সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৪%বাতাস ১১ কিমি/ঘ

বাহারি ফুল সুবাস ছড়াচ্ছে চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে

আরিফুল ইসলাম তামিম

ফুল

আরিফুল ইসলাম তামিম

বিশাল আকৃতির ময়ূর, আর তার শরীর জুড়ে আছে রং-বেরঙের ফুল। একরাশ ফুলের সৌরভ নিয়ে ময়ূরটি তার সৌন্দর্যের সবটা জুড়ে দিয়ে ঠাই দাঁড়িয়ে আছে চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে। জীবন্ত কোনো ময়ূর নয়, তারপরও ময়ূরের আদলে নির্মিত এমন সৌন্দর্য দেখতে ভিড় করছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। কাছে গিয়ে কেউ কেউ নিজেকে ফ্রেমবন্দিও করে রাখছেন।

তার পাশেই প্রজাপতির ডানায় বসেছে বাহারী রঙিন ফুল। শুধু তাই নয়, যেদিকে চোখ পড়বে শুধুই ফুল। ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা চারপাশ। এমন নান্দনিক সব চিত্র ফুটে উঠেছে চট্টগ্রামের ডিসি পার্কের মাসব্যাপী ফুল উৎসবে। এছাড়া নানা আকর্ষণীয় আয়োজনে দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে এখন ডিসি পার্ক।

প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে এই ব্যতিক্রমী উৎসব। দেশি-বিদেশি ১৩৬ প্রজাতির বাহারি সব ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের ফুল উৎসব। পার্কে ঢুকতেই হাতের বাম পাশে দেখা মিলবে নান্দনিক ওয়াকওয়ে, যার দু-পাশেই বাহারি রঙিন ফুল, আছে নার্সারিও।

প্রবেশ গেট থেকে একটু সামনে হাতের ডানে নির্মিত ফটো বুথ যেন সবার পছন্দের। পার্কের মধ্যেই আছে বিশাল কৃত্রিম দীঘি। দীঘির পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে সাম্পান, প্যাডেলচালিত নৌকা। আছে কায়াকিং সুবিধাও। দীঘির একপাশে বসানো হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য নান্দনিক বসার স্থান।

আর এই পথেই সারি সারি খেজুর গাছ ও রস আহরণের দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। প্রবেশ পথের সড়কে ফুলের টব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তোরণ। যা এখানকার সৌন্দর্যকে আরও দ্বিগুণ করে তুলেছে। এছাড়া পার্কের একপাশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে মঞ্চ। যেখানে প্রতিদিনই অনুষ্ঠিত হচ্ছে নাচ-গানসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন যা আগত দর্শনার্থীদের আনন্দিত করছে।

পার্কের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে ফুড স্টল ছাড়াও আছে শিশুদের বিনোদনের জন্য কিডস জোনের পাশাপাশি আছে গ্রামীণ মেলা। যার ১০-১২ টি স্টলে পাওয়া যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পোশাক। এছাড়া দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ জোগাচ্ছে উত্তর পাশের ভাসমান ফুলের বাগান।

শুধু তাই নয়, এবারের ফুল উৎসবে নির্মাণ করা হয়েছে জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থান কর্ণার। যেখানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ'সহ অন্যান্য শহীদদের ছবি স্থান পেয়েছে৷দিন ও রাতে দুই রকম সৌন্দর্য দেখা মিলছে এই উৎসবে। সন্ধ্যা নামলেই পুরো পার্কজুড়ে আলোকসজ্জায় মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

এক সময় মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপের অন্যতম আখড়া ছিল স্থানটি। তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০২৩ সালে ১৯৪ একর সরকারি খাস জমি অবৈধ দখল মুক্ত করে দুবাইয়ের মিরাকেল গার্ডেনের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে ডিসি পার্ক।

যেখানে তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ফুল উৎসব। প্রাকৃতিক পরিবেশের ১৯৪ একর জায়গাজুড়ে এখন শুধুই ফুলের রাজত্ব। আর এই ডিসি পার্কের রং-বেরঙের ফুলের সাথে নিজেকে ফ্রেমবন্দি করতে ব্যস্ত এখানে আসা অধিকাংশ দর্শনার্থী।

৪ জানুয়ারি 'ফুলের মতন আপনি ফোটাও গান' স্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই উৎসব শেষ হবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে ডিসি পার্ক। শুধু ফুল নয়, মাসব্যাপী এই উৎসবে ফুল ছাড়া ও প্রতিদিন থাকছে নানা ব্যতিক্রমী অনুষঙ্গ।

মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল, ঘুড়ি উৎসব, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো সহ নানা ব্যতিক্রমী আয়োজনে ভরপুর এবারের ফুল উৎসব।

ভবিষ্যতে এই জায়গায় সাইক্লিং ট্র্যাক, ওয়াকওয়ে, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং, ফেরীস হুইল, সমুদ্র পর্যন্ত উডেন ওয়াকওয়ে, কনভেনশন সেন্টার, রেস্টুরেন্ট, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

প্রথমে যেতে হবে চট্টগ্রাম শহরের অলংকার মোড়ে। সেখান থেকে সীতাকুণ্ডগামী লোকাল বাস চেপে মাত্র ১০ টাকা ভাড়ায় বাংলাবাজার মুখে নামবেন। তারপর ২০-৩০ টাকা ভাড়ায় রিকশাযোগে কিংবা ৫-১০ মিনিট হেঁটেই যাওয়া যায় ডিসি পার্কে।

৫০ টাকা প্রবেশ মূল্য দিয়ে টিকেট নিয়ে প্রবেশ করতে হবে এই পার্কে। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও ডিসি পার্ক এর ওয়েবসাইট থেকে টিকেট নিয়ে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে দর্শনার্থীরা।

শিক্ষার্থী: চতুর্থ বর্ষ, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম।

জেএমএস/জিকেএস

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফুল

সম্পর্কিত খবর

ফুল

নজরকাড়া দুর্লভ ফুল গোলাপি সোনালু

দেখতে একদম সোনালু ফুলের মতো। মিলে যায় গঠন এবং বৈশিষ্ট্য। যদিও এখন পর্যন্ত এর তেমন কোনো নাম নির্ধারণ করা হয়নি। তবে প্রজাতিটিকে ‌'পিঙ্ক ক্যাসিয়া' বলে থাকেন কেউ কেউ। যাকে বাংলায় বলা হয় 'গোলাপি সোনালু'। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এ ফুলের গাছ। যেমন শোভা; তেমন সুঘ্রাণ। দুয়ে ম

জাগো নিউজ ২৪৮ মে ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

দেশের কোথায় কবে পাড়া হবে কোন জাতের আম?

জাতভিত্তিক আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করেছে সরকার। সে অনুযায়ী সাতক্ষীরায় গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে ৫ মে থেকে।

জাগো নিউজ ২৪৭ মে ২০২৬৫ মিনিটের পড়া
ফুল

প্রকৃতিতে বৈচিত্র্য আনে যেসব ফুল

প্রকৃতিতে চলছে উত্তপ্ত রোদের রাজত্ব। সেই রোদের তেজে পাতা হারানো বৃক্ষসমাজকে নিরাস করেননি স্রষ্টা। উপহার হিসেবে দিয়েছেন প্রকৃত সৌন্দর্য। রঙিন এসব ফুলের আগমনে স্বর্গীয় রূপ পায় বাংলাদেশের প্রকৃতি। যেন নতুন রূপে হাজির হয় আমাদের সামনে। রঙিন এ ফুল নতুনভাবে সাজে সবুজ জনপদে।

জাগো নিউজ ২৪২৮ এপ্রিল ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()