অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে চলতি আমন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। বীজতলা থেকে চারা তুলে সারিবদ্ধ রোপণে এখন মাঠে মাঠে কর্মযজ্ঞ। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, বিভাগের ৮ জেলায় এবার ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টরে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা এবং উৎপাদন লক্ষ্য ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টন ধান।
অন্য বছর সময়মতো বৃষ্টি না হলে চারা রোপণ নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়; এবার বৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তিতে কৃষক। বেশির ভাগ জমিতে রোপণ শেষ, বাকিটা আগামী ১০–১৫ দিনে শেষ হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। মাঠে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারে জমি তৈরি, আইল মেরামত, মই দেওয়া আর সার ছিটানোর কাজে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী।
রংপুর সদরের কৃষক আব্দুল বারী ৫ বিঘায় আমন করেছেন; পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় সেচ খরচ লাগেনি, ব্যয়ও আগের চেয়ে কম—সব ঠিক থাকলে ভালো ফলনের আশা তাঁর। মিঠাপুকুরের রানীপুকুরের নাসির উদ্দিন গত বোরোতে ন্যায্য দাম পেয়ে এবার ৫ বিঘায় আমন লাগাচ্ছেন।
তবে তিস্তা এলাকার বর্গাচাষি নজরুল ইসলাম ২ বিঘায় আমন লাগিয়েও উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম পাওয়ার আশঙ্কায় আছেন; তাঁর কথায়, হাড়ভাঙা খাটুনি আর খরচ মিলিয়ে ধানে লাভ থাকে না, বরং লোকসানই বেশি—তবু অন্য কাজ না থাকায় প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষিতেই জীবিকা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, উত্তরের কৃষকদের রোপা আমনে আগ্রহ আছে; আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হবে বলে আশা, আর প্রান্তিক কৃষকদের পরামর্শসহ যেকোনো সেবায় কৃষি কর্মকর্তারা নিয়োজিত।
বাসসের রংপুর প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)