাই বাজারে চাহিদা থাকবে দেশি গরুর। ফলে ভালো দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এবার রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট চার লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। এর মধ্যে গরু এক লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি, মহিষ তিন হাজার ৪২৫টি, ছাগল তিন লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি এবং ভেড়া ৪৩ হাজার ৪০৬টি। জেলায় কোরবানি পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অতিরিক্ত পশু রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। শুধু রাজশাহী জেলা নয়, পুরো বিভাগজুড়েই পশুর সরবরাহ আশাব্যঞ্জক।

'এবার রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট চার লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। এর মধ্যে গরু এক লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি, মহিষ তিন হাজার ৪২৫টি, ছাগল তিন লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি এবং ভেড়া ৪৩ হাজার ৪০৬টি। জেলায় কোরবানি পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে'

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৪৩ লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ। ফলে কোরবানির পশু সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

জমে উঠতে শুরু করেছে রাজশাহীর পশুর হাট/ছবি-জাগো নিউজ

একসময় সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর আধিপত্য ছিল। তবে সীমান্তে কঠোর নজরদারির কারণে গত কয়েক বছরে সেই প্রবণতা বন্ধ হয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে গবাদিপশু পালনে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় প্রতি উপজেলাতেই গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক খামার। এতে একদিকে স্বনির্ভরতা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানও হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগজুড়ে তিন শতাধিক কোরবানির হাট বসানোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। কিছু এলাকায় বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে ঈদের কয়েক দিন আগে এসব হাটে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ভিড়ে জমজমাট বেচাকেনা শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

কোরবানির পশুর হাটে দেশি গরুর আধিপত্য/ছবি-জাগো নিউজ

গোদাগাড়ী উপজেলার খামারি আব্দুল মালেক জানান, তিনি আগেভাগেই দেশীয় পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন শুরু করেন। যদিও উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তবুও ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে 'লাল মিয়া'কক্সবাজারে কুমির ঘিরে সম্ভাবনা, রপ্তানির জন্য অপেক্ষাপশু বেচাকেনায় শত বছরের পুরোনো প্রথা বদলে দিচ্ছে 'লাইভ ওয়েট'নেই সেই ধানের গোলা

তানোর উপজেলার সুজন আলী বলেন, ‌'ছয় মাস আগে পরিকল্পনা করে গরু পালন শুরু করি। প্রথমে খাদ্যের দাম নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। বর্তমানে পশুগুলো ভালোভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাবো বলে আশা করছি।'

প্রায় এক বছর ধরে পরিকল্পনা করে গরু ও ছাগল পালন করছেন পবা উপজেলার খামারি রফিকুল ইসলাম। নিজস্ব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করেছেন। তবে এবছর গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেশি পড়েছে। তারপরও তিনি আশা করছেন, কোরবানির বাজারে পশুর ভালো চাহিদা থাকবে। ফলে দামও পাওয়া যাবে ভালো।

'আগের বছরের মতো এবারও দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে। অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা গেলে খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। খামারিরা লাভবান হলে তারা গরু পালনে আরও ব্যাপক উৎসাহী হবেন'

বাগমারা উপজেলার খামারি আকলিমা আক্তার জানান, ছোট আকারের পশুর চাহিদা বেশি থাকায় তিনি গরুর পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়া পালন করেছেন। ঈদে এসব পশু বাজারে তুলবেন।

এবার রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট চার লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু/ছবি-জাগো নিউজ

দেশীয় গরু উৎপাদনে ভারতীয় আধিপত্য অনেকটাই কমে আসবে মনে করেন নগরীর মোহনপুর এলাকার গরু খামারি রুবেল হোসেন।

আরও পড়ুন:সজিনা ফুল থেকে মধু উৎপাদনে ৪ তরুণের সফলতাহাঁস-মুরগির খামারে অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ প্রয়োগ, স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কাপোকা চাষে ভাগ্যবদল শিমুলের, মাসে আয় ২ লাখ

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌'দেশের মধ্যেই গরু পালন হলে একদিকে যেমন দেশ স্বাবলম্বী হবে, অন্যদিকে ভারতীয় আধিপত্য অনেকটাই কমে যাবে। কেননা প্রতিবছর কোরবানির ঈদ এলেই আমরা ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকি। সরকার যদি গরু খামারিদের দিকে একটু বিশেষ নজর দেয়, তাহলে দেশেই ব্যাপক গরু উৎপাদন সম্ভব।'

রাজশাহী বিভাগজুড়ে তিন শতাধিক কোরবানির হাট বসানোর প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে/ছবি-জাগো নিউজ

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে জানান রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ পরিচালক ড. আনন্দ কুমার অধিকারী।

তিনি বলেন, 'হাটগুলোতে ভেটেরিনারি সেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহের জন্য খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।'

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, 'আগের বছরের মতো এবারও দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে। অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা গেলে খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। খামারিরা লাভবান হলে তারা গরু পালনে আরও ব্যাপক উৎসাহী হবেন।'

মনির হোসেন মাহিন/এসআর/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সরকারি সহযোগিতায় শৌখিন পায়রা রপ্তানি সম্ভব

দেশে বাড়ছে শৌখিন পায়রা পালনের বাণিজ্যিক উদ্যোগ। নরসিংদীতে এমনই এক সফল খামার গড়ে তুলেছেন এক উদ্যোক্তা। সেখানে রয়েছে নানা জাতের বিদেশী পায়রা। উদ্যোক্তা বলছেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব শৌখিন পায়রা রপ্তানি করা সম্ভব।

শাইখ সিরাজ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
লাইভস্টক

ডিমের ভেতরেই লিঙ্গ নির্ণয়: পাঁচ বছরে ইউরোপের ৪০ শতাংশ বাজারে, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিধায়

ডিম ফোটার আগেই বাচ্চার লিঙ্গ নির্ণয়ের প্রযুক্তি পাঁচ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের লেয়ার বাজারের শূন্য থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে, পুরুষ বাচ্চা মারার ওপর নিষেধাজ্ঞার জোরে; যুক্তরাষ্ট্রে কেবল প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলো এটি নিয়েছে, খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি দাম দিতে নারাজ।

এজিফান্ডনিউজ ২৪৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

NoFence আনল তৃতীয় প্রজন্মের গবাদিপশুর কলার N3 ও পশুপাল ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম

নরওয়ের ভার্চুয়াল ফেন্সিং কোম্পানি NoFence তাদের তৃতীয় প্রজন্মের গবাদিপশুর কলার N3 বাজারে এনেছে—স্যাটেলাইট ব্যাকআপ আর এমন সফটওয়্যার নিয়ে, যা চারণের হিসাব নিজে লেখে, সময়সূচি ধরে পাল সরায় এবং গরমে আসা গাভি চিহ্নিত করে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()