ঈদুল আজহার দিন যত ঘনিয়ে আসছে রাজধানীর কোরবানির পশুহাটগুলোতে ক্রেতাদের চাপ ততই বাড়ছে। ঈদের দুদিন আগে জমজমাট হয়ে উঠেছে রাজধানীর আফতাবনগর হাটে পশু কেনাবেচা।
শুক্রবার (৮ জুলাই) থেকে হাটে কেনাবেচা আরও বাড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বিকেলে আফতাবনগর পশুহাট ঘুরে দেখা যায়, দেশের নানান প্রান্ত থেকে অন্তত ১০ হাজার গরু-ছাগল নিয়ে হাটে এসেছেন ব্যাপারীরা। বাঁশের খুঁটি পুঁতে সামিয়ানা টানিয়ে প্রায় প্রতিটি সড়কে অবস্থান নিয়েছেন তারা। আজও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু নিয়ে ব্যাপারীদের এ হাটে ঢুকতে দেখা গেছে।
পছন্দের পশু কিনতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো রাজধানীবাসী এ হাটে ভিড় করছেন। অনেকে দরদাম করে পশু কেনার পর ট্রাক-পিকআপে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে ঘুরে ঘুরে দেখছেন, দরদাম করছেন।
আফতাবনগর পশুর হাট ইজারা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঢাকার অন্যতম বড় পশুর হাট এটি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা এ হাটে কোরবানির পশু নিয়ে আসেন। এখানে ক্রেতাদের চাপ খুব বেশি থাকে। নিরবচ্ছিন্নভাবে হাট পরিচালনা করতে সার্বক্ষণিক তদারকি চালাচ্ছে ডিএসসিসি।
আফতাবনগর হাটে দুদিন আগে পাবনা থেকে ছোট-মাঝারি মিলিয়ে ১৪টি গরু নিয়ে এসেছেন আলাউদ্দিন মিয়া। এর মধ্যে, সবচেয়ে বড় লাল রঙের গরুটির দাম হাকিয়েছেন আড়াই লাখ টাকা। আর সবচেয়ে ছোট গরুটির দাম চেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
আলাপকালে আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, পাবনার বিভিন্ন কৃষকদের কাছ থেকে গরুগুলো কিনেছি। এখন সামান্য কিছু লাভ হলেই সব গরু বিক্রি করে দেব। এরই মধ্যে তিনটি গরু বিক্রি হয়েছে।
কুষ্টিয়া থেকে চারটি বড় গরু নিয়ে আফতাবনগর চার নম্বর সড়কে অবস্থান নিয়েছেন আমিন হোসেন। একেকটি গরু ১২-১৪ মন পর্যন্ত ওজন হবে বলে জানান তিনি। গরুগুলো কিনতে ক্রেতারা দরদাম করছেন, কিন্তু দাম না পাওয়ায় বিক্রি করছেন না আমিন।
তিনি বলেন, ১২ মন ওজনের গরুটির দাম ছয় লাখ টাকা চেয়েছি। কয়েকজন ক্রেতা সাড়ে চার লাখ পর্যন্ত দাম বলেছেন। এ দামে বিক্রি করলে লোকশান হবে। কারণ, এখন গরু লালন-পালনে অনেক বেশি ব্যয় হয়। শুক্রবার (৮ জুলাই) কোরবানীর পশু কেনাবেচা বেশি হবে আশা করছি।
হাসিল আদায় ঘরের সামনে পশু ক্রেতা-বিক্রেতারা
রাজধানীর খিলগাঁও থেকে দুই স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে আফতাবনগর হাটে পশু কিনতে এসেছেন জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এক ঘণ্টা ঘুরেও কোথাও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পশু খুঁজে পাইনি। ৮০ হাজার টাকার মধ্যে একটি গরু কিনব বলে ভেবেছি, কিন্তু হাট ঘুরে এ দামে পছন্দসই গরু খুঁজে পাচ্ছি না। দু-চারটি পছন্দ হলেও দাম এক লাখের বেশি চাচ্ছেন মালিকরা।
আফতাবনগরের জে ব্লকের মাথায় পশুর হাসিল আদায়ের তিন নম্বর ঘর। বিকেল ৪টায় দেখা যায়, এ ঘরের সামনে গরু নিয়ে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এক এক করে হাসিল দিয়ে তারা গরু নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি গরু বা পশু থেকে পাঁচ শতাংশ হারে হাসিল আদায় করছেন ইজারাদারের লোকজন।
জানতে চাইলে ইজারাদার মিজানুর রহমান ধনু বলেন, ঈদের আর দুদিন বাকি। শেষ মুহূর্তে আফতাবনগর হাটে পশু কেনাবেচা জমে উঠেছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এ হাটে আসছেন। শৃঙ্খলার সঙ্গে বেচাকেনা ও হাসিল আদায়ের কাজ চলছে। হাটে ১০টি হাসিল ঘর তৈরি করা হয়েছে।
আজ হাটে কী পরিমাণ পশু বিক্রি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাত ১২টার পর দিনের হিসাব করা হয়। তবে তিন নম্বর ঘরের হিসাব অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১০০টির বেশি গরু বিক্রি হয়েছে। এ হিসাবে আজ এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি গরু বিক্রি হয়েছে।
এমএমএ/এসএএইচ/জেআইএম





মন্তব্য
(০)