বুবাই সিড কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম কেনিয়ায় চুক্তিবদ্ধ ৩০০-র বেশি শিম চাষি রাতারাতি তাঁদের প্রধান ক্রেতা হারিয়েছেন। ট্রান্স নজোইয়ার এক তরুণ চাষি, যিনি তাঁর সবচেয়ে ভালো মৌসুমগুলো সাজিয়েছিলেন বুবাইয়ের চুক্তি ঘিরে, এখন সেই বাজার ছাড়া। কিতালের এক পাইকার, যিনি বছরে সনদায়নে বাদ পড়া ২৫০ টন শস্য কিনতেন, এখন উগান্ডা পর্যন্ত গিয়ে উৎস খুঁজছেন। আর সেই শূন্যতা পূরণের সক্ষমতা থাকা সরকারি বীজ উৎপাদক বসে আছে অবিক্রীত মজুত নিয়ে, যার অঙ্কুরোদগমের হার নীরবে নেমে যাচ্ছে।
কোনোটিই খবরের শিরোনাম হয়নি, কিন্তু এই বন্ধ হয়ে যাওয়া সামনে এনেছে এমন কিছু, যা কৃষি উদ্ভাবনকে কেবল অবমুক্ত হওয়া জাতের সংখ্যায় মাপলে চোখ এড়িয়ে যায়: একটি জাত তখনই কাজে আসে, যখন তার চারপাশের ব্যবস্থাটি একে গবেষণাগার থেকে কৃষকের জমিতে পৌঁছে দিতে পারে।
অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ও সিআইএটি-র শিম প্রজননবিদ ক্লেয়ার মুকানকুসি কালরো কাকামেগার শিম প্রজনন দলের সঙ্গে বুঙ্গোমা ও ট্রান্স নজোইয়া কাউন্টি ঘুরে দেখেছেন কৃষক দল ও পাইকার থেকে সরকারি বীজ উৎপাদক ও প্রজনন কর্মসূচি পর্যন্ত গোটা শৃঙ্খলটি।
বুবাই গড়ে তুলেছিল অঞ্চলের সবচেয়ে বিস্তৃত শিম বীজ নেটওয়ার্কগুলোর একটি — ৩০০-র বেশি চুক্তিবদ্ধ চাষি, সঙ্গে প্রশিক্ষণ, মাঠ তদারকি এবং সবচেয়ে বড় কথা, নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তাসহ একটি বাঁধা বাজার। কোম্পানি বন্ধ হওয়ায় সেই কাঠামোটিই সরে গেছে, যার চারপাশে চাষিরা উৎপাদন সাজিয়েছিলেন। ট্রান্স নজোইয়ার এক তরুণ চাষি সেই স্থিতি কাজে লাগিয়ে কফিতে সম্প্রসারণ করেছিলেন; এখন তিনি ভাবছেন, শিম আদৌ তাঁর পরিকল্পনায় থাকবে কি না।
কিতালের সরকারি বীজ উৎপাদক অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনে সমস্যাটা অন্য চেহারার। শিম বীজ উৎপাদনের কারিগরি সক্ষমতা আছে, নির্ভরযোগ্য বাজার নেই। মালকিয়া নামে পরিচিত কেকে রেড বিন ১৬ ২০২২ সালে অবমুক্তির পর পুরোটাই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে উৎপাদিত ৩০ টনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এত দিন অবিক্রীত পড়ে ছিল যে অঙ্কুরোদগমের হার নেমে এসেছে প্রায় ৫০ শতাংশে; এক বড় ক্রেতার অপরিশোধিত ১ কোটি কেনীয় শিলিংয়ের বিল প্রতিষ্ঠানটিকে পরের চক্রের মূলধন থেকেও বঞ্চিত করেছে।
অঞ্চলটিতে সংগঠনের অভাব নেই। বুঙ্গোমার বুমুলা ফার্মার্স হাব হাজার হাজার চাষিকে এক ছাতার নিচে এনেছে, আছে অর্থ, সংগ্রহ ও বিপণনের আলাদা কমিটি, আর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের কাছে সরবরাহের অভিজ্ঞতা। তবু তাদের শিম উৎপাদন বেশির ভাগই অনানুষ্ঠানিক — চাষিরা সনদপ্রাপ্ত বীজের বদলে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা শস্য বোনেন, ফলে ফলন কম আর রোগের ঝুঁকি বেশি।
বাজার সম্পর্কে সবচেয়ে কাজের তথ্য এসেছে কোনো জরিপ থেকে নয়, কিতালের পাইকার ন্যান্সির কাছ থেকে, যিনি বুবাইয়ের শেষ বছরগুলোতে প্রায় ২৫০ টন কেকে৮ শস্য কিনেছিলেন। তাঁর মতে, লাল ছিটছিটে শিমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তারপর লাল, তারপর হলুদ; আর পুরোনো মজুত শস্য কখনও বাড়তি দামও পায়, কারণ ক্রেতারা বলেন তা দ্রুত সেদ্ধ হয়। এ ধরনের খুঁটিনাটিই ঠিক করে দেয় একটি জাত চাষিরা নেবেন কি না, পাইকার কিনবেন কি না, আর বীজ উৎপাদক তা বহুগুণ করবেন কি না।
কালরো কাকামেগায় প্রজনন সারি ভরা: কার্কহাউস ট্রাস্ট প্রকল্পের আওতায় একাধিক রোগ প্রতিরোধের জন্য মূল্যায়নাধীন ৪৯টি উন্নত শিম লাইন, জাতীয় কর্মদক্ষতা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত দ্রুত সেদ্ধ হওয়া আয়রন ও জিংকসমৃদ্ধ চারটি লাইন, এবং আসন্ন স্বল্প বৃষ্টির মৌসুমের জন্য উৎপাদিত প্রায় দুই টন কেকে রোজকোকো ৩৩ বীজ। কালরোর গবেষণা বিজ্ঞানী শামির মিসাঙ্গোর কথায়, "কৃষির রূপান্তর ঘটে তখনই, যখন উদ্ভাবন কৃষকের কাছে পৌঁছায় আর মূল্য পৌঁছায় বাজারে।" সিজিআইএআর-এর স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট কর্মসূচির পরের পর্ব লক্ষ্য করছে কম দৃশ্যমান অর্ধেকটিকে — চলতি মূলধন, বিতরণ, সংগ্রহ ও চাহিদার পূর্বাভাস।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)