মার্কিন কৃষি বিভাগ ইউএসডিএ (USDA)-র অর্থায়নে নতুন একটি গবেষণা কেন্দ্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় (Cornell University), যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের আপেল ও চেরি বাগানে মৌসুমের প্রায় সব কাজে—ফুলে পরাগায়ন থেকে পাকা ফল তোলা পর্যন্ত—স্বয়ংক্রিয় রোবট আনা। কর্নেলের কলেজ অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি ঘোষণা করে; অর্থায়ন ইউএসডিএর স্পেশালটি ক্রপ রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের চার বছরের ৭৫ লাখ ডলারের অনুদান।
সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর অরচার্ড রোবটিকসের যৌথ নেতৃত্বে আছেন কর্নেলের জৈব ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মনোজ কারকি (Manoj Karkee) এবং ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষফল উদ্যানতত্ত্বের অধ্যাপক ম্যাথিউ হোয়াইটিং (Matthew Whiting)। সঙ্গে আছে আরও পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়—ওরেগন স্টেট, পেন স্টেট, মিশিগান স্টেট, কার্নেগি মেলন ও স্ট্যানফোর্ড—এবং ইসরায়েলের কৃষি রোবট নির্মাতা ফ্রেশ ফ্রুট রোবটিকস ও উৎপাদক অংশীদার ওয়াশিংটন ফ্রুট অ্যান্ড প্রডিউস কোম্পানি। কর্নেল কো-অপারেটিভ এক্সটেনশনের ফল বিশেষজ্ঞ মারিও মিরান্দা সাজো (Mario Miranda Sazo) সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৌশলের কাজকে চাষিদের সঙ্গে যুক্ত করবেন।
বাগানের রোবট নিয়ে এ পর্যন্ত বেশির ভাগ গবেষণা একটি কাজে—সাধারণত ফল তোলায়—সীমিত ছিল। এই প্রকল্প ইচ্ছাকৃতভাবে বিস্তৃত: দলটি এমন যন্ত্র চায়, যা পরাগায়ন, ফল পাতলা করা, শীতের ছাঁটাই, সারির মাঝের আগাছা দমন ও ফল তোলা—বাগানের বার্ষিক খরচের বেশির ভাগ যেসব শ্রমনিবিড় কাজে যায়—সবই সামলাতে পারে।
রোবটগুলো নির্ভর করে কম্পিউটার ভিশন ও নিউরাল নেটওয়ার্কের ওপর—বাগানের বিপুল ছবিতে প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা পাতা, ডাল ও বদলাতে থাকা আলোর জটিল পটভূমিতে ফল চিনতে পারে; কারকি বলেছেন, এসব হাতিয়ার কৃষিতে ছবি ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণে 'বিপ্লব' এনেছে। থেঁতলে না ফেলে ফল তোলা বা পাতলা করায় ভালো দৃষ্টির চেয়ে বেশি কিছু লাগে, তাই দলটি নরম রোবটিক এন্ড-ইফেক্টরও বানাচ্ছে—শিল্প-রোবটের শক্ত ধাতব থাবার বদলে সাবধানী মানুষের হাতের মতো কোমল ফল ধরার নমনীয় গ্রাহক। প্রকল্পের আরেক অংশ ডিজিটাল টুইন—বাস্তব বাগানের ত্রিমাত্রিক কম্পিউটার মডেল, যাতে মাঠে নামানোর আগে রোবট ও তার এআই ভার্চুয়ালি প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা করা যায় এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দল একই বাস্তবসম্মত সিমুলেশনে কাজ করতে পারে।
কয়েকটি উপাদানের প্রোটোটাইপ ২০২৫ সালের শরতে বাগানে পরীক্ষা করা হয়েছে; নতুন অর্থায়নের লক্ষ্য সেগুলোকে একবারের গবেষণা-প্রদর্শনী নয়, চাষিরা কিনে প্রতিদিন চালাতে পারেন এমন যন্ত্রের দিকে এগিয়ে নেওয়া। তাৎক্ষণিক চালিকাশক্তি শ্রমের ক্রমবর্ধমান খরচ: কর্নেলের ঘোষণা অনুযায়ী, উৎপাদক অংশীদার ওয়াশিংটন ফ্রুট অ্যান্ড প্রডিউস কোম্পানিতে গত ১৫ বছরে মোট উৎপাদন খরচে শ্রমের অংশ প্রায় ৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশের বেশি হয়েছে; কোম্পানির প্রতিনিধি গিলবার্ট প্লাথ (Gilbert Plath) বলেছেন, বাড়তে থাকা খরচ শ্রমিকের মজুরির চেয়ে বেশি চাপে ফেলছে চাষিদের। মার্কিন অর্থনীতিতে আপেলের অবদান বছরে আনুমানিক ২,১০০ কোটি ডলার; কর্নেলের নিজ রাজ্য নিউইয়র্ক আপেল উৎপাদনে দেশে দ্বিতীয় এবং জাতবৈচিত্র্যে প্রথম।
ফ্রেশ ফ্রুট রোবটিকসের প্রধান নির্বাহী আভি কাহানি (Avi Kahani) বলেছেন, কৃষি প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বাধা নতুন সক্ষমতা উদ্ভাবন নয়, সেই উদ্ভাবনকে মৌসুমের পর মৌসুম চাষিরা ভরসা করতে পারেন এমন নির্ভরযোগ্য শিল্পপণ্যে রূপ দেওয়া; শুরু থেকেই প্রকৌশল স্কুলের সঙ্গে বাণিজ্যিক রোবট কোম্পানি ও একটি চালু বাগান জুড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য সেই ব্যবধান দ্রুত ঘোচানো। অনুদান চার বছরের, তাই কেন্দ্রের প্রথম পূর্ণ মাঠ-মৌসুমগুলো এখনো সামনে।
ছবি: Scott Bauer, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)